ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা ভূমি অফিসে জমির নামজারি করতে গিয়ে সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ জমি বিক্রেতাকে হেনস্তা, গালাগাল ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অফিসটির নাজির মো. মোশাররফ হোসেন মনিরের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। ভুক্তভোগী মোতালেবের অভিযোগ, গোলকপুর মৌজার আট শতক জমি হাবিবুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রির জন্য কিছুদিন আগে উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির মোশাররফ হোসেন মনিরের উপস্থিতিতে এক লাখ টাকা বায়না নেন তিনি।
জমিটির নামজারি সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফটোকপি নাজির মনিরের কাছে জমা দেন। মোতালেবের দাবি, গত ১০ সেপ্টেম্বর নামজারির কাগজ সংগ্রহ করতে ভূমি অফিসে গেলে নাজির মনির তাকে বায়নাকারীর টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দেন এবং অফিসে আটকে রাখেন। তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য কিছু সময় প্রার্থনা করলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়।
একপর্যায়ে তার কলার ধরে রুমের দরজা বন্ধ করে মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ওই বৃদ্ধ। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে গিয়ে একজন প্রবীণ নাগরিকের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, তজুমদ্দিন উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী মো. মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তজুমদ্দিন উপজেলার ৩ নম্বর চাঁদপুর ইউনিয়নের কাটালিয়াপলি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো.আবুল কাশেম ভূমি মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠপ্রশাসন-৩ শাখা থেকে গত ৩১ আগস্ট ভোলা জেলা প্রশাসককে বিষয়টি তদন্ত করে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (এম কে হাসান মোহাম্মদ) স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে অভিযোগে বর্ণিত বিষয়গুলো তদন্তের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। অভিযোগকারী আবুল কাশেম বলেন, তিনি তার অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চান। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। অন্যদিকে, নাজির মো. মোশাররফ হোসেন মনির বায়নাকারী হাবিবুল্লাহর সঙ্গে তার আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
তার ভাষ্য, জমি নিয়ে ঝামেলা থাকায় তিনি তার আত্মীয়কে টাকা ফেরত দিতে বলেছেন। তবে বৃদ্ধ মোতালেবকে গালাগাল, আটকে রাখা কিংবা মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বনি আমিন বলেন, অফিসের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের আচরণ করে থাকলে এবং এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার না হন, সে জন্য অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।



















