আজ বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৮°C
সর্বোচ্চ: ২৯°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর গ্রেপ্তার

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:24:47 pm, Wednesday, 4 November 2026
  • 22

স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর গ্রেপ্তার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সাতক্ষীরার আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুন দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক করিম উল্লাহ মাস্টারের ছেলে। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে সাতক্ষীরা শহরের বাসিন্দা সাহেব আলী বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে প্রধান আসামি, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দ্বিতীয় এবং বাদীর দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মৌসুমীকে তৃতীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় ছয়-সাত মাস আগে বাদী সাহেব আলী তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে তালাক দেন।

অভিযোগ রয়েছে, দাম্পত্য জীবনে তাদের একান্ত মুহূর্তের কিছু ছবি ও ভিডিও ওই নারী গোপনে বা মুঠোফোনে ধারণ করে রেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে ওইসব ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে বাদীর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠান। গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ওই ভিডিওগুলো পাঠিয়ে বাদীকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এর পরদিন গত ২০ অক্টোবর অভিযুক্তরা পুনরায় যোগাযোগ করে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে আপত্তিকর ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, প্রথমে আসামিরা ৫ লাখ টাকা দাবি করলেও পরবর্তীতে তা কমিয়ে ৩ লাখ এবং একপর্যায়ে ১ লাখ টাকায় নামিয়ে আনেন। সমঝোতার অংশ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও আসামিদের ব্ল্যাকমেল ও চাঁদাবাজি থামেনি।

টাকা নেওয়ার পরও গত ২৯ অক্টোবর ‘সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল’ নামের একটি ফেসবুক আইডি এবং গত ১ নভেম্বর আব্দুল্লাহ আল মামুনের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে বাদীর ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পক্ষে বাদীর কাছে সুনির্দিষ্ট ভিডিও, স্ক্রিনশট ও অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষিত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী সাহেব আলী বলেন, সামাজিকভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এই ব্ল্যাকমেলিং চালিয়ে আসছিল। বাধ্য হয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির জানান, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং মানহানির অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর গ্রেপ্তার

Update Time : 12:24:47 pm, Wednesday, 4 November 2026

স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সাতক্ষীরার আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুন দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক করিম উল্লাহ মাস্টারের ছেলে। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে সাতক্ষীরা শহরের বাসিন্দা সাহেব আলী বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে প্রধান আসামি, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দ্বিতীয় এবং বাদীর দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মৌসুমীকে তৃতীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় ছয়-সাত মাস আগে বাদী সাহেব আলী তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে তালাক দেন।

অভিযোগ রয়েছে, দাম্পত্য জীবনে তাদের একান্ত মুহূর্তের কিছু ছবি ও ভিডিও ওই নারী গোপনে বা মুঠোফোনে ধারণ করে রেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে ওইসব ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে বাদীর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠান। গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ওই ভিডিওগুলো পাঠিয়ে বাদীকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এর পরদিন গত ২০ অক্টোবর অভিযুক্তরা পুনরায় যোগাযোগ করে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে আপত্তিকর ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, প্রথমে আসামিরা ৫ লাখ টাকা দাবি করলেও পরবর্তীতে তা কমিয়ে ৩ লাখ এবং একপর্যায়ে ১ লাখ টাকায় নামিয়ে আনেন। সমঝোতার অংশ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও আসামিদের ব্ল্যাকমেল ও চাঁদাবাজি থামেনি।

টাকা নেওয়ার পরও গত ২৯ অক্টোবর ‘সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল’ নামের একটি ফেসবুক আইডি এবং গত ১ নভেম্বর আব্দুল্লাহ আল মামুনের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে বাদীর ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পক্ষে বাদীর কাছে সুনির্দিষ্ট ভিডিও, স্ক্রিনশট ও অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষিত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী সাহেব আলী বলেন, সামাজিকভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এই ব্ল্যাকমেলিং চালিয়ে আসছিল। বাধ্য হয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির জানান, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং মানহানির অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।