আজ সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬৫%

ফিলিপাইনে ফেরিতে অগ্নিকাণ্ড: নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:42:19 am, Sunday, 13 September 2026
  • 17

ফিলিপাইনে ফেরিতে অগ্নিকাণ্ড: নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ফিলিপাইনে এমভি জুন অ্যাস্টার নামের ফেরিতে গত বুধবার যে অগ্নিকাণ্ড ঘটে, তাতে মৃত বেড়ে ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ফেরির ধ্বংসাবশেষ থেকে তারা আরও ৩০টি মরদেহ উদ্ধার করার পর মৃতের সংখ্যা বেড়েছে।

ফেরিটিতে ১৩০ জনের বেশি যাত্রী ছিল। ম্যানিলা থেকে যাত্রা করে পর্যটনকেন্দ্র করোনে পৌঁছানোর আগমুহূর্তে ফেরিটিতে আগুন লাগে। সেখান থেকে ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে অর্ধশতাধিক যাত্রী, তাদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ফেরিটির ভেতরে আরও মরদেহ রয়েছে।

বিষাক্ত ধোঁয়া ও দীর্ঘ সময় ধরে থাকা তাপের কারণে শুক্রবারের আগে তারা ফেরিটিতে উঠতে পারেনি। এক সংবাদ সম্মেলনে কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র কমোডর নোমি কায়াবায়াব বলেন, ২২ ঘণ্টার যাত্রায় থাকা ফেরিটির ঘুমানোর জায়গা থেকে বেশির ভাগ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কায়াবায়াব বলেন, ‘প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী মরদেহগুলো যথাযথভাবে উদ্ধার ও শনাক্ত করার কাজ বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিচালনা করছে।

’ তিনি বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর শোক আমরা অনুভব করছি। ’ এর আগে কোস্ট গার্ড জানিয়েছিল, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে তারা জেনেছেন, ফেরিটির কার্গো হোল্ডে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। তারা আরও জানিয়েছেন, কয়েকজন যাত্রী লাইফ ভেস্ট পরা ছিলেন না। বেঁচে যাওয়া একজন বিবিসিকে বলেন, আগুন লাগার পর ফেরির ভেতর তিনি আতঙ্কিত মানুষের চিৎকার শুনেছিলেন।

পালানোর চেষ্টা করার সময় আতঙ্কিত মানুষের পদদলিতও হন তিনি। ফেরিটিতে আগুন লাগার ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্ত করছে ফিলিপাইনের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ। ২০০২ সালে নির্মিত ফেরিটির বৈধ নিরাপত্তা সনদ ছিল এবং মার্চে নিয়মিত পরিদর্শনেও উত্তীর্ণ হয়েছিল। তবে যাত্রী তালিকায় কোনো অসংগতি ছিল কি না, কার্গো যথাযথভাবে তোলা হয়েছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ক্রুদের সাড়া দেওয়ার নিয়মকানুন যথাযথ ছিল কি নাÑ এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে খবর দিয়েছে পালাওয়ান ডেইলি।

ফেরিটিতে ১১৭ জন যাত্রী এবং ১৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। ফেরিটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আতিয়েনজা ইন্টারআইল্যান্ড ফেরিজ তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘আমাদের হৃদয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে রয়েছে এবং সব ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ফিলিপাইনে ফেরিতে অগ্নিকাণ্ড: নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে

Update Time : 07:42:19 am, Sunday, 13 September 2026

ফিলিপাইনে এমভি জুন অ্যাস্টার নামের ফেরিতে গত বুধবার যে অগ্নিকাণ্ড ঘটে, তাতে মৃত বেড়ে ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ফেরির ধ্বংসাবশেষ থেকে তারা আরও ৩০টি মরদেহ উদ্ধার করার পর মৃতের সংখ্যা বেড়েছে।

ফেরিটিতে ১৩০ জনের বেশি যাত্রী ছিল। ম্যানিলা থেকে যাত্রা করে পর্যটনকেন্দ্র করোনে পৌঁছানোর আগমুহূর্তে ফেরিটিতে আগুন লাগে। সেখান থেকে ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে অর্ধশতাধিক যাত্রী, তাদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ফেরিটির ভেতরে আরও মরদেহ রয়েছে।

বিষাক্ত ধোঁয়া ও দীর্ঘ সময় ধরে থাকা তাপের কারণে শুক্রবারের আগে তারা ফেরিটিতে উঠতে পারেনি। এক সংবাদ সম্মেলনে কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র কমোডর নোমি কায়াবায়াব বলেন, ২২ ঘণ্টার যাত্রায় থাকা ফেরিটির ঘুমানোর জায়গা থেকে বেশির ভাগ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কায়াবায়াব বলেন, ‘প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী মরদেহগুলো যথাযথভাবে উদ্ধার ও শনাক্ত করার কাজ বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিচালনা করছে।

’ তিনি বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর শোক আমরা অনুভব করছি। ’ এর আগে কোস্ট গার্ড জানিয়েছিল, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে তারা জেনেছেন, ফেরিটির কার্গো হোল্ডে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। তারা আরও জানিয়েছেন, কয়েকজন যাত্রী লাইফ ভেস্ট পরা ছিলেন না। বেঁচে যাওয়া একজন বিবিসিকে বলেন, আগুন লাগার পর ফেরির ভেতর তিনি আতঙ্কিত মানুষের চিৎকার শুনেছিলেন।

পালানোর চেষ্টা করার সময় আতঙ্কিত মানুষের পদদলিতও হন তিনি। ফেরিটিতে আগুন লাগার ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্ত করছে ফিলিপাইনের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ। ২০০২ সালে নির্মিত ফেরিটির বৈধ নিরাপত্তা সনদ ছিল এবং মার্চে নিয়মিত পরিদর্শনেও উত্তীর্ণ হয়েছিল। তবে যাত্রী তালিকায় কোনো অসংগতি ছিল কি না, কার্গো যথাযথভাবে তোলা হয়েছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ক্রুদের সাড়া দেওয়ার নিয়মকানুন যথাযথ ছিল কি নাÑ এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে খবর দিয়েছে পালাওয়ান ডেইলি।

ফেরিটিতে ১১৭ জন যাত্রী এবং ১৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। ফেরিটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আতিয়েনজা ইন্টারআইল্যান্ড ফেরিজ তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘আমাদের হৃদয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে রয়েছে এবং সব ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।