কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দেশের প্রথম সিরিঞ্জ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জেএমআই সিরিঞ্জ কারখানায় ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে টানা চতুর্থ দিনের মতো শ্রমিকদের আন্দোলন, বিক্ষোভ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ ও কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এ সময় কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সব দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিলে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন শ্রমিকরা। গত সোমবার থেকে শ্রমিকরা ৭ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন শুরু করেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের নোয়াপাড়া-রাজেন্দ্রপুর এলাকায় কারখানার সামনে শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এতে করে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে। আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তারা ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করেছিলেন। তখন কর্তৃপক্ষ ছয় মাসের মধ্যে তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছরেও মূল দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার ৭ দফা দাবিতে নতুন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে: সরকারি স্কেল অনুযায়ী ১২ হাজার ৩৫০ টাকা প্রারম্ভিক বেতন নির্ধারণ ও চলতি মাস থেকে কার্যকর করা, ছয় মাসের মধ্যে চাকরি স্থায়ী করা, এক বছরের মধ্যে পরিচয়পত্র প্রদান, সিনিয়রদের ১০ শতাংশ ও জুনিয়রদের ১৫ শতাংশ বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, অন্যায্যভাবে চাকরিচ্যুতি বন্ধ করা এবং নামাজের জন্য নির্ধারিত স্থান ও ১৫ মিনিট সময় বরাদ্দ করা। বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকরা মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেন অবরোধ করলে দীর্ঘ যানজট ও যাত্রীদের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। দুপুর ২টার দিকে ইউএনও মো. শাহাদাত হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন। এরপর ইউএনওর উপস্থিতিতে বৈঠক শুরু হলে বাইরে অবস্থানরত কিছু শ্রমিক উত্তেজিত হয়ে কারখানার মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি শান্ত হলে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সব দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিলে শ্রমিকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে বাড়ি ফিরে যান। শ্রমিক নেতা জয়নাল বলেন, মালিকপক্ষ আমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। তাই আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি। ভুল বোঝাবুঝি ও গুজবের কারণে কিছু উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিক কারখানায় প্রবেশ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করায় কয়েকটি দরজা-জানালার ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে কারখানার ব্যবস্থাপক মো. গোলাম মোস্তফার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মো. আরিফ হোসাইন বলেন, ইউএনওর মধ্যস্থতায় মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে আলোচনা চলাকালে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি কারখানায় ভাঙচুর চালায়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ইউএনও মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের নিয়ে বসে আলোচনা করা হয়। এ সময় মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সব দাবি মেনে নেয়। এতে করে শ্রমিকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে কাজে ফিরে গেলে।
3:12 am, Saturday, 1 August 2026
শিরোনাম :
দাবি আদায়ে সড়ক অবরোধ কারখানা ভাঙচুর
-
MIT ERP
- Update Time : 01:41:54 am, Saturday, 1 August 2026
- 1
Tag :
Popular Post





















