ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণির জেরা নির্ধারিত দিনে অনুষ্ঠিত হয়নি। নির্ধারিত সময়ের পর আদালতে পৌঁছানোর কারণে তার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা পিছিয়ে আগামী ৩০ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকার নবম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহাদাৎ হোসেন এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন সকাল ১১টার দিকে পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী আদালতকে জানান, তার মক্কেল আদালতে উপস্থিত হবেন। সে অনুযায়ী দুপুর ১২টায় জেরার সময় নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে আদালত থেকে দুই দফা পরীমণিকে ডাকা হলেও তিনি তখনও আদালতে পৌঁছাতে পারেননি।
এ সময় মামলার অন্যান্য কার্যক্রম শেষ হয়ে যায় এবং উপস্থিত আসামিরাও আদালত ত্যাগ করেন। পরে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী সাংবাদিকদের জানান, যানজটের কারণে পরীমণি নির্ধারিত সময়ে আদালতে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে সেদিন আর জেরা সম্ভব হয়নি। আদালত পরবর্তী জেরার তারিখ ৩০ নভেম্বর নির্ধারণ করেছেন। এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছে পরীমণি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
জানা গেছে, তিনি নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর আদালতে পৌঁছান। মামলার তিন আসামি হলেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন, তুহিন সিদ্দিকী অমি এবং শহীদুল আলম। তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। এদিন শহীদুল আলম আদালতে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। অপর দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। যেভাবে শুরু হয় মামলা ২০২১ সালের ৮ জুন ঢাকার সাভারের বিরুলিয়ায় তুরাগ নদীর তীরে অবস্থিত বোট ক্লাবে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলেন পরীমণি।
বিষয়টি সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে ১৩ জুন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে করা ওই পোস্ট দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পর গুলশানে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে একই অভিযোগ পুনরায় তুলে ধরেন পরীমণি।
পরদিন সাভার মডেল থানায় ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলার পর রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন ও তুহিন সিদ্দিকী অমিকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
পরে ২০২২ সালের ১৮ মে আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বর্তমানে মামলাটির বিচার রুদ্ধদ্বার কক্ষে চলছে। ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর পরীমণি সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করলেও তার সাক্ষ্যগ্রহণ এখনো শেষ হয়নি। এবার জেরা হওয়ার কথা থাকলেও সময়মতো আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় তা পিছিয়ে আগামী ৩০ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

















