1:19 pm, Tuesday, 11 August 2026

বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কি রুহুল কবির রিজভী?

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:03:53 pm, Monday, 10 August 2026
  • 17

বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কি রুহুল কবির রিজভী?

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে দলীয় পর্যায়ে প্রায় সকলেই নিশ্চিত।

এই পর্যায়ে দলটির ভেতরে-বাইরে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন? এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, দলের পরবর্তী মহাসচিব রিজভী আহমেদ হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব হিসাবে দলের অনেক সাংগঠনিক কাজে দীর্ঘ সময় যুক্ত আছেন রিজভী।

বিএনপির সর্বস্তরের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগও রয়েছে রিজভী আহমেদের। ছাত্রনেতা থেকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় রুহুল কবির রিজভী দলের জন্য ‘ফুলটাইম’ নিবেদিত বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আছে। এছাড়া পদাধিকারবলেও তিনিই এই পদের দাবিদার। তবে আলোচনায় রয়েছে আরও অনেক নেতার নাম, যারা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে সরকারে এখন অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সে তুলনায় রিজভীর ব্যস্ততা কিছুটা ভিন্ন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দলীয় কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সাংগঠনিক যোগাযোগে তার অবদান রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি হিসাবে রিজভীর নামই সামনে আসছে। যদিও বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ অবস্থায় রিজভীকে দায়িত্ব দেওয়া হলে দলের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ হিসাবে তিনি সংগঠনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবেন বলে মনে করছেন অনেকে।

এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের দুঃসময় থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রতিটি রাজনৈতিক সংকটে রিজভী আহমেদ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে বিএনপিতে আলোচনা আছে। এছাড়া বেশ কয়েকবার গ্রেফতার, পুলিশের শারীরিক নির্যাতন ও দীর্ঘ জেল-জুলুম সহ্য করলেও তিনি দলের প্রতি অনুগত থেকেছেন। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ৯ বার কারাবরণ করেন তিনি।

তার বিরুদ্ধে আড়াইশর অধিক মামলা হয়েছিল। নানা সংকট মোকাবিলা করলেও রিজভী আহমেদ আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দুঃসময়ে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখার ক্ষেত্রে রিজভী ভাইয়ের জুড়ি নেই। কেন্দ্রের সঙ্গে তৃণমূলের সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে তিনি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তার সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তাকে মহাসচিব পদে অন্যতম করে তুলেছে। বিএনপির এক জেষ্ঠ নেতা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, রুহুল কবির রিজভীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার গ্রহণযোগ্যতা। কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি দায়িত্ব পেলে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

হরমুজ প্রণালি শতভাগ নিয়ন্ত্রণের দাবি ট্রাম্পের, কমেছে জাহাজ চলাচল

বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কি রুহুল কবির রিজভী?

Update Time : 05:03:53 pm, Monday, 10 August 2026

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে দলীয় পর্যায়ে প্রায় সকলেই নিশ্চিত।

এই পর্যায়ে দলটির ভেতরে-বাইরে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন? এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, দলের পরবর্তী মহাসচিব রিজভী আহমেদ হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব হিসাবে দলের অনেক সাংগঠনিক কাজে দীর্ঘ সময় যুক্ত আছেন রিজভী।

বিএনপির সর্বস্তরের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগও রয়েছে রিজভী আহমেদের। ছাত্রনেতা থেকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় রুহুল কবির রিজভী দলের জন্য ‘ফুলটাইম’ নিবেদিত বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আছে। এছাড়া পদাধিকারবলেও তিনিই এই পদের দাবিদার। তবে আলোচনায় রয়েছে আরও অনেক নেতার নাম, যারা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে সরকারে এখন অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সে তুলনায় রিজভীর ব্যস্ততা কিছুটা ভিন্ন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দলীয় কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সাংগঠনিক যোগাযোগে তার অবদান রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি হিসাবে রিজভীর নামই সামনে আসছে। যদিও বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ অবস্থায় রিজভীকে দায়িত্ব দেওয়া হলে দলের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ হিসাবে তিনি সংগঠনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবেন বলে মনে করছেন অনেকে।

এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের দুঃসময় থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রতিটি রাজনৈতিক সংকটে রিজভী আহমেদ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে বিএনপিতে আলোচনা আছে। এছাড়া বেশ কয়েকবার গ্রেফতার, পুলিশের শারীরিক নির্যাতন ও দীর্ঘ জেল-জুলুম সহ্য করলেও তিনি দলের প্রতি অনুগত থেকেছেন। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ৯ বার কারাবরণ করেন তিনি।

তার বিরুদ্ধে আড়াইশর অধিক মামলা হয়েছিল। নানা সংকট মোকাবিলা করলেও রিজভী আহমেদ আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দুঃসময়ে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখার ক্ষেত্রে রিজভী ভাইয়ের জুড়ি নেই। কেন্দ্রের সঙ্গে তৃণমূলের সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে তিনি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তার সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তাকে মহাসচিব পদে অন্যতম করে তুলেছে। বিএনপির এক জেষ্ঠ নেতা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, রুহুল কবির রিজভীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার গ্রহণযোগ্যতা। কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি দায়িত্ব পেলে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর।