পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিরাজোত সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়া দীপঙ্কর গোপ (৩৫) নামের এক ভারতীয় নাগরিককে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাংলাদেশি বৃদ্ধ তমিজ উদ্দিনকে (৭৮) ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের মধ্যেই এই ঘটনাটি ঘটে।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরমারী সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিজিবি দীপঙ্কর গোপকে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আটক দীপঙ্কর ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার তসরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
তিনি মিশ্রিলাল গোপের ছেলে এবং পেশায় একজন চা শ্রমিক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে হারিয়ে যাওয়া গরু খুঁজতে গিয়ে বিরাজোত সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি চলে যান তমিজ উদ্দিন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাকে আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তার পরিবার ও স্থানীয়রা। এর কয়েকদিন পর শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে দীপঙ্কর গোপ বাংলাদেশ অংশের বিরাজোত সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, তিনি একটি আখখেতে ঢুকে আখ কাটার সময় তাদের হাতে ধরা পড়েন। পরে তাকে স্থানীয়রা নিজেদের হেফাজতে রাখেন। দীপঙ্করকে আটকের পর স্থানীয়রা দাবি করেন, তমিজ উদ্দিনকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিককে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হবে না। এ ঘটনায় শনিবার কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে এবং রোববার ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বিজিবি-বিএসএফের পৃথক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তবে বৈঠকে তমিজ উদ্দিনকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান হয়নি। পরে স্থানীয়রা দীপঙ্কর গোপকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করলে বিজিবি তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। অন্যদিকে বিএসএফ দাবি করেছে, সীমান্তের কাঁটাতারসংলগ্ন এলাকায় প্রবেশের অভিযোগে তমিজ উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে এবং পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পঞ্চগড় সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা আশীষ কুমার শীল বলেন, ভারতীয় নাগরিক দীপঙ্কর গোপকে বিজিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।















