ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক বোলারের জন্য এমনিতেই এক বিরল কীর্তি। তবে সেই হ্যাটট্রিক যদি পরপর দুটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে অর্জিত হয়, তবে তা জায়গা করে নেয় ক্রিকেট ইতিহাসে। সাসেক্সের ২৪ বছর বয়সি পেসার হেনরি ক্রোকোম্বে ঠিক এই অনন্য অর্জনই করে দেখিয়েছেন।
মাত্র আট দিনের ব্যবধানে দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই বিরল কীর্তির সপ্তম মালিক হয়েছেন তিনি। ক্রোকোম্বের প্রথম হ্যাটট্রিকটি আসে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে সমারসেটের বিপক্ষে। ম্যাচটি ড্র হলেও সাসেক্সের হয়ে দারুণ আলো ছড়ান এই পেসার। সমারসেটের প্রথম ইনিংসের ৫৮তম ওভারে পরপর তিন বলে তিন উইকেট তুলে নেন তিনি। চতুর্থ বলে ক্রেইগ ওভারটনকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন ক্রোকোম্বে।
এরপর শেষ দুই বলে মিগেল প্রিটোরিয়াস ও জ্যাক লিচকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। সেই ইনিংসে ১৪ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন ক্রোকোম্বে। চলতি মৌসুমে এটি ছিল তার তৃতীয় পাঁচ উইকেট শিকার। সমারসেটের বিপক্ষে সেই কীর্তির মাত্র আট দিন পরই আবারও হ্যাটট্রিক। পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ এসেক্স। এবারও এসেক্সের প্রথম ইনিংসে পরপর তিন বলে উইকেট নিয়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম আরও গাঢ় করে লেখেন ক্রোকোম্বে।
তার বিধ্বংসী বোলিংয়ে এসেক্সের ইনিংসও যেন চোখের পলকে ধসে পড়ে। ৩ উইকেটে ১৭১ রান থেকে মাত্র ২৬ বলের ব্যবধানে ১৭৭ রানে অলআউট হয়ে যায় এসেক্স। এই ধসের সময় মাত্র ১৪ বলের মধ্যে ৫ উইকেট নেন ক্রোকোম্বেÑখরচ করেননি একটি রানও। শেষ পর্যন্ত তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৯.৫-১-৩৯-৫। ক্রিকেট পরিসংখ্যানবিদ অ্যান্ড্রু স্যামসনের হিসাবে, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পরপর দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিকের ঘটনা এর আগে ঘটেছে মাত্র ছয়বার।
ক্রোকোম্বে হলেন সপ্তম। ১৮৬৮ সালে ইংলিশ পেসার জর্জ ফ্রিম্যান প্রথমবার এই কীর্তি গড়েছিলেন। এরপর জোগিন্দর রাও (১৯৬৩), মাইক প্রক্টর (১৯৭৯), ডিন হ্যাডলি (১৯৯৬), ওয়াসিম আকরাম (১৯৯৯) ও দীপক ধাপোলা (২০২৪) এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। কিংবদন্তি মুত্তিয়া মুরালিধরন, কার্টলি অ্যামব্রোস, অ্যালান ডোনাল্ড, কোর্টনি ওয়ালশ কিংবা ডেল স্টেইনের মতো বোলারদেরও পেশাদার ক্যারিয়ারে হ্যাটট্রিক নেই।
সেই তালিকায় ক্রোকোম্বের নাম না থাকলেও তার সাম্প্রতিক কীর্তি তাকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের বিরল এক রেকর্ডের মালিক করে তুলেছে। চলতি মৌসুমে ক্রোকোম্বের বোলিংও বেশ ধারালো। এখন পর্যন্ত ৩৮ উইকেট নিয়েছেন তিনি, গড় ২৩.১৫। সব মিলিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার ম্যাচসংখ্যা ৫০। তবে এখনো ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হয়নি। গত জুনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ইংল্যান্ডের দলে জরুরি ভিত্তিতে ডাক পেয়েছিলেন ক্রোকোম্বে।
বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসন শৃঙ্খলাজনিত কারণে বাদ পড়ায় সেই সুযোগ এসেছিল তার সামনে। এবার সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে দলেও তাকে দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ। তবে সাসেক্সের সঙ্গে তার অধ্যায় শেষ হচ্ছে মৌসুম শেষে। নতুন মৌসুমে সারেতে পাড়ি জমাবেন ক্রোকোম্বে। এর আগে অবশ্য আট দিনের ব্যবধানে দুই হ্যাটট্রিকের মতো বিরল কীর্তি দিয়ে নিজের নামটা বেশ জোরেশোরেই জানান দিয়ে রাখলেন এই তরুণ পেসার।
















