পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানকে স্বাস্থ্যগত কারণে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দেশটির ক্ষমতাকেন্দ্রে নীরব আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সামরিক মহলের একাধিক সূত্র এবং তার পরিবারের ঘনিষ্ঠদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে পর্দার আড়ালে কথাবার্তা এগোচ্ছে। বর্তমানে ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছেন।
পরিবারের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে আত্মীয়স্বজন ও আইনজীবীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি চোখের অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলেও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভার-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম অভিযোগ করেন, তাদের বাবাকে দীর্ঘদিন ধরে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে এবং স্বাধীনভাবে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
একই সঙ্গে তার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফি বুখারিও চিকিৎসাজনিত কারণে দ্রুত তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছে, অতীতে নওয়াজ শরীফ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে ইমরান খানের ক্ষেত্রে যদি কোনো সমঝোতা হয়, তাহলে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া, সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকা কিংবা প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য না দেওয়ার মতো শর্ত যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিজের অবস্থানে অনড় থাকার জন্য পরিচিত ইমরান খান এমন শর্ত সহজে গ্রহণ করবেন না। মানবাধিকার আইনজীবী ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ক্লাইভ স্টাফোর্ড স্মিথও মনে করেন, ইমরান নিজের নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসবেন না। একই সঙ্গে সামরিক নেতৃত্বও তার মুক্তির বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিতে পারে। ইমরান খান ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হলেও পরে সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান।
এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দি রয়েছেন। তার সমর্থকদের অভিযোগ, তাকে রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনপরিসর থেকে দূরে রাখতে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী এসব দাবির সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ নাকচ করেছেন। তার বক্তব্য, ইমরান খানের মামলাগুলোর নিষ্পত্তি আদালতের মাধ্যমেই হবে এবং চিকিৎসাজনিত কারণে জামিন দেওয়ার মতো পরিস্থিতি বর্তমানে নেই।




















