অভিষেক হয়েছে মাত্র দুই টেস্ট আগে। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট খেলছেন, আর তাতেই নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে এখন থেকে সাকিব-তামিম-মুশফিকেরও ওপর থাকবে তাওহীদ হৃদয়ের নাম।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের মালিক এখন হৃদয়। সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেছেন ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস। আর তাতেই টপকে গেছেন মুশফিকুর রহিমের ২১৯ রানের রেকর্ড।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হৃদয়। সাকিব-তামিম-মুশফিকের সঙ্গে ডাবল সেঞ্চুরির ক্লাবে নিজের নাম লেখালেও একটি জায়গায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।
নিজের প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেয়া প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হৃদয়। ২২ চার, ১১ ছক্কায় হৃদয়ের ২৪২ রানের ইনিংসের বিশেষত্ব অনেক।
আগের টেস্টেই বাজে শট খেলে আউট হয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন হৃদয়। প্রশ্ন উঠেছিল তার ব্যাটিং এপ্রোচ নিয়ে। কিন্তু পরের টেস্টকে হৃদয় বেছে নিলেন সমালোচনার জবাব দেওয়ার মঞ্চ হিসেবে।
হৃদয় শুধু সমালোচনার জবাবই দেননি, নিজ দলকে বড় বিপর্যয় থেকে টেনে তুলেছেন। ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন ধুঁকছিল, তখনই হৃদয় একা লড়াই চালিয়ে দলের সংগ্রহ নিয়ে গেছেন ৩৮৬ রানে।
হৃদয়ের এমন ইনিংসে রেকর্ড হয়েছে একাধিক। ১১ ছক্কায় এক ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডের মালিক এখন তিনি। এর আগে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৭ ছক্কা ছিল তামিম ইকবালের। ২০১৫ সালে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে এই রেকর্ড গড়েছিলেন তামিম।
হৃদয়ের ১১ ছক্কা টেস্টের ইতিহাসে এক ইনিংসে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তাঁর আগে ইনিংসে ১১ ছক্কা ছিল ছয়জনের। সর্বোচ্চ ১২টি করে ছক্কা আছে পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম ও ভারতের জয়সোয়ালের।
হৃদয়ের ২৪২* রানের ইনিংসে ৩৮৬ রানের সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিনা উইকেটে ৭ রান তুলতেই আলোক স্বল্পতায় দিনের খেলা শেষ হয়ে যায়। এখনো ২৩ রানে পিছিয়ে ক্যারবিয়ানরা।





















