আজ রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
২৪ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

শ্রমিক আন্দোলনের নেপথ্যের অর্থের উৎস খুঁজছে সরকার, এনবিআর কর্তৃক ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:39:10 am, Sunday, 8 November 2026
  • 18

শ্রমিক আন্দোলনের নেপথ্যের অর্থের উৎস খুঁজছে সরকার, এনবিআর কর্তৃক ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

একদিকে শ্রমিকদের দাবি, মাসে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি। অন্যদিকে আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা, রাজনৈতিক তৎপরতা ও অর্থায়নের অভিযোগ। এসব অভিযোগের অর্থের উৎস খুঁজতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআর।

কিন্তু কারা দিচ্ছেন শ্রমিক আন্দোলনে অর্থ? কোন পথে পৌঁছাচ্ছে সেই টাকা? তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কী? আর শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবির সঙ্গে সহিংসতার ঘটনাগুলোই বা কীভাবে জড়িয়ে পড়ল?

এনবিআরের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশের খবর প্রকাশিত হয়েছে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ মোট ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনাও পাঠানো হয়েছে।

এর আগে এক প্রতিবেদনে অন্তত ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুসহ কয়েকজন সংসদ সদস্যের নাম আসে।

শিল্পগোষ্ঠীর মালিকদের মধ্যে তুসুকা, ওয়েল, নিপা, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস, স্ট্যান্ডার্ড ও গিভেন্সি গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নামও উল্লেখ করা হয়।

তবে ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।

শ্রমিক আন্দোলনে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ ও সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই অর্থায়নের অভিযোগ সামনে এসেছে। বাসসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক আন্দোলনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর অনুপ্রবেশ এবং নাশকতায় জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ১ নভেম্বর মিরপুরে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া, ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় প্রায় অর্ধশত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ডিবি ও ডিএমপি।

বাসসের প্রতিবেদনে পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে ২০ থেকে ২৫টি অনলাইন গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব গ্রুপে ছবি, ভিডিও ও অবস্থানের তথ্য আদান-প্রদান করা হতো। পুলিশের দাবি, নাশকতার ছবি ও ভিডিও পাঠানোর পর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ দেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

শুধু মাঠের সংঘাত নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আন্দোলন ঘিরে ছড়িয়েছে নানা ধরনের তথ্য ও ভিডিও। বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিআইবির ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া শনাক্ত করেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তারের কথাও জানানো হয়।

অন্যদিকে, ঢাকায় শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন—এমন দাবিতে এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ আন্দোলন ঘিরে বাস্তব সহিংসতার অভিযোগের পাশাপাশি ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

রাজনৈতিক অভিযোগ ও সহিংসতার আলোচনা করতে গিয়ে শ্রমিকদের মূল দাবিটি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। পোশাকশ্রমিকেরা বর্তমানে ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ন্যূনতম মাসিক মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কাজ করেন প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এ খাত থেকে। ফলে এ শিল্পে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা শুধু শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা নয়, দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের পক্ষে বর্তমান আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

শ্রমিকদের মজুরির দাবি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ১ নভেম্বর নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। মালিক, শ্রমিক ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ছয় সদস্যের এই বোর্ডের প্রথম বৈঠক হয় ৪ নভেম্বর। ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর এবং জানুয়ারিতে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন বোর্ডের প্রতিনিধিরা। তবে মজুরির পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও দ্রুত নতুন মজুরি নির্ধারণের পাশাপাশি কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে এখানে দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা জরুরি। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি একদিকে, আর আন্দোলনে নাশকতা ও অর্থায়নের অভিযোগ অন্যদিকে। নাশকতা বা অবৈধ অর্থায়নের অভিযোগ থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব।

কারণ, শেষ পর্যন্ত দেশের পোশাকশিল্পের স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে শ্রমিকের অধিকার, মালিকের দায়িত্ব এবং আইনের শাসনের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ওপর।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

জাপানে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প, আহত কয়েকজন

শ্রমিক আন্দোলনের নেপথ্যের অর্থের উৎস খুঁজছে সরকার, এনবিআর কর্তৃক ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

Update Time : 11:39:10 am, Sunday, 8 November 2026

একদিকে শ্রমিকদের দাবি, মাসে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি। অন্যদিকে আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা, রাজনৈতিক তৎপরতা ও অর্থায়নের অভিযোগ। এসব অভিযোগের অর্থের উৎস খুঁজতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআর।

কিন্তু কারা দিচ্ছেন শ্রমিক আন্দোলনে অর্থ? কোন পথে পৌঁছাচ্ছে সেই টাকা? তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কী? আর শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবির সঙ্গে সহিংসতার ঘটনাগুলোই বা কীভাবে জড়িয়ে পড়ল?

এনবিআরের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশের খবর প্রকাশিত হয়েছে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ মোট ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনাও পাঠানো হয়েছে।

এর আগে এক প্রতিবেদনে অন্তত ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুসহ কয়েকজন সংসদ সদস্যের নাম আসে।

শিল্পগোষ্ঠীর মালিকদের মধ্যে তুসুকা, ওয়েল, নিপা, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস, স্ট্যান্ডার্ড ও গিভেন্সি গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নামও উল্লেখ করা হয়।

তবে ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।

শ্রমিক আন্দোলনে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ ও সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই অর্থায়নের অভিযোগ সামনে এসেছে। বাসসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক আন্দোলনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর অনুপ্রবেশ এবং নাশকতায় জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ১ নভেম্বর মিরপুরে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া, ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় প্রায় অর্ধশত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ডিবি ও ডিএমপি।

বাসসের প্রতিবেদনে পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে ২০ থেকে ২৫টি অনলাইন গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব গ্রুপে ছবি, ভিডিও ও অবস্থানের তথ্য আদান-প্রদান করা হতো। পুলিশের দাবি, নাশকতার ছবি ও ভিডিও পাঠানোর পর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ দেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

শুধু মাঠের সংঘাত নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আন্দোলন ঘিরে ছড়িয়েছে নানা ধরনের তথ্য ও ভিডিও। বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিআইবির ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া শনাক্ত করেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তারের কথাও জানানো হয়।

অন্যদিকে, ঢাকায় শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন—এমন দাবিতে এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ আন্দোলন ঘিরে বাস্তব সহিংসতার অভিযোগের পাশাপাশি ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

রাজনৈতিক অভিযোগ ও সহিংসতার আলোচনা করতে গিয়ে শ্রমিকদের মূল দাবিটি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। পোশাকশ্রমিকেরা বর্তমানে ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ন্যূনতম মাসিক মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কাজ করেন প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এ খাত থেকে। ফলে এ শিল্পে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা শুধু শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা নয়, দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের পক্ষে বর্তমান আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

শ্রমিকদের মজুরির দাবি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ১ নভেম্বর নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। মালিক, শ্রমিক ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ছয় সদস্যের এই বোর্ডের প্রথম বৈঠক হয় ৪ নভেম্বর। ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর এবং জানুয়ারিতে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন বোর্ডের প্রতিনিধিরা। তবে মজুরির পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও দ্রুত নতুন মজুরি নির্ধারণের পাশাপাশি কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে এখানে দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা জরুরি। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি একদিকে, আর আন্দোলনে নাশকতা ও অর্থায়নের অভিযোগ অন্যদিকে। নাশকতা বা অবৈধ অর্থায়নের অভিযোগ থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব।

কারণ, শেষ পর্যন্ত দেশের পোশাকশিল্পের স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে শ্রমিকের অধিকার, মালিকের দায়িত্ব এবং আইনের শাসনের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ওপর।