আজ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

মনপুরা সরকারি ডিগ্রি কলেজে ১৫৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২৮ জনের ফেল, নজিরবিহীন বিপর্যয়

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:26:14 pm, Thursday, 5 November 2026
  • 27

মনপুরা সরকারি ডিগ্রি কলেজে ১৫৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২৮ জনের ফেল, নজিরবিহীন বিপর্যয়

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ভোলার মনপুরা উপজেলার একমাত্র সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান মনপুরা সরকারি ডিগ্রি কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলে ঘটেছে নজিরবিহীন বিপর্যয়। কলেজটির ২৫ বছরের ইতিহাসে এমন হতাশাজনক ফল আর দেখেননি বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

এ বছর কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৫৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩০ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১২৮ জন। পাসের হার মাত্র ১৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ফলের এমন ভয়াবহ চিত্রে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, কলেজের অধ্যক্ষসহ অধিকাংশ শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়মিত উপস্থিতি এবং নিয়মিত পাঠদান না করার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এরই প্রতিফলন ঘটেছে এবারের ফলে। বিভাগভিত্তিক ফল আরও উদ্বেগজনক। বাণিজ্য বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিনজন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। বিজ্ঞান বিভাগে ১৯ জনের মধ্যে ১৪ জন ফেল করেছে, পাস করেছে মাত্র পাঁচজন। অন্যদিকে মানবিক বিভাগে ১৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১১ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাস করেছে মাত্র ২৫ জন। কৃতকার্য শিক্ষার্থী মো. তপু কাজী বলেন, কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক বহিরাগত হওয়ায় তারা নিয়মিত কলেজে উপস্থিত থাকেন না।

অনেক শিক্ষক মাসের পর মাস নিয়মিত ক্লাস নেননি। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় পাঠদান থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অভিভাবক আবিদ হাসান আবির, শাকিল কাজী এবং জিসান চন্দ্র দাস বলেন, নিয়মিত ক্লাসের পরিবর্তে অনেক শিক্ষক রোটেশন পদ্ধতিতে পাঠদান করেন। এইচএসসি ও ডিগ্রি শাখায় একই বিষয়ে একাধিক প্রভাষক থাকায় এক সপ্তাহ একজন এবং পরবর্তী সপ্তাহে অন্যজন ক্লাস নেন।

এতে পাঠদানের ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি কলেজে কার্যকর প্রশাসনিক তদারকি ও জবাবদিহির অভাব রয়েছে। এ ছাড়াও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভাস্কর চন্দ্র নন্দীর বিরুদ্ধেও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, গত রমজান মাসে ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার পর কোরবানির ঈদের পর তিনি কলেজে ফিরেছেন। এমনকি চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালেও তিনি কলেজে উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ তাদের।

অন্যদিকে কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক বাবু রসরাজসহ একাধিক প্রভাষকের বিরুদ্ধে অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, কয়েকজন শিক্ষক মাসের শেষ দিকে কলেজে এসে বেতন উত্তোলন করে আবার চলে যান। কেউ কেউ এক দিন কলেজে এসে পুরো মাসের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, মনপুরা সরকারি ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকসহ মোট ২৫ জন শিক্ষক কর্মরত।

তাদের মধ্যে মাত্র ৯ জন নিয়মিত কলেজে উপস্থিত থাকেন। বাকি ১৬ জনের বিরুদ্ধে অনিয়মিত উপস্থিতি ও নিয়মিত ক্লাস না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফল বিপর্যয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী হাজিরহাট সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, কলেজে নিয়মিত ক্লাসের পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের উপস্থিতি তদারকি করা হলে এমন বিপর্যয় হয়তো এড়ানো সম্ভব হতো।

তিনি অবিলম্বে ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ঢাকায় অবস্থানরত মনপুরা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভাস্কর চন্দ্র নন্দীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফল বিপর্যয়ে আমরা বিস্মিত।

এ বিষয়ে শিক্ষকদের নিয়ে বসে প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস না করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি বিষয়ে দুজন করে শিক্ষক রয়েছেন। প্রতিদিন একজন শিক্ষক ক্লাস নেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

শীতের শুরুতেই নয়াদিল্লিতে বিপজ্জনক পর্যায়ে বায়ুদূষণ, ধোঁয়াশায় ঢেকে গেছে পুরো শহর

মনপুরা সরকারি ডিগ্রি কলেজে ১৫৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২৮ জনের ফেল, নজিরবিহীন বিপর্যয়

Update Time : 01:26:14 pm, Thursday, 5 November 2026

ভোলার মনপুরা উপজেলার একমাত্র সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান মনপুরা সরকারি ডিগ্রি কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলে ঘটেছে নজিরবিহীন বিপর্যয়। কলেজটির ২৫ বছরের ইতিহাসে এমন হতাশাজনক ফল আর দেখেননি বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

এ বছর কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৫৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩০ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১২৮ জন। পাসের হার মাত্র ১৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ফলের এমন ভয়াবহ চিত্রে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, কলেজের অধ্যক্ষসহ অধিকাংশ শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়মিত উপস্থিতি এবং নিয়মিত পাঠদান না করার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এরই প্রতিফলন ঘটেছে এবারের ফলে। বিভাগভিত্তিক ফল আরও উদ্বেগজনক। বাণিজ্য বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিনজন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। বিজ্ঞান বিভাগে ১৯ জনের মধ্যে ১৪ জন ফেল করেছে, পাস করেছে মাত্র পাঁচজন। অন্যদিকে মানবিক বিভাগে ১৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১১ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাস করেছে মাত্র ২৫ জন। কৃতকার্য শিক্ষার্থী মো. তপু কাজী বলেন, কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক বহিরাগত হওয়ায় তারা নিয়মিত কলেজে উপস্থিত থাকেন না।

অনেক শিক্ষক মাসের পর মাস নিয়মিত ক্লাস নেননি। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় পাঠদান থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অভিভাবক আবিদ হাসান আবির, শাকিল কাজী এবং জিসান চন্দ্র দাস বলেন, নিয়মিত ক্লাসের পরিবর্তে অনেক শিক্ষক রোটেশন পদ্ধতিতে পাঠদান করেন। এইচএসসি ও ডিগ্রি শাখায় একই বিষয়ে একাধিক প্রভাষক থাকায় এক সপ্তাহ একজন এবং পরবর্তী সপ্তাহে অন্যজন ক্লাস নেন।

এতে পাঠদানের ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি কলেজে কার্যকর প্রশাসনিক তদারকি ও জবাবদিহির অভাব রয়েছে। এ ছাড়াও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভাস্কর চন্দ্র নন্দীর বিরুদ্ধেও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, গত রমজান মাসে ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার পর কোরবানির ঈদের পর তিনি কলেজে ফিরেছেন। এমনকি চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালেও তিনি কলেজে উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ তাদের।

অন্যদিকে কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক বাবু রসরাজসহ একাধিক প্রভাষকের বিরুদ্ধে অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, কয়েকজন শিক্ষক মাসের শেষ দিকে কলেজে এসে বেতন উত্তোলন করে আবার চলে যান। কেউ কেউ এক দিন কলেজে এসে পুরো মাসের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, মনপুরা সরকারি ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকসহ মোট ২৫ জন শিক্ষক কর্মরত।

তাদের মধ্যে মাত্র ৯ জন নিয়মিত কলেজে উপস্থিত থাকেন। বাকি ১৬ জনের বিরুদ্ধে অনিয়মিত উপস্থিতি ও নিয়মিত ক্লাস না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফল বিপর্যয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী হাজিরহাট সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, কলেজে নিয়মিত ক্লাসের পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের উপস্থিতি তদারকি করা হলে এমন বিপর্যয় হয়তো এড়ানো সম্ভব হতো।

তিনি অবিলম্বে ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ঢাকায় অবস্থানরত মনপুরা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভাস্কর চন্দ্র নন্দীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফল বিপর্যয়ে আমরা বিস্মিত।

এ বিষয়ে শিক্ষকদের নিয়ে বসে প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস না করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি বিষয়ে দুজন করে শিক্ষক রয়েছেন। প্রতিদিন একজন শিক্ষক ক্লাস নেন।