আজ শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
১৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

শ্রেণিকক্ষ সংকটে খোলা মাঠে ছাপড়ায় চলছে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পাঠদান

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:03:32 pm, Friday, 28 August 2026
  • 15

শ্রেণিকক্ষ সংকটে খোলা মাঠে ছাপড়ায় চলছে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পাঠদান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তিতে খোলা মাঠে ছাপড়ায় চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। নেই বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থাও। শ্রেণিকক্ষ সংকট যেন পিছু ছাড়ছে না এ পাঠশালার। বাধ্য হয়ে স্কুল মাঠে একটি ছাপড়ার নিচে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে।

এনায়েতপুর থানার সীমান্তবর্তী লোচনাপাড়া গ্রামের প্রতিষ্ঠিত লোচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেল। এ দৃশ্য যে কারো হৃদয়ে নাড়া দিলেও সংশ্লিষ্টদের নজর কাড়েনি। এজন্যই দীর্ঘ ৮৫ বছরেও কোনো ভবন নির্মাণ না হওয়া একটি কক্ষে বসেই অফিস ও ক্লাসের কার্যক্রম চালাতে হয়। নেই কোনো সীমানা প্রচীর ও সুষ্ঠু যোগাযোগব্যবস্থাও।

শিক্ষকরা জানান, ১৯৪১ সালে শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের লোচনাপাড়া গ্রামের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধানসহ চার শিক্ষক মিলে শতাধিক শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাচ্ছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, সীমানা প্রাচীরসহ অন্যান্য সুযোগ না থাকায় চরম ভোগান্তি নিয়ে চলে পাঠদান কার্যক্রম।

২০২৪ সালে দ্বিতলবিশিষ্ট পাকা ভবন নির্মাণের বরাদ্দ হলে তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে পুরোনো টিনের ঘর নিলামে বিক্রি করা হয়। তবে ভবন নির্মাণের উপকরণ পরিবহনের উপযুক্ত যোগাযোগব্যবস্থা না থাকার অজুহাতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই ভবন নির্মাণের কাজ করেনি। বর্তমানে টিনের ঘরেই দুটি রুম ক্লাস ও অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

শ্রেণিকক্ষ সংকটে দিনদিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমছে। শিক্ষার্থী ছোয়াদ হোসেন, শারমিন খাতুন জানায়, শ্রেণিকক্ষের সংকটে খোলা আকাশের নিচে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। প্রচ- রোদ কিংবা বৃষ্টি দেখা দিলে ক্লাস বন্ধ রেখে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হই। দ্রুত পাকা ভবন নির্মাণের দাবি জানাই। ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ও সমাজকর্মী ফারুক রেজা জানান, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ধার করা টিন এনে ছাপড়া দিয়ে কোনোমতো ক্লাস চালু রাখা হয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া যাবে না।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ জানান, শ্রেণিকক্ষ সংকটে শিক্ষার্থী সংকুলান না হওয়ায় রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে পাঠদান ও শ্রেণিকক্ষেই অফিস করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘবে সংশ্লিষ্টদের কাছে বারবার ধর্ণা দিয়েও কোনো সুফল পাচ্ছি না। তবে শাহজদপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুরাদ হোসেন জানান, দুর্ভোগের চিত্র দেখে ভবন নির্মাণে ইতোমধ্যে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

আশা করছি দ্রুতই কাজ হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

হ্রদের তীর ভেঙে দ্বিতীয় দফা বন্যার ‘উচ্চ ঝুঁকি’, সতর্ক করল চীন

শ্রেণিকক্ষ সংকটে খোলা মাঠে ছাপড়ায় চলছে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পাঠদান

Update Time : 02:03:32 pm, Friday, 28 August 2026

কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তিতে খোলা মাঠে ছাপড়ায় চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। নেই বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থাও। শ্রেণিকক্ষ সংকট যেন পিছু ছাড়ছে না এ পাঠশালার। বাধ্য হয়ে স্কুল মাঠে একটি ছাপড়ার নিচে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে।

এনায়েতপুর থানার সীমান্তবর্তী লোচনাপাড়া গ্রামের প্রতিষ্ঠিত লোচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেল। এ দৃশ্য যে কারো হৃদয়ে নাড়া দিলেও সংশ্লিষ্টদের নজর কাড়েনি। এজন্যই দীর্ঘ ৮৫ বছরেও কোনো ভবন নির্মাণ না হওয়া একটি কক্ষে বসেই অফিস ও ক্লাসের কার্যক্রম চালাতে হয়। নেই কোনো সীমানা প্রচীর ও সুষ্ঠু যোগাযোগব্যবস্থাও।

শিক্ষকরা জানান, ১৯৪১ সালে শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের লোচনাপাড়া গ্রামের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধানসহ চার শিক্ষক মিলে শতাধিক শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাচ্ছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, সীমানা প্রাচীরসহ অন্যান্য সুযোগ না থাকায় চরম ভোগান্তি নিয়ে চলে পাঠদান কার্যক্রম।

২০২৪ সালে দ্বিতলবিশিষ্ট পাকা ভবন নির্মাণের বরাদ্দ হলে তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে পুরোনো টিনের ঘর নিলামে বিক্রি করা হয়। তবে ভবন নির্মাণের উপকরণ পরিবহনের উপযুক্ত যোগাযোগব্যবস্থা না থাকার অজুহাতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই ভবন নির্মাণের কাজ করেনি। বর্তমানে টিনের ঘরেই দুটি রুম ক্লাস ও অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

শ্রেণিকক্ষ সংকটে দিনদিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমছে। শিক্ষার্থী ছোয়াদ হোসেন, শারমিন খাতুন জানায়, শ্রেণিকক্ষের সংকটে খোলা আকাশের নিচে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। প্রচ- রোদ কিংবা বৃষ্টি দেখা দিলে ক্লাস বন্ধ রেখে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হই। দ্রুত পাকা ভবন নির্মাণের দাবি জানাই। ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ও সমাজকর্মী ফারুক রেজা জানান, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ধার করা টিন এনে ছাপড়া দিয়ে কোনোমতো ক্লাস চালু রাখা হয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া যাবে না।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ জানান, শ্রেণিকক্ষ সংকটে শিক্ষার্থী সংকুলান না হওয়ায় রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে পাঠদান ও শ্রেণিকক্ষেই অফিস করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘবে সংশ্লিষ্টদের কাছে বারবার ধর্ণা দিয়েও কোনো সুফল পাচ্ছি না। তবে শাহজদপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুরাদ হোসেন জানান, দুর্ভোগের চিত্র দেখে ভবন নির্মাণে ইতোমধ্যে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

আশা করছি দ্রুতই কাজ হবে।