আজ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩০°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

মেয়ের প্রেমে বাধা দেওয়ায় স্বামীকে খুন, মরদেহ পুড়িয়ে গুমের অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:26:52 pm, Sunday, 9 August 2026
  • 51

মেয়ের প্রেমে বাধা দেওয়ায় স্বামীকে খুন, মরদেহ পুড়িয়ে গুমের অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ভারতের উত্তর প্রদেশের মথুরা জেলায় মেয়ের প্রেমের সম্পর্কে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে গুম করার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ওই নারীর মেয়ে ও মেয়ের কথিত প্রেমিককেও।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে পুলিশের বরাতে বলা হয়েছে, মনোজ সোনি নামের এক ব্যক্তিকে চেতনানাশক খাইয়ে পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে মরদেহ যমুনা নদীর তীরবর্তী একটি জঙ্গলে নিয়ে পুড়িয়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়। শনিবার (৮ আগস্ট) পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারে গত তিন দিন ধরে অভিযান চালানো হলেও এখনো তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাস্থল হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। মথুরার সিনিয়র সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ শ্লোক কুমার জানান, মরদেহ অনুসন্ধানের পাশাপাশি গ্রেপ্তার তিন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহতের বড় ভাই রামবাবুর করা অভিযোগের ভিত্তিতেই বিষয়টি তদন্তে আসে। পুলিশের ভাষ্য, মনোজ সোনির স্ত্রী নয়না, তাদের ছোট মেয়ে ভক্তি এবং ভক্তির কথিত প্রেমিক বিমল চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পারিবারিক বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে। মনোজ ওই সম্পর্কের বিরোধিতা করতেন এবং এ নিয়ে পরিবারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। তদন্তে জানা যায়, গত ১৮ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন মনোজ সোনি। তার স্ত্রী ২১ এপ্রিল একটি নিখোঁজ ডায়েরি করলেও পরদিন সেটি প্রত্যাহার করে নেন। পরে দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না মেলায় নিহতের ভাই রামবাবু নতুন করে অভিযোগ করেন এবং বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ব্যবস্থাপনাতেও উত্থাপন করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাই মাসে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, হত্যার পর অভিযুক্তরা মরদেহ আক্রুর গ্রামের কাছে একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে মরদেহ পুড়িয়ে অবশিষ্টাংশ মাটিচাপা দেওয়া হয়। রামবাবুর দাবি, স্বামীর নিখোঁজ হওয়া নিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রশ্নের মুখে একপর্যায়ে নয়না তার বাবার কাছে ঘটনার কথা স্বীকার করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, নয়না প্রথমে স্বামীকে চেতনানাশক মেশানো দুধ পান করান। পরে মেয়ে ও তার কথিত প্রেমিকের সহায়তায় পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ জঙ্গলে নিয়ে পুড়িয়ে গুম করা হয়। তবে মরদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করছে না। বর্তমানে পরিবারের বাড়ি থেকে যমুনা নদী পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকায় অনুসন্ধান চলছে।

ভারী বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ কিছুটা ব্যাহত হলেও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

মেয়ের প্রেমে বাধা দেওয়ায় স্বামীকে খুন, মরদেহ পুড়িয়ে গুমের অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে

Update Time : 04:26:52 pm, Sunday, 9 August 2026

ভারতের উত্তর প্রদেশের মথুরা জেলায় মেয়ের প্রেমের সম্পর্কে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে গুম করার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ওই নারীর মেয়ে ও মেয়ের কথিত প্রেমিককেও।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে পুলিশের বরাতে বলা হয়েছে, মনোজ সোনি নামের এক ব্যক্তিকে চেতনানাশক খাইয়ে পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে মরদেহ যমুনা নদীর তীরবর্তী একটি জঙ্গলে নিয়ে পুড়িয়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়। শনিবার (৮ আগস্ট) পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারে গত তিন দিন ধরে অভিযান চালানো হলেও এখনো তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাস্থল হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। মথুরার সিনিয়র সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ শ্লোক কুমার জানান, মরদেহ অনুসন্ধানের পাশাপাশি গ্রেপ্তার তিন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহতের বড় ভাই রামবাবুর করা অভিযোগের ভিত্তিতেই বিষয়টি তদন্তে আসে। পুলিশের ভাষ্য, মনোজ সোনির স্ত্রী নয়না, তাদের ছোট মেয়ে ভক্তি এবং ভক্তির কথিত প্রেমিক বিমল চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পারিবারিক বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে। মনোজ ওই সম্পর্কের বিরোধিতা করতেন এবং এ নিয়ে পরিবারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। তদন্তে জানা যায়, গত ১৮ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন মনোজ সোনি। তার স্ত্রী ২১ এপ্রিল একটি নিখোঁজ ডায়েরি করলেও পরদিন সেটি প্রত্যাহার করে নেন। পরে দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না মেলায় নিহতের ভাই রামবাবু নতুন করে অভিযোগ করেন এবং বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ব্যবস্থাপনাতেও উত্থাপন করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাই মাসে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, হত্যার পর অভিযুক্তরা মরদেহ আক্রুর গ্রামের কাছে একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে মরদেহ পুড়িয়ে অবশিষ্টাংশ মাটিচাপা দেওয়া হয়। রামবাবুর দাবি, স্বামীর নিখোঁজ হওয়া নিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রশ্নের মুখে একপর্যায়ে নয়না তার বাবার কাছে ঘটনার কথা স্বীকার করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, নয়না প্রথমে স্বামীকে চেতনানাশক মেশানো দুধ পান করান। পরে মেয়ে ও তার কথিত প্রেমিকের সহায়তায় পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ জঙ্গলে নিয়ে পুড়িয়ে গুম করা হয়। তবে মরদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করছে না। বর্তমানে পরিবারের বাড়ি থেকে যমুনা নদী পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকায় অনুসন্ধান চলছে।

ভারী বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ কিছুটা ব্যাহত হলেও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।