আজ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সাড়ে ৪৮ লাখ মামলা বিচারাধীন, তীব্র বিচারক সংকট

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:57:03 pm, Friday, 6 November 2026
  • 9

দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সাড়ে ৪৮ লাখ মামলা বিচারাধীন, তীব্র বিচারক সংকট

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সাড়ে ৪৮ লাখেরও বেশি মামলা বর্তমানে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে এবং প্রতিদিন এই মামলা জট বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই জমা পড়েছে নতুন ১ লাখ ১২ হাজার মামলা। বিশাল এই মামলা জটের বিপরীতে দেশে বিচারকের সংখ্যা মাত্র ২ হাজার ৩০০ জন, যার মধ্যে প্রধান বিচারপতিসহ দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারক রয়েছেন মাত্র ৫ জন।

ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আপিল বিভাগে দ্রুত আরও ৪-৫ জন বিচারক নিয়োগের দাবি আইনজীবীদের।

সুপ্রিমকোর্ট থেকে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত দেশের আদালতে বিচারাধীন মামলা ৪৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৪৪টি। এর মধ্যে কেবল বিচারিক আদালতেই আছে ৪১ লাখ ৪২ হাজার। হাইকোর্টে অপেক্ষমান ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০টি মামলা। এসব মামলার বিপরীতে বিচারপতি আছেন ৯৯ জন। আর চূড়ান্ত আপিল নিস্পত্তির জন্য আপিল বিভাগের ৩৮ হাজার ৬৫১টি মামলার জন্য বিচারপতি মাত্র ৫ জন। আইনজীবীরা বলছেন, বিচারক সংকটের কারণে আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির জন্য কার্যতালিকায় আসছে ৮-৯ বছর আগের আবেদন। চূড়ান্ত আপিল নিস্পত্তি না হওয়ায় দশকের পর দশক আটকে আছে অসংখ্য আসামি।

এ বিষয়ে ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ এস এম শাহজাহান বলেন, ‘আমার এক মক্কেল জেলখানা থেকে আমাকে টেলিফোন করে বলেছেন, আমাকে খালাস করে আমার খালাসের কাগজা কবরে ঝুলিয়ে দিয়েন। আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় আজ ২২ বছর; ২০০৪ সাল থেকে ২০২৬, ২২ ধরে তারা কনডেম সেলে আছে। বিশেষ বেঞ্চ লাগবে। বিডিআর মামলার এত আসামি, এত স্বাক্ষী– এগুলো কীভাবে কী হবে আমি জানি না।’

জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা জানান, ৩টি আপিল বেঞ্চ করা মতো প্রয়োজনীয় বিচারপতি নিয়োগ দেয়া অতি জরুরি। স্থায়ী নিয়োগ না হলেও প্রয়োজনে অস্থায়ী নিয়োগের পরামর্শ তাদের।

সুপ্রিম কোর্টবার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টকে আপিল ডিভিশনকে কার্যকর করার স্বার্থে, স্থবিরতা কাটানোর স্বার্থে অন্তত ৫ জন বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া উচিত। তিনটা বেঞ্চ করা উচিত। বিচার বিভাগ তো রাষ্ট্রের অন্যতম অঙ্গ। এটা স্থবির হয়ে থাকলে রাষ্ট্রে স্থবিরতা আসবে।’

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘বিচারপতির সংকট হলে হাইকোর্ট থেকে অ্যাডহক ভিত্তিতে আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া যায়। ৬ মাস থেকে এক বছর রেখে তাদেরকে ফেরত পাঠানো যায়। এমনকি আমাদের আইনজীবীদের মধ্যে যারা সিনিয়র মেধাবী আইনজীবী রয়েছেন তাদেরকেও নিতে পারেন।’

সংবিধান অনুযায়ী, হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বিচারপতির নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই। ৯৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন মতো বিচারক নিয়োগ দিতে পারবেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সাড়ে ৪৮ লাখ মামলা বিচারাধীন, তীব্র বিচারক সংকট

দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সাড়ে ৪৮ লাখ মামলা বিচারাধীন, তীব্র বিচারক সংকট

Update Time : 02:57:03 pm, Friday, 6 November 2026

দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সাড়ে ৪৮ লাখেরও বেশি মামলা বর্তমানে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে এবং প্রতিদিন এই মামলা জট বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই জমা পড়েছে নতুন ১ লাখ ১২ হাজার মামলা। বিশাল এই মামলা জটের বিপরীতে দেশে বিচারকের সংখ্যা মাত্র ২ হাজার ৩০০ জন, যার মধ্যে প্রধান বিচারপতিসহ দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারক রয়েছেন মাত্র ৫ জন।

ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আপিল বিভাগে দ্রুত আরও ৪-৫ জন বিচারক নিয়োগের দাবি আইনজীবীদের।

সুপ্রিমকোর্ট থেকে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত দেশের আদালতে বিচারাধীন মামলা ৪৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৪৪টি। এর মধ্যে কেবল বিচারিক আদালতেই আছে ৪১ লাখ ৪২ হাজার। হাইকোর্টে অপেক্ষমান ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০টি মামলা। এসব মামলার বিপরীতে বিচারপতি আছেন ৯৯ জন। আর চূড়ান্ত আপিল নিস্পত্তির জন্য আপিল বিভাগের ৩৮ হাজার ৬৫১টি মামলার জন্য বিচারপতি মাত্র ৫ জন। আইনজীবীরা বলছেন, বিচারক সংকটের কারণে আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির জন্য কার্যতালিকায় আসছে ৮-৯ বছর আগের আবেদন। চূড়ান্ত আপিল নিস্পত্তি না হওয়ায় দশকের পর দশক আটকে আছে অসংখ্য আসামি।

এ বিষয়ে ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ এস এম শাহজাহান বলেন, ‘আমার এক মক্কেল জেলখানা থেকে আমাকে টেলিফোন করে বলেছেন, আমাকে খালাস করে আমার খালাসের কাগজা কবরে ঝুলিয়ে দিয়েন। আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় আজ ২২ বছর; ২০০৪ সাল থেকে ২০২৬, ২২ ধরে তারা কনডেম সেলে আছে। বিশেষ বেঞ্চ লাগবে। বিডিআর মামলার এত আসামি, এত স্বাক্ষী– এগুলো কীভাবে কী হবে আমি জানি না।’

জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা জানান, ৩টি আপিল বেঞ্চ করা মতো প্রয়োজনীয় বিচারপতি নিয়োগ দেয়া অতি জরুরি। স্থায়ী নিয়োগ না হলেও প্রয়োজনে অস্থায়ী নিয়োগের পরামর্শ তাদের।

সুপ্রিম কোর্টবার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টকে আপিল ডিভিশনকে কার্যকর করার স্বার্থে, স্থবিরতা কাটানোর স্বার্থে অন্তত ৫ জন বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া উচিত। তিনটা বেঞ্চ করা উচিত। বিচার বিভাগ তো রাষ্ট্রের অন্যতম অঙ্গ। এটা স্থবির হয়ে থাকলে রাষ্ট্রে স্থবিরতা আসবে।’

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘বিচারপতির সংকট হলে হাইকোর্ট থেকে অ্যাডহক ভিত্তিতে আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া যায়। ৬ মাস থেকে এক বছর রেখে তাদেরকে ফেরত পাঠানো যায়। এমনকি আমাদের আইনজীবীদের মধ্যে যারা সিনিয়র মেধাবী আইনজীবী রয়েছেন তাদেরকেও নিতে পারেন।’

সংবিধান অনুযায়ী, হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বিচারপতির নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই। ৯৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন মতো বিচারক নিয়োগ দিতে পারবেন।