আজ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই দাফন সম্পন্ন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:58:50 pm, Friday, 6 November 2026
  • 22

রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই দাফন সম্পন্ন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নয় মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার। অথচ জীবনের শেষ বিদায়েও তার ভাগ্যে জুটল না রাষ্ট্রীয় সম্মান। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রস্তুতি থাকার পরও গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন করা হয়েছে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর মধ্যে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার (৭৮) দীর্ঘ কর্মজীবনে যোগাযোগ ও আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। বার্ধক্যের কারণে শেষ সময়ে তিনি ঢাকায় ছেলের সঙ্গে থাকতেন। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ওই দিন ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের মহালক্ষীপাড়া গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। মরদেহ পৌঁছাতে বিকেল সাড়ে ৫টা পেরিয়ে যায়। পরে গার্ড অব অনার ছাড়াই জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। মরহুমের ভাই শাহজাহান বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম আমার ভাইকে শেষ সম্মানটুকু জানিয়ে বিদায় দিতে। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি।

যে মানুষটি নয় মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেন, তিনি শেষ বিদায়েও প্রাপ্য সম্মান পেলেন না। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। ’ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মোল্লা বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব না হলেও অন্তত প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা এসে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারতেন।

কিন্তু সেটিও করা হয়নি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সহযোদ্ধার এমন অমর্যাদা মেনে নেওয়া কঠিন। ’ ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার জানান, গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালাম দেওয়ার জন্য তারা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম তাদের জানিয়েছিলেন, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া যায় না।

সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক বলেন, ‘আমি মরহুমের জানাজায় উপস্থিত ছিলাম। তাকে গার্ড অব অনার না দেওয়ায় এলাকায় তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ’ এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘গার্ড অব অনারের জন্য আমরা এক পিকআপ পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। পুলিশ লাইন থেকেও বিউগল বাজানোর দল এসেছিল।

কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কেউ উপস্থিত না থাকায় পুলিশ একা গার্ড অব অনার দিতে পারেনি। তবে আমরা জানাজায় অংশ নিয়েছি। ’ অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নী ইসলাম বলেন, ‘সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া হয় না। তারপরও আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু ঢাকা থেকে মরদেহ আনা নিয়ে দ্বিধা ছিল। মাগরিবের পর কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।

তাই গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি। ’ তিনি আরও জানান, বিষয়টি সংবাদে প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছিলেন, যাতে ব্রাহ্মণপাড়া তথা কুমিল্লার সম্মান ক্ষুণ্ন না হয়। তবে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, গার্ড অব অনারের জন্য তাদের প্রস্তুতি ছিল, কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কেউ উপস্থিত না থাকায় তা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

দুই পক্ষের বক্তব্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

যশোরে পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই দাফন সম্পন্ন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের

Update Time : 06:58:50 pm, Friday, 6 November 2026

নয় মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার। অথচ জীবনের শেষ বিদায়েও তার ভাগ্যে জুটল না রাষ্ট্রীয় সম্মান। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রস্তুতি থাকার পরও গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন করা হয়েছে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর মধ্যে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার (৭৮) দীর্ঘ কর্মজীবনে যোগাযোগ ও আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। বার্ধক্যের কারণে শেষ সময়ে তিনি ঢাকায় ছেলের সঙ্গে থাকতেন। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ওই দিন ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের মহালক্ষীপাড়া গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। মরদেহ পৌঁছাতে বিকেল সাড়ে ৫টা পেরিয়ে যায়। পরে গার্ড অব অনার ছাড়াই জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। মরহুমের ভাই শাহজাহান বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম আমার ভাইকে শেষ সম্মানটুকু জানিয়ে বিদায় দিতে। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি।

যে মানুষটি নয় মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেন, তিনি শেষ বিদায়েও প্রাপ্য সম্মান পেলেন না। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। ’ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মোল্লা বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব না হলেও অন্তত প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা এসে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারতেন।

কিন্তু সেটিও করা হয়নি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সহযোদ্ধার এমন অমর্যাদা মেনে নেওয়া কঠিন। ’ ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার জানান, গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালাম দেওয়ার জন্য তারা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম তাদের জানিয়েছিলেন, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া যায় না।

সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক বলেন, ‘আমি মরহুমের জানাজায় উপস্থিত ছিলাম। তাকে গার্ড অব অনার না দেওয়ায় এলাকায় তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ’ এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘গার্ড অব অনারের জন্য আমরা এক পিকআপ পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। পুলিশ লাইন থেকেও বিউগল বাজানোর দল এসেছিল।

কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কেউ উপস্থিত না থাকায় পুলিশ একা গার্ড অব অনার দিতে পারেনি। তবে আমরা জানাজায় অংশ নিয়েছি। ’ অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নী ইসলাম বলেন, ‘সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া হয় না। তারপরও আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু ঢাকা থেকে মরদেহ আনা নিয়ে দ্বিধা ছিল। মাগরিবের পর কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।

তাই গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি। ’ তিনি আরও জানান, বিষয়টি সংবাদে প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছিলেন, যাতে ব্রাহ্মণপাড়া তথা কুমিল্লার সম্মান ক্ষুণ্ন না হয়। তবে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, গার্ড অব অনারের জন্য তাদের প্রস্তুতি ছিল, কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কেউ উপস্থিত না থাকায় তা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

দুই পক্ষের বক্তব্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।