মিলেনিয়াল জেনারেশন হলো সেই প্রজন্ম যারা ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে, অপরদিকে জেন জি বা জেনারেশন জেড হলো ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী প্রজন্ম।
এক প্রজন্মের শেষ থেকেই অপর প্রজন্মের শুরু। দুই প্রজন্মের জীবনধারণ পদ্ধতি, বৈশিষ্ট্য, লক্ষ্য ভিন্ন ভিন্ন। মিলেনিয়াল প্রজন্মের ব্যক্তিরা প্রায়শই ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করেন, পারিশ্রমিক ছাড়াও তারা কাজের পরিবেশ, মানসিক শান্তি এবং স্বাধীনতার ওপর বেশি জোর দেন। অফিসের ধরাবাঁধা নিয়মে আবদ্ধ না থেকে তারা ফলের ওপর ভিত্তি করে কাজের মূল্যায়ন করে থাকেন।
নিয়মিত ফিডব্যাক বা মূল্যায়নে তারা অধিক বিশ্বাসী। পদমর্যাদার চেয়ে কর্মপরিবেশ যেন উন্মুক্ত ও বৈষম্যহীন হয় সেক্ষেত্রে মিলেনিয়ালরা অধিক গুরুত্ব দেয়। অফিসে অকারণে সময় দেওয়া তাদের অপছন্দ বরং ওই সময়টুকু তারা তাদের পরিবারের সঙ্গে কাটাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। মিলেনিয়ালরা দ্রুত দক্ষতা বৃদ্ধিতে আগ্রহী এবং মেন্টরশিপে যথেষ্ট পটু।
অপরদিকে জেন জি বা জেনারেশন জেডের কাজের ধরন প্রচলিত কর্মপদ্ধতি থেকে আলাদা। এই প্রজন্মের ব্যক্তিগণ কর্ম ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং নারী-পুরুষ সমানাধিকারে বিশ্বাসী। জেন জিরা প্রচ- প্রযুক্তিনির্ভরশীল। এরা কঠোর পরিশ্রমের পরিবর্তে বুদ্ধিদীপ্ত কাজে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। ডিজিটাল টুল, এআই এবং মডার্ন টেকনোলজি ব্যবহার করে যেকোনো সমস্যা খুব সহজেই সমাধান করে ফেলে।
তারা সমানাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এই প্রজন্মের ব্যক্তিগণের কাছে মানসিক শান্তির প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি। অতিরিক্ত কাজের চাপ তারা সহজে মেনে নিতে পারে না। জেন জিরা তাদের কাজের প্রতি যথেষ্ট দায়বদ্ধ। তারা শুধু অর্থ উপার্জনে নয় বরং পরিবেশ, মূল্যবোধ, কর্মক্ষেত্রে কাজের প্রভাব সকল দিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
বর্তমান প্রজন্মের জেন জিরা মুক্তচিন্তার অধিকারী এবং স্বাধীনচেতা। তাদের চাকরি করার থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে ঝোঁক বেশি। তারা নতুন কিছু করতে চায়, নতুনভাবে নিজেদের প্রকাশ করতে চায়, সেজন্য প্রতিনিয়ত তারা নতুন নতুন জিনিস নিয়ে ভাবে, নতুন কিছু উদ্ভাবন করার চেষ্টা করে এবং অন্যদেরও উৎসাহিত করে নতুন বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে। জেন জিরা ধরা বাঁধা নিয়ম বা অন্যকারো অধীনস্থ থাকতে চায় না।
মূলত সেজন্যই তাদের চাকরির প্রতি ঝোঁক কিছুটা কম। যেহেতু এই প্রজন্মের বেশিরভাগেরই চিন্তাভাবনা একই রকম, তাই তাদের লক্ষ্যে পৌঁছানো বর্তমানে কিছুটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক এই প্রজন্মে যাদের চিন্তা চেতনা কিছুটা অনন্য তারাই কেবল তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে। অপরদিকে বেশকিছু সংখ্যক জনগোষ্ঠী অসামঞ্জস্য, বিশৃঙ্খল কার্যক্রমের মাধ্যমে শুধু নিজেদের পরিচিতি তৈরি করতে চাচ্ছে এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চাচ্ছে।
এক্ষেত্রে আমরা বর্তমান প্রজন্মে সম্প্রতি গড়ে উঠা ব্লগিংয়ের কথা উল্লেখ করতে পারি, যেখানে ৩৫ শতাংশ সামঞ্জস্যপূর্ণ ও শিক্ষামূলক এবং বাকি ৬৫ শতাংশ বিশৃঙ্খল ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এই ৬৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী শুধুমাত্র নিজেদের পরিচিতি গড়তে এবং অর্থ উপার্জনের তাড়নায় অসামঞ্জস্য কনটেন্ট তৈরি করেন। জেন জিরা বস হিসেবে যথেষ্ট দয়ালু এবং সহযোগী।
তারা কর্মচারীদের মৌলিক অধিকারগুলোর প্রতি যতœশীল। অপরদিকে, মিলেনিয়ালরা নিখুঁত ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের তুলনায় স্থায়িত্বকে অধিক প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। যেহেতু নিজ উদ্যোগে কিছু করায় সাফল্য পাওয়ার একটা ঝুঁকি থাকে, সেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা এসব ঝুঁকি নিতে সংকোচ বোধ করেন। তাদের ধারণা অনুসারে, ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে স্থায়ী একটি কর্মস্থলে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করা অধিক লাভজনক।
মিলেনিয়ালরা কর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং নমনীয়। তারা কর্মীদের ওভারটাইম করার চেয়ে নির্দিষ্ট সময়ে সর্বোচ্চ আউটপুট দিতে উৎসাহিত করেন। মিলেনিয়ালরা প্রাতিষ্ঠানিক দূরত্বের চেয়ে খোলামেলা আলোচনায় অধিক বিশ্বাসী। এই প্রজন্মের জনগোষ্ঠীরা কর্পোরেট জগতের বড় একটি অংশের চালিকাশক্তি। পরিশেষে বলা যায়, মিলেনিয়াল ও জেন জি দুটি দুই প্রজন্ম।
তাদের জন্মসাল, প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা , ফ্যাশন সেন্স, মানসিকতা দুই রকম। কর্মক্ষেত্রেও এই পার্থক্য বিদ্যমান। যেখানে মিলেনিয়ালরা প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাক্ষী, সেখানে জেন জিরা সরাসরি আধুনিক যুগের বাসিন্দা। মিলেনিয়ালরা কর্মক্ষেত্রে স্থিতিশীলতাকে প্রাধান্য দেয় যেখানে জেন জিরা নিজেদের পছন্দের কাজের পেছনে বেশি ছুটে। মিলেনিয়ালরা এমন কাজ করতে চায় যার একটি ভালো উদ্দেশ্য আছে।
তারা কাজের পাশাপাশি স্বাধীনতা পছন্দ করে। অন্যদিকে জেন জিরা চায় কাজের জায়গায় যেন তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের যতœ নেওয়া হয়। তারা এমন পরিবেশ চায় যেখানে সবাই সবাইকে সম্মান করবে। যদিও দুই প্রজন্ম দুই রকম, তবুও তারা তাদের কাজের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নতুন নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তির দ্বারা দেশকে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করছে।
দুই প্রজন্মেরই সামাজিক সচেতনতা অনেক বেশি। উভয় প্রজন্মই সমাজ, রাষ্ট্র, দেশের কল্যাণে কাজ করছে। সর্বোপরি, দুই প্রজন্মের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ এগিয়ে যাক এটাই কাম্য।



















