আফগানিস্তানের অভ্যন্তর থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলায় আবারও সক্রিয় হচ্ছে পাকিস্তান ও চীন। উভয় দেশ মনে করছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পরিচালিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এ প্রেক্ষাপটে চীনের বিশেষ প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত ইউ এক্স আইএ ও ইয়ং সম্প্রতি ইসলামাবাদ সফর করেছেন। এর আগে তিনি একাধিকবার পাকিস্তান সফর করেছেন, সর্বশেষ চলতি বছরের মার্চে।
এছাড়া পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে তিনি কাবুলও সফর করেন। সোমবার তার সর্বশেষ সফরে তিনি আফগানিস্তানের জন্য পাকিস্তানের বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাদিক এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাদিক জানান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
বিশেষ করে আফগান ভূখণ্ড থেকে সক্রিয় Tehrik-i-Taliban Pakistan (টিটিপি) এবং East Turkestan Islamic Movement (ইটিআইএম)-এর হুমকি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। দুই দেশ সন্ত্রাসবাদ দমনে সমন্বয় জোরদার এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। এ বৈঠক এমন সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন পাকিস্তান টিটিপির হামলায় চাপে রয়েছে এবং ইসলামাবাদ আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে টিটিপির ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করছে।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বেইজিংয়ে বৈঠক করেন। সেখানে চীন পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে। এক যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তান ও চীন আফগানিস্তানে অবস্থানরত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূল করতে এবং আফগান ভূখণ্ড যেন অন্য দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে ‘দৃশ্যমান ও যাচাইযোগ্য’ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
তারা বলেছে, আফগানিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। আফগানিস্তান থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় চীন তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এর অংশ হিসেবে উরুমকিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের কর্মকর্তাদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
তবে আফগান সরকার এখনো টিটিপিকে কার্যকরভাবে দমন করতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। চীনের মতে, আফগানিস্তানের ভেতর থেকে সবচেয়ে বড় হুমকি হলো ইটিআইএম। এই হুমকি মোকাবেলা করা গেলে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং China-Pakistan Economic Corridor (সিপিইসি)-সহ আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে। সূত্র: পাকিস্তান নিউজ।



















