আজ শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৬ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১৮%

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অসংখ্য গর্ত, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:38:12 pm, Saturday, 19 September 2026
  • 12

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অসংখ্য গর্ত, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও গভীর ক্ষত। ভাঙা এসব অংশে ইট-খোয়া ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার পাশাপাশি কিছু কিছু গর্তে জমে রয়েছে বৃষ্টির পানি। আর এই চরম ঝুঁকিপূর্ণ খানাখন্দের ওপর দিয়েই প্রতিনিয়ত চলাচল করছে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান।

গর্তে পড়ে গাড়ির নিচের অংশে ধাক্কা লাগছে। গতি কমিয়ে, কখনো লেন পরিবর্তন করে এগোতে হচ্ছে চালকদের। কোনো গাড়ি বিকল হয়ে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে পড়লেই পেছনে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশের চিত্র এটি। প্রায় এক বছর ধরে ধীরে ধীরে গর্ত তৈরি হলেও স্থায়ীভাবে সংস্কার না হওয়ায় সড়কের ক্ষত বাড়ছে।

কোথাও সাময়িকভাবে ইট-খোয়া ফেলে গর্ত ভরাট করা হলেও তা টিকছে না। বৃষ্টির পানি ও ভারী যানবাহনের চাপে কয়েক দিনের মধ্যেই আবার ভেঙে যাচ্ছে সংস্কার করা অংশ। বিশেষ করে মাওনা চৌরাস্তা থেকে জৈনা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকায় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙাচোরা অবস্থা দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, এই অংশে দিন-রাত যানজটের চাপ তৈরি হচ্ছে।

বৃষ্টির সময় ভোগান্তি আরও বাড়ছে। গর্তে পড়ে যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন চালক ও যাত্রীরা। মহাসড়কের এই পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে গর্তগুলো ছোট ছিল। সময়মতো স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় সেগুলো বড় হয়েছে। পাশাপাশি নতুন নতুন গর্তও তৈরি হয়েছে। এখন সড়কের বিভিন্ন অংশে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলো ছড়িয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি তোলা ছবিতে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশের ভাঙন ও সংস্কারের চিত্র দেখা যায়। কোথাও পিচ উঠে গিয়ে খোয়া বেরিয়ে এসেছে। কোথাও সড়কের মাঝ বরাবর লম্বা ক্ষত তৈরি হয়েছে। আবার কোথাও ইট বিছিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সেই সংস্কারের পাশেই ভেঙে পড়েছে সড়কের পিচের অংশ। একটি ছবিতে সড়কের ওপর পাশাপাশি কয়েকটি গর্তে পানি জমে থাকতে দেখা যায়।

আশপাশে ছড়িয়ে আছে ভাঙা পিচ, ইট ও খোয়া। এসব গর্ত দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। অন্য দিকে মহাসড়কের এম.সি বাজার এলাকায় দেখা যায়, সড়কের দীর্ঘ একটি অংশে ইট বিছানো হলেও সংস্কার করা অংশের ভেঙে গেছে, তৈরি হয়েছে আরও বড় বড় গর্ত। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মাঝেমধ্যে ইট ও খোয়া ফেলে সাময়িকভাবে মেরামত করা হয়। কিন্তু ভারী যানবাহনের চাপ ও বৃষ্টির কারণে তা বেশিদিন টেকে না।

ফলে একই জায়গায় বারবার সংস্কারের প্রয়োজন হচ্ছে। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের স্থায়ী সংস্কার না হলে এই সমস্যা চলতেই থাকবে বলে মনে করছেন তারা। তাদের দাবি, গর্ত ভরাটের পাশাপাশি সড়কের নিচের কাঠামো, পানি নিষ্কাশন ও সংস্কারকাজের মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে।

গর্তের কারণে এসব গাড়িকে অনেক জায়গায় ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। পরিবহন চালক রাশিদুল ইসলাম বলেন, গভীর গর্তে চাকা পড়ে গেলে গাড়ির নিচের অংশ সড়কের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে চাকা, সাসপেনশন ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বৃষ্টির পানিতে গর্ত ঢেকে গেলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। গর্ত এড়িয়ে চলার সময় অনেক চালককে লেন পরিবর্তন করতে হয়।

এতে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। কোনো গাড়ি গর্তে পড়ে বিকল হলে মহাসড়কের ওপরই যানজট তৈরি হয়। পেছনে জমে যায় অন্যান্য যানবাহন। মোটরসাইকেল আরোহীদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি রয়েছে। পানিতে ঢাকা গর্তে চাকা পড়ে ভারসাম্য হারানোর আশঙ্কা থাকে। তবে মহাসড়কের এই অংশে দুর্ঘটনার দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে। মাওনা চৌরাস্তা থেকে জৈনা বাজার পর্যন্ত অংশে যানবাহনের চাপ বেশি।

শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে পণ্যবাহী গাড়িও চলাচল করে। সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত থাকায় গাড়ির গতি কমে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকায় দিন-রাত যানজটের চাপ দেখা যাচ্ছে। কোনো গাড়ি গর্তে পড়ে বিকল হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এই যানজটের কারণে যাত্রীদের সময় নষ্ট হচ্ছে।

পণ্য পরিবহনে বাড়ছে সময় ও ব্যয়। চালকদের দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকতে হচ্ছে। মহাসড়কের বেহাল অবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে জরুরি মেরামতের কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু, সাময়িক সংস্কারের বাইরে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর কাজ এগোচ্ছে না।

কোথাও মেরামত করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যে তা আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি যখন না থাকবে তখন কাজ করার কথা থাকলেও শুকনা মৌসুমেও কোন কাজ হচ্ছে না। এ নিয়ে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ-এ একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পরও মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে স্থায়ী সংস্কারের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা রয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের রক্ষণাবেক্ষণে নিয়মিত পরিদর্শন, ক্ষতি শনাক্তকরণ ও পরিকল্পিত সংস্কার প্রয়োজন।

একই জায়গায় বারবার সাময়িক সংস্কার করতে হলে কাজের স্থায়িত্ব ও ক্ষতির মূল কারণ পর্যালোচনা করা দরকার। মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, পুলিশ সবসময় যানজট নিরেশনের কাজ করছে। মহা সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ার কারণে যানজটের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মহাসড়ক স্থায়ী সংস্কার করা জরুরী প্রয়োজন। গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, মহাসড়কের ছোট ছোট গর্ত মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে।

তবে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে পূর্ণমাত্রায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এরপরও জরুরি ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বৃষ্টির মধ্যেই মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ককে স্থায়ীভাবে নিরাপদ ও চলাচলের উপযোগী করতে টেন্ডারের মাধ্যমে দুই ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি থেমে আবহাওয়া অনুকূলে এলে স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু হবে।

তখন ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো টেকসইভাবে সংস্কার করা হবে। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক রাজধানীর সঙ্গে গাজীপুরসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন এই পথ ব্যবহার করে। শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পণ্য পরিবহনেও মহাসড়কটির গুরুত্ব রয়েছে। এই মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় এর প্রভাব পড়ছে জনজীবনে।

যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে মালিকদের বাড়তি ব্যয় হয়। যানজটে যাত্রীদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, পণ্য পরিবহনে সময় বাড়ে। একই সঙ্গে সড়কের গর্তকে কেন্দ্র করে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, সাময়িকভাবে গর্ত ভরাটের পরিবর্তে মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হোক।

পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং সংস্কারকাজের মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক নিরাপদ ও সচল রাখা জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত ও টেকসইভাবে সংস্কার করা জরুরি। মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, মানসম্মত নির্মাণকাজ ও কার্যকর তদারকি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

রাজশাহীর বাগমারায় ১০ দিন ধরে নিখোঁজ একই পরিবারের দুই গৃহবধূ

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অসংখ্য গর্ত, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

Update Time : 01:38:12 pm, Saturday, 19 September 2026

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও গভীর ক্ষত। ভাঙা এসব অংশে ইট-খোয়া ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার পাশাপাশি কিছু কিছু গর্তে জমে রয়েছে বৃষ্টির পানি। আর এই চরম ঝুঁকিপূর্ণ খানাখন্দের ওপর দিয়েই প্রতিনিয়ত চলাচল করছে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান।

গর্তে পড়ে গাড়ির নিচের অংশে ধাক্কা লাগছে। গতি কমিয়ে, কখনো লেন পরিবর্তন করে এগোতে হচ্ছে চালকদের। কোনো গাড়ি বিকল হয়ে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে পড়লেই পেছনে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশের চিত্র এটি। প্রায় এক বছর ধরে ধীরে ধীরে গর্ত তৈরি হলেও স্থায়ীভাবে সংস্কার না হওয়ায় সড়কের ক্ষত বাড়ছে।

কোথাও সাময়িকভাবে ইট-খোয়া ফেলে গর্ত ভরাট করা হলেও তা টিকছে না। বৃষ্টির পানি ও ভারী যানবাহনের চাপে কয়েক দিনের মধ্যেই আবার ভেঙে যাচ্ছে সংস্কার করা অংশ। বিশেষ করে মাওনা চৌরাস্তা থেকে জৈনা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকায় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙাচোরা অবস্থা দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, এই অংশে দিন-রাত যানজটের চাপ তৈরি হচ্ছে।

বৃষ্টির সময় ভোগান্তি আরও বাড়ছে। গর্তে পড়ে যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন চালক ও যাত্রীরা। মহাসড়কের এই পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে গর্তগুলো ছোট ছিল। সময়মতো স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় সেগুলো বড় হয়েছে। পাশাপাশি নতুন নতুন গর্তও তৈরি হয়েছে। এখন সড়কের বিভিন্ন অংশে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলো ছড়িয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি তোলা ছবিতে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশের ভাঙন ও সংস্কারের চিত্র দেখা যায়। কোথাও পিচ উঠে গিয়ে খোয়া বেরিয়ে এসেছে। কোথাও সড়কের মাঝ বরাবর লম্বা ক্ষত তৈরি হয়েছে। আবার কোথাও ইট বিছিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সেই সংস্কারের পাশেই ভেঙে পড়েছে সড়কের পিচের অংশ। একটি ছবিতে সড়কের ওপর পাশাপাশি কয়েকটি গর্তে পানি জমে থাকতে দেখা যায়।

আশপাশে ছড়িয়ে আছে ভাঙা পিচ, ইট ও খোয়া। এসব গর্ত দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। অন্য দিকে মহাসড়কের এম.সি বাজার এলাকায় দেখা যায়, সড়কের দীর্ঘ একটি অংশে ইট বিছানো হলেও সংস্কার করা অংশের ভেঙে গেছে, তৈরি হয়েছে আরও বড় বড় গর্ত। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মাঝেমধ্যে ইট ও খোয়া ফেলে সাময়িকভাবে মেরামত করা হয়। কিন্তু ভারী যানবাহনের চাপ ও বৃষ্টির কারণে তা বেশিদিন টেকে না।

ফলে একই জায়গায় বারবার সংস্কারের প্রয়োজন হচ্ছে। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের স্থায়ী সংস্কার না হলে এই সমস্যা চলতেই থাকবে বলে মনে করছেন তারা। তাদের দাবি, গর্ত ভরাটের পাশাপাশি সড়কের নিচের কাঠামো, পানি নিষ্কাশন ও সংস্কারকাজের মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে।

গর্তের কারণে এসব গাড়িকে অনেক জায়গায় ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। পরিবহন চালক রাশিদুল ইসলাম বলেন, গভীর গর্তে চাকা পড়ে গেলে গাড়ির নিচের অংশ সড়কের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে চাকা, সাসপেনশন ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বৃষ্টির পানিতে গর্ত ঢেকে গেলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। গর্ত এড়িয়ে চলার সময় অনেক চালককে লেন পরিবর্তন করতে হয়।

এতে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। কোনো গাড়ি গর্তে পড়ে বিকল হলে মহাসড়কের ওপরই যানজট তৈরি হয়। পেছনে জমে যায় অন্যান্য যানবাহন। মোটরসাইকেল আরোহীদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি রয়েছে। পানিতে ঢাকা গর্তে চাকা পড়ে ভারসাম্য হারানোর আশঙ্কা থাকে। তবে মহাসড়কের এই অংশে দুর্ঘটনার দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে। মাওনা চৌরাস্তা থেকে জৈনা বাজার পর্যন্ত অংশে যানবাহনের চাপ বেশি।

শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে পণ্যবাহী গাড়িও চলাচল করে। সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত থাকায় গাড়ির গতি কমে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকায় দিন-রাত যানজটের চাপ দেখা যাচ্ছে। কোনো গাড়ি গর্তে পড়ে বিকল হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এই যানজটের কারণে যাত্রীদের সময় নষ্ট হচ্ছে।

পণ্য পরিবহনে বাড়ছে সময় ও ব্যয়। চালকদের দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকতে হচ্ছে। মহাসড়কের বেহাল অবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে জরুরি মেরামতের কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু, সাময়িক সংস্কারের বাইরে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর কাজ এগোচ্ছে না।

কোথাও মেরামত করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যে তা আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি যখন না থাকবে তখন কাজ করার কথা থাকলেও শুকনা মৌসুমেও কোন কাজ হচ্ছে না। এ নিয়ে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ-এ একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পরও মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে স্থায়ী সংস্কারের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা রয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের রক্ষণাবেক্ষণে নিয়মিত পরিদর্শন, ক্ষতি শনাক্তকরণ ও পরিকল্পিত সংস্কার প্রয়োজন।

একই জায়গায় বারবার সাময়িক সংস্কার করতে হলে কাজের স্থায়িত্ব ও ক্ষতির মূল কারণ পর্যালোচনা করা দরকার। মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, পুলিশ সবসময় যানজট নিরেশনের কাজ করছে। মহা সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ার কারণে যানজটের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মহাসড়ক স্থায়ী সংস্কার করা জরুরী প্রয়োজন। গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, মহাসড়কের ছোট ছোট গর্ত মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে।

তবে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে পূর্ণমাত্রায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এরপরও জরুরি ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বৃষ্টির মধ্যেই মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ককে স্থায়ীভাবে নিরাপদ ও চলাচলের উপযোগী করতে টেন্ডারের মাধ্যমে দুই ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি থেমে আবহাওয়া অনুকূলে এলে স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু হবে।

তখন ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো টেকসইভাবে সংস্কার করা হবে। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক রাজধানীর সঙ্গে গাজীপুরসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন এই পথ ব্যবহার করে। শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পণ্য পরিবহনেও মহাসড়কটির গুরুত্ব রয়েছে। এই মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় এর প্রভাব পড়ছে জনজীবনে।

যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে মালিকদের বাড়তি ব্যয় হয়। যানজটে যাত্রীদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, পণ্য পরিবহনে সময় বাড়ে। একই সঙ্গে সড়কের গর্তকে কেন্দ্র করে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, সাময়িকভাবে গর্ত ভরাটের পরিবর্তে মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হোক।

পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং সংস্কারকাজের মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক নিরাপদ ও সচল রাখা জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত ও টেকসইভাবে সংস্কার করা জরুরি। মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, মানসম্মত নির্মাণকাজ ও কার্যকর তদারকি।