কার্টুন দেখতে কার না ভালো লাগে? কার্টুনের কাঠবিড়ালীগুলোকে দেখলে তো চোখ জুড়িয়ে যায়! একটু খেয়াল করেছ কী হয় কার্টুনে? একটা মিষ্টি কাঠবিড়ালী দু’গালে বাদাম পুরে গোলুমোলু হয়ে বসে খটখট শব্দে শক্ত আখরোট বা কাঠবাদাম ভেঙে খাচ্ছে।
এই দৃশ্য দেখে আমাদের সবার মনেই একটা পাকাপোক্ত বিশ্বাস বসে গেছে যে, কাঠবিড়ালী মানেই হলোÑ বাদামখোর! কিন্তু আজ শোনো একটি সিক্রেট। আমরা যা ভাবি, আসল সত্যটা তার থেকে আলাদা! তাহলে আসল সত্যটা কী? কাঠবিড়ালীরা কি বাদাম খেতেই পারে না? না, একদম তা নয়! বাদাম পেলে তারা সেটা খাবে ঠিকই, কিন্তু ওটা তাদের প্রিয় খাবার নয়। কাঠবিড়ালীদের সবচেয়ে পছন্দের খাবার হলোÑ হরেক রকমের রসালো ফল, গাছের সুস্বাদু বীজ এবং নানা রঙের টক-মিষ্টি বেরি জাতীয় ফল।
বনের গাছে গাছে ঘুরে পাকা ফল খাওয়া আর তার মিষ্টি রস উপভোগ করাটাই তাদের আসল শখ। শুধু কি তাই? সুযোগ পেলে দুষ্টু কাঠবিড়ালীরা গাছের কোটরে থাকা পাখির ডিম কিংবা ছোট ছোট পোকামাকড়ও বেশ আরামে সাবাড় করে দেয়! ভাবা যায়? এরা যে আসলে সর্বভুক স্বভাবের, তা কি আমরা অনেকেই জানতাম? তাহলে প্রশ্ন জাগতে পারে, গল্পের বইয়ে বা কার্টুনে সব সময় ওদের বাদাম নিয়েই এত মাতামাতি কেন দেখা যায়?
এর পেছনেও আছে এক কারণ। ঠান্ডা দেশে শীতে যখন চারপাশ বরফে ঢেকে যায় কিংবা গাছপালা শুকিয়ে খাবার একেবারে ফুরিয়ে আসে, তখন খাবারের বড্ড সংকট দেখা দেয়। এই ঠান্ডার কথা ভেবেই চালাক কাঠবিড়ালীরা আগেভাগে বাদাম, বীজ বা শক্ত ফলগুলো কুড়িয়ে আনে। এরপর নিজের ছোট্ট হাত দুটো দিয়ে মাটিতে গর্ত করে বা গাছের ফাঁপা কোটরে সেই খাবারগুলো লুকিয়ে বা পুঁতে রাখে।
একে বলে তাদের ভবিষ্যতের সঞ্চয়। পরে শীতের দিনে যখন পেটে ভীষণ ক্ষিদে পায়, তখন তারা মাটি খুঁড়ে সেই জমানো বাদামগুলো বের করে খায়।





















