চারপাশের অবকাঠামো সম্পূর্ণ না হওয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রীদের জন্য নবনির্মিত তিনটি আবাসিক হলের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আবাসিক হলগুলোর চারপাশে স্থায়ী সীমানা প্রাচیرের পরিবর্তে জরাজীর্ণ টিনের বেড়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে যেমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নান্দনিক পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে হল সংসদের পক্ষ থেকে বিশ^বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, ফজিলাতুন্নেছা হল, বেগম রোকেয়া হল এবং তারামন বিবি হলে এখনো নির্মাণকাজ চলাকালে ব্যবহৃত অস্থায়ী টিনের ঘেরাটোপই রয়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে টিনের অনেক অংশে মরিচা ধরেছে, রং উঠে গেছে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, ভবনগুলোর নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। অথচ এসব হলে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার ছাত্রী বসবাস করছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় হলগুলো নির্মিত হলেও স্থায়ী সীমানা প্রাচীর নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা শঙ্কার পাশাপাশি নতুন স্থাপনাগুলোর সৌন্দর্যও ম্লান হয়ে গেছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় টিনের বেড়া ঘেরা পরিবেশকে অনেকেই নিরাপদ মনে করছেন না। পাশাপাশি এ তিনটি হলের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) গার্ড রুম তৈরি করার কথা থাকলেও সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি। এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অনুশ্রী রায় বলেন, ‘কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক নারী হলগুলোর সামনে বছরের পর বছর জরাজীর্ণ টিনের বেড়া পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যই নষ্ট করছে না, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি করছে। প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর আবাসস্থলে এমন অস্থায়ী ব্যবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত স্থায়ী সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা উচিত’। তারামন বিবি হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ফারজানা ঊর্মি বলেন, ‘নতুন তিনটি আবাসিক হলের চারপাশে এখনো স্থায়ী সীমানা প্রাচীর না থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। টিনের অস্থায়ী বেড়া কোনোভাবেই নিরাপদ ব্যবস্থা নয়। নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত স্থায়ী সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার’। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হল সংসদের প্রতিনিধিরাও। রোকেয়া হল শিক্ষার্থী সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) তাসনিম খন্দকার বলেন, ‘নতুন তিনটি হলের স্থায়ী সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবিতে হল সংসদের পক্ষ থেকে একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত কাজ শুরু করা প্রয়োজন’। এ বিষয়ে তারামন বিবি হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবেদা সুলতানা বলেন, ‘নতুন হলগুলোর সামনের রাস্তা সম্প্রসারণ ও ফুটপাত নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান রাস্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সীমানা নির্ধারণ না হওয়ায় স্থায়ী প্রাচীর নির্মাণ করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। রাস্তার কাজ শেষ হলেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে’। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘স্থায়ী সীমানা প্রাচীর নির্মাণ আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। তবে তার আগে রাস্তা সম্প্রসারণ ও ফুটপাত নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এরপরই প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে’। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী মাস থেকে শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু হবে। যেখানে বর্তমান সড়কগুলোকে ৩৬ ফিট করতে হলের সামনের জায়গাও দরকার হবে’। সড়ক সম্প্রসারণের কাজ বাস্তবায়ন হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প অফিস দেয়াল নির্মানের কাজ করবে বলে জানান অধ্যাপক নজরুল। এদিকে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক আবাসিক হলগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিশ্চিত করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দ্রুত রাস্তার কাজ শেষ করে স্থায়ী সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হলে একদিকে যেমন ক্যাম্পাসের নান্দনিকতা ফিরে আসবে, অন্যদিকে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানসিক স্বস্তিও নিশ্চিত হবে।
12:37 am, Thursday, 30 July 2026
শিরোনাম :
প্রাচীরহীন ৩ ছাত্রী হলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
-
MIT ERP
- Update Time : 08:56:43 pm, Wednesday, 29 July 2026
- 5
Tag :












