আজ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

কোস্ট গার্ডের জাহাজের নাম পরিবর্তনের কারণ জানালেন জুলকারনাইন সায়ের

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:24:36 pm, Friday, 6 November 2026
  • 11

কোস্ট গার্ডের জাহাজের নাম পরিবর্তনের কারণ জানালেন জুলকারনাইন সায়ের

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পাঁচটি জাহাজের নাম পরিবর্তনের কারণ জানিয়েছেন আলজাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। নতুন নামকরণের মধ্য দিয়ে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চার সদস্যের অবদানকে স্মরণ করা হয়েছে।

তাঁদের মধ্যে দুজন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত হন। একজন বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হন এবং অন্যজন র‍্যাবে প্রেষণে কর্মরত অবস্থায় সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ হারান। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানান জুলকারনাইন সায়ের। রূপালী বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য জুলকারনাইন সায়েরের পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো— বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পাঁচটি জাহাজের নাম পরিবর্তন করে একটির নাম করণ করা হয়েছে অদম্য বাংলা আর চারটি ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নামে করা হয়েছে।

জানতে পেরেছি এই চারজনই ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য যারা নিজ জীবন বিপন্ন করে দেশের স্বার্থে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁদের দুজন নিহত হন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে, একজন বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হন, আর একজন র‍্যাবে প্রেষণে থাকা সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন। জাহাজগুলোর নতুন নাম হয়েছে বিসিজিএস নুরুল ইসলাম, বিসিজিএস ফিরোজ কবির, বিসিজিএস এম. হুমায়ুন কবির ও বিসিজিএস আশরাফ সিদ্দিকী।

কঙ্গোয় নিহত নুরুল ইসলাম: লিডিং সিম্যান (সিডি) এম. নুরুল ইসলাম ছিলেন নৌবাহিনীর ডুবুরি ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ। কঙ্গো রিপাবলিকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তিনি বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট BANBAT-2-এ কর্মরত ছিলেন। ২০০৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি টহলের সময় মিলিশিয়াদের অতর্কিত হামলায় তিনি নিহত হন। তাঁর আত্মত্যাগের স্বীকৃতিতে জাতিসংঘ তাঁকে দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক দেয়।

ঝড়ে নিখোঁজ ফিরোজ কবির: লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ফিরোজ কবির ছিলেন নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা শহীদ ফরিদের অধিনায়ক। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে বঙ্গোপসাগরে তাঁর জাহাজ প্রবল ঝড়ের কবলে পড়ে। ক্রুদের সহায়তা করতে গিয়ে তিনি বিশাল ঢেউয়ে ভেসে যান এবং নিখোঁজ হন। তাঁকে খুঁজে পেতে নৌবাহিনী বড় আকারের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালায়। কিন্তু তাঁর মৃতদেহ কখনো পাওয়া যায়নি।

আমিনবাজারে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন হুমায়ুন কবির: সিনিয়র চিফ পেটি অফিসার এম. হুমায়ুন কবির প্রেষণে র‍্যাব-১১-এ উপসহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৭ সালের মার্চে সাভারের আমিনবাজারের কাছে তিনি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় র‍্যাবের আরেক সদস্যসহ তাঁকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। দক্ষিণ সুদানে নিহত আশরাফ সিদ্দিকী: ইনস্ট্রাক্টর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম. আশরাফ সিদ্দিকী ছিলেন নৌবাহিনীর শিক্ষা শাখার কর্মকর্তা।

দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ মিশন আনমিসে (UNMISS) তিনি মিলিটারি লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০১৮ সালের ২৬ জুন ইয়েই শহরের কাছে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী জাতিসংঘের গাড়িবহরে হামলা চালালে তিনি নিহত হন। ঢাকা সেনানিবাসের চপার্স ডেনে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। পরে তাঁকে মরণোত্তর দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়।

লক্ষ্য করেছি বিভিন্ন গণমাধ্যম বেশ হুমড়ি খেয়ে পড়েছে এটা রিপোর্ট করতে যে জাহাজগুলোর নাম বদল হয়েছে। কিন্তু কেউ এটা জানতে চেষ্টা করলো না যে, নাম বদলে যাদের নামে করা হয়েছে তাঁরা আসলে কে? কি তাঁদের অবদান? আপনাদের এই প্যাটার্নে যুক্ত হয়েছে পতিত স্বৈরশাসক গোষ্ঠীর পেয়াদারা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

কোস্ট গার্ডের জাহাজের নাম পরিবর্তনের কারণ জানালেন জুলকারনাইন সায়ের

কোস্ট গার্ডের জাহাজের নাম পরিবর্তনের কারণ জানালেন জুলকারনাইন সায়ের

Update Time : 07:24:36 pm, Friday, 6 November 2026

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পাঁচটি জাহাজের নাম পরিবর্তনের কারণ জানিয়েছেন আলজাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। নতুন নামকরণের মধ্য দিয়ে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চার সদস্যের অবদানকে স্মরণ করা হয়েছে।

তাঁদের মধ্যে দুজন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত হন। একজন বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হন এবং অন্যজন র‍্যাবে প্রেষণে কর্মরত অবস্থায় সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ হারান। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানান জুলকারনাইন সায়ের। রূপালী বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য জুলকারনাইন সায়েরের পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো— বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পাঁচটি জাহাজের নাম পরিবর্তন করে একটির নাম করণ করা হয়েছে অদম্য বাংলা আর চারটি ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নামে করা হয়েছে।

জানতে পেরেছি এই চারজনই ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য যারা নিজ জীবন বিপন্ন করে দেশের স্বার্থে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁদের দুজন নিহত হন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে, একজন বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হন, আর একজন র‍্যাবে প্রেষণে থাকা সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন। জাহাজগুলোর নতুন নাম হয়েছে বিসিজিএস নুরুল ইসলাম, বিসিজিএস ফিরোজ কবির, বিসিজিএস এম. হুমায়ুন কবির ও বিসিজিএস আশরাফ সিদ্দিকী।

কঙ্গোয় নিহত নুরুল ইসলাম: লিডিং সিম্যান (সিডি) এম. নুরুল ইসলাম ছিলেন নৌবাহিনীর ডুবুরি ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ। কঙ্গো রিপাবলিকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তিনি বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট BANBAT-2-এ কর্মরত ছিলেন। ২০০৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি টহলের সময় মিলিশিয়াদের অতর্কিত হামলায় তিনি নিহত হন। তাঁর আত্মত্যাগের স্বীকৃতিতে জাতিসংঘ তাঁকে দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক দেয়।

ঝড়ে নিখোঁজ ফিরোজ কবির: লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ফিরোজ কবির ছিলেন নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা শহীদ ফরিদের অধিনায়ক। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে বঙ্গোপসাগরে তাঁর জাহাজ প্রবল ঝড়ের কবলে পড়ে। ক্রুদের সহায়তা করতে গিয়ে তিনি বিশাল ঢেউয়ে ভেসে যান এবং নিখোঁজ হন। তাঁকে খুঁজে পেতে নৌবাহিনী বড় আকারের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালায়। কিন্তু তাঁর মৃতদেহ কখনো পাওয়া যায়নি।

আমিনবাজারে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন হুমায়ুন কবির: সিনিয়র চিফ পেটি অফিসার এম. হুমায়ুন কবির প্রেষণে র‍্যাব-১১-এ উপসহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৭ সালের মার্চে সাভারের আমিনবাজারের কাছে তিনি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় র‍্যাবের আরেক সদস্যসহ তাঁকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। দক্ষিণ সুদানে নিহত আশরাফ সিদ্দিকী: ইনস্ট্রাক্টর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম. আশরাফ সিদ্দিকী ছিলেন নৌবাহিনীর শিক্ষা শাখার কর্মকর্তা।

দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ মিশন আনমিসে (UNMISS) তিনি মিলিটারি লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০১৮ সালের ২৬ জুন ইয়েই শহরের কাছে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী জাতিসংঘের গাড়িবহরে হামলা চালালে তিনি নিহত হন। ঢাকা সেনানিবাসের চপার্স ডেনে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। পরে তাঁকে মরণোত্তর দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়।

লক্ষ্য করেছি বিভিন্ন গণমাধ্যম বেশ হুমড়ি খেয়ে পড়েছে এটা রিপোর্ট করতে যে জাহাজগুলোর নাম বদল হয়েছে। কিন্তু কেউ এটা জানতে চেষ্টা করলো না যে, নাম বদলে যাদের নামে করা হয়েছে তাঁরা আসলে কে? কি তাঁদের অবদান? আপনাদের এই প্যাটার্নে যুক্ত হয়েছে পতিত স্বৈরশাসক গোষ্ঠীর পেয়াদারা।