মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনায় নতুন অগ্রগতি অর্জন করেছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটির সানক্যাচার প্রকল্পের পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইটটি কক্ষপথে চালু হয়েছে এবং পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।
এমনকি এতে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল দিয়ে কবিতাও লিখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি মাসের শুরুতে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটে শতাধিক মহাকাশযানের সঙ্গে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এতে রয়েছে গুগলের চারটি টেনসর প্রসেসিং ইউনিট (টিপিইউ)। তবে বিদ্যুতের সীমাবদ্ধতার কারণে একবারে একটি টিপিইউ চালানো সম্ভব, তাও প্রায় ২০ মিনিটের জন্য।
প্রায় তিন সপ্তাহের পরীক্ষার পর স্যাটেলাইটটি কাজ শুরু করে। প্রথম নির্দেশনায় এতে থাকা গুগল ডিপমাইন্ডের ‘জেমা ৪’ এআই মডেলকে মহাকাশ নিয়ে একটি ছোট কবিতা লিখতে বলা হয়। পাশাপাশি স্যাটেলাইটের আশপাশের কক্ষপথের পরিস্থিতি সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গুগল জানিয়েছে, স্যাটেলাইটটি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। বর্তমানে মহাকাশের তাপমাত্রা ও বিকিরণের মধ্যে চিপগুলো কতটা কার্যকর থাকে, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে বিকিরণের কারণে কম্পিউটারের মেমোরিতে তথ্য পরিবর্তন বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি যাচাই করছে প্রকল্প দল। পরীক্ষা সফল হলে ২০২৭ সালে উন্নত চিপযুক্ত আরও দুটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে গুগলের। এগুলোর মাধ্যমে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং স্যাটেলাইটগুলোর মধ্যে লেজার যোগাযোগব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে। গুগলের লক্ষ্য, কাছাকাছি অবস্থানে থাকা একাধিক স্যাটেলাইটকে দ্রুতগতির যোগাযোগব্যবস্থায় যুক্ত করে মহাকাশেই বড় পরিসরে এআইয়ের কাজ পরিচালনা করা।
প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০-এর দশকে মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারকে অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্পেসএক্সের নির্মাণাধীন স্টারশিপ রকেটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের ব্যয় কমাতে স্টারশিপকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ বার উৎক্ষেপণের প্রয়োজন হতে পারে।






















