8:34 pm, Sunday, 2 August 2026

সরকারের মন্ত্রিসভায় পাহাড়ের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই : নাহিদ ইসলাম

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:23:40 pm, Sunday, 2 August 2026
  • 7
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় পার্বত্য অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকায় সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাহাড়ের কোনো প্রতিনিধিকে রাখেনি, যা দেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। রোববার (২ আগস্ট) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তিন পার্বত্য জেলার উদ্যোগে আয়োজিত ‘পাহাড়ে জুলাই: সমমর্যাদা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি সরকার টু-থার্ড মেজোরিটি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো প্রতিনিধি নেই। দ্বীপেন দেওয়ানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা করতে পারছে কারণ সরকার কোনো জবাবদিহির আওতায় নেই। ফলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে পাহাড় থেকে আরও জোরালো আওয়াজ আসা উচিত। পাহাড়ের চলমান সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবাইকে সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না। একই সঙ্গে পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও বৈষম্যের অবসানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা অত্যন্ত জটিল এবং এর কোনো একমুখী সমাধান নেই। তিনি উল্লেখ করেন, পাহাড়ের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী যেমন বঞ্চনার শিকার, তেমনি সেখানে বসবাসকারী বাঙালিদের মধ্যেও নানা ধরনের অসন্তোষ ও বঞ্চনা রয়েছে। এসব বিভাজনের সুযোগ বিদেশি শক্তি নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা সবাই বাংলাদেশি। দেশের উন্নয়ন ও সুষম বণ্টনের মাধ্যমে সবাই উপকৃত হবে। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও নিপীড়নের রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করতে হবে। পাহাড়ে কেবল সামরিক পদ্ধতিতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে এবং যারা বিভেদ ও সংঘাত জিইয়ে রেখে সুবিধা নিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করে রেখেছে। সাম্প্রদায়িকতা, ধর্ম ও সামাজিক বিভাজন দূর করে জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, এনসিপি দেশের সব এলাকায় অংশ নেবে এবং পার্বত্য অঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। তার আশা, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে পাহাড়ে নতুন প্রজন্মের তরুণ জনপ্রতিনিধির উত্থান ঘটবে। আলোচনা সভায় এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দিনসহ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাত

সরকারের মন্ত্রিসভায় পাহাড়ের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই : নাহিদ ইসলাম

Update Time : 07:23:40 pm, Sunday, 2 August 2026

বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় পার্বত্য অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকায় সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাহাড়ের কোনো প্রতিনিধিকে রাখেনি, যা দেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। রোববার (২ আগস্ট) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তিন পার্বত্য জেলার উদ্যোগে আয়োজিত ‘পাহাড়ে জুলাই: সমমর্যাদা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি সরকার টু-থার্ড মেজোরিটি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো প্রতিনিধি নেই। দ্বীপেন দেওয়ানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা করতে পারছে কারণ সরকার কোনো জবাবদিহির আওতায় নেই। ফলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে পাহাড় থেকে আরও জোরালো আওয়াজ আসা উচিত। পাহাড়ের চলমান সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবাইকে সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না। একই সঙ্গে পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও বৈষম্যের অবসানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা অত্যন্ত জটিল এবং এর কোনো একমুখী সমাধান নেই। তিনি উল্লেখ করেন, পাহাড়ের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী যেমন বঞ্চনার শিকার, তেমনি সেখানে বসবাসকারী বাঙালিদের মধ্যেও নানা ধরনের অসন্তোষ ও বঞ্চনা রয়েছে। এসব বিভাজনের সুযোগ বিদেশি শক্তি নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা সবাই বাংলাদেশি। দেশের উন্নয়ন ও সুষম বণ্টনের মাধ্যমে সবাই উপকৃত হবে। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও নিপীড়নের রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করতে হবে। পাহাড়ে কেবল সামরিক পদ্ধতিতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে এবং যারা বিভেদ ও সংঘাত জিইয়ে রেখে সুবিধা নিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করে রেখেছে। সাম্প্রদায়িকতা, ধর্ম ও সামাজিক বিভাজন দূর করে জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, এনসিপি দেশের সব এলাকায় অংশ নেবে এবং পার্বত্য অঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। তার আশা, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে পাহাড়ে নতুন প্রজন্মের তরুণ জনপ্রতিনিধির উত্থান ঘটবে। আলোচনা সভায় এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দিনসহ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।