আজ সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

রংপুরে চার খুন: ডোপ টেস্টে দুই আসামির শরীরে মেলেনি মাদক

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:01:26 pm, Monday, 31 August 2026
  • 9

রংপুরে চার খুন: ডোপ টেস্টে দুই আসামির শরীরে মেলেনি মাদক

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাদের শরীরে মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ মেলেনি। এর ফলে হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিরা ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে পুলিশের তদন্তে যে দাবি করা হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

রোববার দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের একটি দল।

আসামিদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারাগারেই নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে ডোপ টেস্টের জন্য টেকনোলজিস্ট পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কাছে অনুরোধ জানায় ডিবি। অনুমতি পাওয়ার পর রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে যায় ডিবির দল।

রংপুর মেডিকেল কলেজের টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, ‘ডোপ টেস্টের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ইউরিন স্পেসিমেন বা প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে নমুনাগুলো ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে তাদের মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আসামিদের ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়। টেকনোলজিস্টকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে গিয়ে তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মাদক সেবনের প্রমাণ মেলেনি।’

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা, ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলায় এবং বাধা দেওয়ায় প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। পুলিশ আরও দাবি করে, হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিরা ইয়াবা সেবন করেছিলেন।

গ্রেপ্তারের পর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। একই ঘটনায় দুই সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তবে এখন ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসায় হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিদের মাদক সেবনের দাবি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। যদিও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডোপ টেস্টের ফলাফল দিয়ে পুরো হত্যাকাণ্ডের তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনাস্থলের আলামত, আসামিদের জবানবন্দি, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য ফরেনসিক ও পারিপার্শ্বিক তথ্যও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

চার খুনের মতো চাঞ্চল্যকর মামলায় পুলিশের বক্তব্য ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে এই পার্থক্য তদন্তকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং আসামিদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের পরবর্তী ধাপের দিকে এখন নজর রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

দেশে একদিনে ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,১৬৩

রংপুরে চার খুন: ডোপ টেস্টে দুই আসামির শরীরে মেলেনি মাদক

Update Time : 06:01:26 pm, Monday, 31 August 2026

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাদের শরীরে মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ মেলেনি। এর ফলে হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিরা ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে পুলিশের তদন্তে যে দাবি করা হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

রোববার দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের একটি দল।

আসামিদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারাগারেই নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে ডোপ টেস্টের জন্য টেকনোলজিস্ট পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কাছে অনুরোধ জানায় ডিবি। অনুমতি পাওয়ার পর রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে যায় ডিবির দল।

রংপুর মেডিকেল কলেজের টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, ‘ডোপ টেস্টের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ইউরিন স্পেসিমেন বা প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে নমুনাগুলো ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে তাদের মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আসামিদের ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়। টেকনোলজিস্টকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে গিয়ে তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মাদক সেবনের প্রমাণ মেলেনি।’

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা, ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলায় এবং বাধা দেওয়ায় প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। পুলিশ আরও দাবি করে, হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিরা ইয়াবা সেবন করেছিলেন।

গ্রেপ্তারের পর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। একই ঘটনায় দুই সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তবে এখন ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসায় হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিদের মাদক সেবনের দাবি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। যদিও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডোপ টেস্টের ফলাফল দিয়ে পুরো হত্যাকাণ্ডের তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনাস্থলের আলামত, আসামিদের জবানবন্দি, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য ফরেনসিক ও পারিপার্শ্বিক তথ্যও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

চার খুনের মতো চাঞ্চল্যকর মামলায় পুলিশের বক্তব্য ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে এই পার্থক্য তদন্তকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং আসামিদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের পরবর্তী ধাপের দিকে এখন নজর রয়েছে।