আজ শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
১৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে কৃত্রিম হ্রদের বাঁধ ভেঙে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা, উদ্ধার অভিযান স্থগিত

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:49:18 pm, Friday, 28 August 2026
  • 20

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে কৃত্রিম হ্রদের বাঁধ ভেঙে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা, উদ্ধার অভিযান স্থগিত

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর তিব্বত অংশে ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপে তৈরি কৃত্রিম হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধটি ভেঙে গেছে। এর ফলে পাহাড়ি নদীগুলোতে নতুন করে তীব্র স্রোতে বন্যার পানি নেমে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় নেপাল ও চীনের কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও ত্রাণকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করে উদ্ধারকারীদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপাল পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, তিব্বত অংশে জমে থাকা পানির একটি প্রাকৃতিক বাঁধ আবারও ভেঙে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে বন্যার পানি ধেয়ে আসায় পরবর্তী ৯০ মিনিটের জন্য সব ধরনের উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর আশঙ্কা, আগামী কয়েক ঘণ্টায় নতুন করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। নেপালের রাসুয়া জেলার প্রধান সরকারি কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার বলেন, নদীতে পানির স্তর ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

নেপালের পাশাপাশি তিব্বত অংশেও উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, চীন-নেপাল সীমান্তে ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপে তৈরি বিশাল হ্রদটি উপচে পড়ে পানি উদ্ধারকারী দলগুলোর অবস্থানের দিকে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। এ কারণে সব উদ্ধারকারী দলকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।

ইতোমধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাওয়া জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোকে অন্তত এক কিলোমিটার পেছনে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হ্রদটি তিব্বতের সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্র গিরংয়ের কাছে তৈরি হয়েছে। সেখানে ঠিক কী পরিমাণ পানি জমেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে পানির চাপ ও প্রবাহের কারণে নতুন করে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছে উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, গত বুধবার তিব্বতের সীমান্ত হাব গিরং এলাকায় পাহাড়ের ঢালে বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসস্তূপ ধসে পড়ার পর আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। ধ্বংসস্তূপ নদীর গতিপথ আটকে দেওয়ায় সেখানে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ ও বিশাল জলাধার তৈরি হয়। গত দুই দিনে সেই জলাধারে বিপুল পরিমাণ পানি জমে যায় এবং পরে তা উপচে পড়তে শুরু করে। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপাল অংশে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

এখনো ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচ থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। তিব্বত অংশে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫০ জনের বেশি মানুষ বলে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত ৪৯৯ জন চীনা নাগরিক ও ৫৫৫ জন বিদেশিকে দুর্গত এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার তিব্বতে উদ্ধার অভিযান বিষয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্গত এলাকার আশপাশে হিমবাহ, হিমবাহ থেকে সৃষ্ট হ্রদ এবং ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগের আরও অনেক অদৃশ্য ঝুঁকি রয়েছে। এসব ঝুঁকির কারণে উদ্ধারকাজ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং নদী ও হ্রদের পানির স্তর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে। তবে এর আগে পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

হ্রদের তীর ভেঙে দ্বিতীয় দফা বন্যার ‘উচ্চ ঝুঁকি’, সতর্ক করল চীন

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে কৃত্রিম হ্রদের বাঁধ ভেঙে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা, উদ্ধার অভিযান স্থগিত

Update Time : 02:49:18 pm, Friday, 28 August 2026

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর তিব্বত অংশে ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপে তৈরি কৃত্রিম হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধটি ভেঙে গেছে। এর ফলে পাহাড়ি নদীগুলোতে নতুন করে তীব্র স্রোতে বন্যার পানি নেমে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় নেপাল ও চীনের কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও ত্রাণকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করে উদ্ধারকারীদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপাল পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, তিব্বত অংশে জমে থাকা পানির একটি প্রাকৃতিক বাঁধ আবারও ভেঙে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে বন্যার পানি ধেয়ে আসায় পরবর্তী ৯০ মিনিটের জন্য সব ধরনের উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর আশঙ্কা, আগামী কয়েক ঘণ্টায় নতুন করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। নেপালের রাসুয়া জেলার প্রধান সরকারি কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার বলেন, নদীতে পানির স্তর ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

নেপালের পাশাপাশি তিব্বত অংশেও উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, চীন-নেপাল সীমান্তে ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপে তৈরি বিশাল হ্রদটি উপচে পড়ে পানি উদ্ধারকারী দলগুলোর অবস্থানের দিকে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। এ কারণে সব উদ্ধারকারী দলকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।

ইতোমধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাওয়া জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোকে অন্তত এক কিলোমিটার পেছনে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হ্রদটি তিব্বতের সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্র গিরংয়ের কাছে তৈরি হয়েছে। সেখানে ঠিক কী পরিমাণ পানি জমেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে পানির চাপ ও প্রবাহের কারণে নতুন করে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছে উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, গত বুধবার তিব্বতের সীমান্ত হাব গিরং এলাকায় পাহাড়ের ঢালে বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসস্তূপ ধসে পড়ার পর আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। ধ্বংসস্তূপ নদীর গতিপথ আটকে দেওয়ায় সেখানে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ ও বিশাল জলাধার তৈরি হয়। গত দুই দিনে সেই জলাধারে বিপুল পরিমাণ পানি জমে যায় এবং পরে তা উপচে পড়তে শুরু করে। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপাল অংশে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

এখনো ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচ থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। তিব্বত অংশে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫০ জনের বেশি মানুষ বলে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত ৪৯৯ জন চীনা নাগরিক ও ৫৫৫ জন বিদেশিকে দুর্গত এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার তিব্বতে উদ্ধার অভিযান বিষয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্গত এলাকার আশপাশে হিমবাহ, হিমবাহ থেকে সৃষ্ট হ্রদ এবং ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগের আরও অনেক অদৃশ্য ঝুঁকি রয়েছে। এসব ঝুঁকির কারণে উদ্ধারকাজ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং নদী ও হ্রদের পানির স্তর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে। তবে এর আগে পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।