আজ শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৩°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২২°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

বাথ্থা এক প্রেম কথা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত সিনেমা

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:59:05 am, Saturday, 7 November 2026
  • 16

বাথ্থা এক প্রেম কথা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত সিনেমা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সিনেমা রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পোস্টার দেখে আর পাঁচটা মার-মার কাট-কাট সিনেমা বলেই ধরে নিয়েছিলাম। এখন তো এই ট্রেন্ড বা ধারা চলছে। পর্দায় কে কতটা ব্রুটালিটি বা বিভৎসতা দেখাতে পারে তার ওপর নির্ভর করে সিনেমার সাফল্য।

গল্প কিংবা চরিত্র, দর্শক থেকে নির্মাতা কেউই খুব একটা পাত্তা দেন না। কিন্তু হালের তামিল সিনেমা ‘বাথ্থা’ নিয়ে আগ্রহ, ভিন্ন কারণে। এর প্রধান কারণ বিজয় সেতুপতি। বিশেষ করে, ‘বিক্রম ভেদা’, ‘মাহারাজা’, ‘বিদুথালাই’, ‘৯৬’, ‘মেরি ক্রিসমাস’ সিনেমায় তার অভিনয় ব্যক্তিগতভাবে আমাকে মুগ্ধ করেছে।

বর্তমান সময়ে ভারতীয় দক্ষিণী চলচ্চিত্র এবং বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে বিজয়ের স্টারডাম অন্য লেভেলে পৌঁছে গেছে। আর একটা কারণ, বর্তমান সময়ে বলিউডের থেকে দক্ষিণী সিনেমায় আমার মনোযোগ অধিক। শুরুতে সিনেমার গল্পÑ‘বাথ্থা’ একজন লোকাল গ্যাংস্টার। এলাকায় তার মদের ব্যবসা রয়েছে। আপত দৃষ্টিতে মন্দ লোক বটে! বেশিরভাগ মানুষ যাকে ভয় পায়!

বিশেষ করে বাচ্চাদের কাছে সে এক মিথ পর্যায়ের চরিত্র। স্কুলের ক্লাস রুম কিংবা বাড়ি ফেরার পথে বালকদের মুখে থাকে ‘বাথ্থা’র হাড়হিম করা কাহিনি! এই যেমনÑবাথ্থা জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় লাথি মেরে লোহার গেট ভেঙে বেরিয়ে আসে আবার বাড়ির ছাদে সে, ভয়ংকর এক সিংহ পোষে ইত্যাদি। এরকম জীবন্ত রূপকথা প্রায়ই চলে! আসল গল্পের দ্বার খোলে আট বছরের এক ভীতু ছেলের খেয়ালি কা-ে।

একদিন মহল্লার নিচে বসে স্বদলে চা খাচ্ছে বাথ্থা, রাস্তার উল্টা পাশের তিন তলা বাড়ির ছাদে ঘুড়ি ওড়াতে ওড়াতে বে খেয়ালে হাতের ধাক্কায় কার্ণিসে রাখা ইট বাথ্থার একেবারে পা ঘেঁষে পড়ে। কিঞ্চিৎ পা কেটে যায়! ভয়ংকর ব্যাপার! ওপর থেকে দেখে ভীতু সাবরির আত্মা উড়ে যায়! সঙ্গে সঙ্গে ছাদ থেকে নেমে সিঁড়ির পেছনে লুকায়। রাতে ভয়ে তার ঘুম আসে না।

চোখের সামনে ভেসে ওঠে ‘বাথ্থা’র রুদ্রমূর্তি। যা সে কয়েক দিন আগে মহল্লার ভেতর দেখেছে। প্রতিপক্ষের একজনকে বেদম পিটুনির মাধ্যমে। সাবরির খুব বেশি খেলনা নেই। বলা চলে একটাই মাত্র খেলনা তার। যা সে অনেক কেঁদে-কেটে মেলা থেকে কিনেছে, বক্সিং রিং। সারা দিন সেটা নিয়েই তার সময় কাটে। ক্লাস রুমে খেলার সময় টিচার তার বক্সিং রিং জব্দ করে স্টোর রুমে আটকে রাখে।

চেয়ে আনতে গিয়েও ভয়, চাইতে পারে না, ভীতু সাবরী। মন খারাপ করে বাড়ি ফিরে আসে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভীষণ মন খারাপ হয় তার। পরদিন থেকে দুই সপ্তাহের স্কুল ছুটি! খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে পড়ে সাবরি। রাস্তায় তখনো কেউ বের হয়নি। সূর্য উঠেছে কেবল। নির্জন রাস্তা পেরিয়ে স্কুলের দেওয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে, সাবরি।

জনশূন্য বিশাল ভবন। বুক ধুক ধুক করছে। প্রিয় খেলনার জন্য জীবন হাতে নিয়ে স্টোর রুম থেকে খেলনা উদ্ধার করে। ফেরার সময় মনে হয়, স্টোর রুমের যে জানালা দিয়ে সে ভেতরে প্রবেশ করেছে সেটা ঠিক করে লাগানো হয়নি। অন্যদিকে, বাথরুম ব্যবহার করার পর তার দরজাও ঠিকভাবে আটকানো হয়নি। আবার ফিরে গিয়ে বাথরুমের দরজা বাইরে থেকে ঠিক করে বন্ধ করলে, ভেতর থেকে আওয়াজ আসে কে, কে দরজা বন্ধ করে।

তাড়াতাড়ি খুলে দে, জানিস আমি কে? আমি বাথ্থা। ভালোয় ভালোয় খুলে দে, না হলে জানে মেরে ফেলব! বাস ভীতু বালকের প্রাণ উড়ে যায়, দরজার ওপাশে বাথ্থার কণ্ঠ শুনে। দরজা না খুলে দৌড়ে পালিয়ে যায় সাবরি। শক্তিশালী বাথ্থা অনেক চেষ্টা করেও বাথরুমের দরজা ভাঙতে ব্যর্থ হয়। এদিকে, সকাল গড়িয়ে দুপুর হলে পরিবার থেকে খোঁজ শুরু হয়। স্ত্রী-মেয়ে তার সাঙ্গপাঙ্গোর সঙ্গে যোগাযোগ করলে কেউ কোনো খবর দিতে পারে না।

এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করে, বাথ্থা নিখোঁজ! বেশিরভাগের ধারণা প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে মেরে ফেলেছে! পরিবার থানায় গিয়ে জানায়। পুলিশও সন্ধানে রেরিয়ে পড়ে। অন্য দিনে সাবরির মনে নানা প্রশ্ন! সব প্রশ্নের উত্তরে যুক্ত থাকে ভয়। সে খেতে চায় না, মা তাকে বকা দেয়। বাবা তাকে বুঝিয়ে বলে, খাবার না খেলে মানুষ বাঁচে না। রাতে বাবা মায়ের মাঝখানে শুয়ে সাবরি ভাবতে থাকে, নিশ্চই ‘বাথ্থা’ দরজা ভেঙে বেরিয়ে যাবে!

তার কাছে এটা কোনো ঘটনা নয়। পরদিন খুব সকালে দুধ আনতে যাওয়ার নাম করে সে স্কুলে যায়, দরজা ভেঙে বাথ্থা বের হয়েছে কিনা দেখতে। কিন্তু না, দরজার কাছে গেলে ওপাশ থেকে বাথথা বলে, তোর এত বড় সাহস তুই এখনো দরজা খুলিসনি। ভয়ে সে দরজা না খুলে, দুটি বিস্কুট গুঁড়া করে দরজার নিচ থেকে ভেতরে ঠেলে দেয়। এই দেখে বাথ্থা আরও ক্ষেপে যায়। ভয়ে সাবরি শক্ত হয়ে যায়।

দরজা না খুলে সে ফিরে আসে। এদিকে বাইরে চলছে আলোচনার ঝড়। বাথ্থা বন্দি অবস্থায় অনেক রকম বৃথা চেষ্টা করে। এক সময় সে উপলব্ধি করে, স্ত্রী-কন্যার কথা ভেবে ভেবে সে গভীর দুঃখ অনুভব করে। এভাবে একের পর এক দিন চলে যায়, ভাঙা বিস্কুটের গুঁড়া খেয়ে। অন্যদিকে, সাবরির সীমাহীন ভয় তাকে খাদের কিনারে নিয়ে যায়। একদিন সকালে মা জানায় আজ তারা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাবে।

ফিরবে কয়েক দিন পর। ভীষণভাবে বিচলিত হয়ে পড়ে সাবরি। যে করেই হোক তাকে বাথরুমের দরজা খুলতে হবে। সে দড়ি বেঁধে ছিটকিনি খোলার চেষ্টা করে দূরে দাঁড়িয়ে। কিন্তু দড়ি ছিঁড়ে যায়। এবং ভেতর থেকে কোনো শব্দ না আসায় সাবরি অবাক হয়ে যায়। এবার সে কাছে গিয়ে বন্ধ দরজা খোলে। তাও কোনো সাড়া নেই। ভয়ে ভয়ে সাবরি ভেতরে ঢোকে। এবং এমন দৃশ্য তার চোখে পড়ে।

রীতিমতো দম বন্ধ অবস্থা! এক দৌড়ে স্কুল পেরিয়ে রাস্তায় চলে আসে সাবরি। চোখ থেকে অশ্রু ঝরছে অঝরে। রহিত কণ্ঠে চিৎকারের চেষ্টা। পথের একজন মানুষকে সে জানায়, বাথরুমে ‘বাথ্থা’ পড়ে আছে। মুহূর্তেই খবর ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং মাত্র অল্পের জন্য প্রাণ রক্ষা হয়। এ ঘটনার মধ্যদিয়ে বাথ্থার পুরো পরিবার সাবরিকে ঈশ্বরের দূত ভাবতে শুরু করে।

অন্যদিকে, নতুন সংকটের মধ্যে পড়ে যায় সাবরি। পুলিশ থেকে শুরু করে অন্যদের একের পর এক প্রশ্নে দিশেহারা বালক। বাথ্থা কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সাবরি এবং তার পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তেলে। নতুন নতুন পোশাক, নানা জায়গায় বেড়াতে যাওয়া কেন, কিছুই বালক সাবরির ভীতু মনকে স্বস্তি দেয় না। ভয় সব সময় তাকে জড়িয়ে রাখে। এক সময় সে সত্যের মুখোমুখি হয়।

সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে, প্রকাশ পায় নিষ্পাপ ভালোবাসা। আপনাকে এই ভালোবাসা ভাসিয়ে নেবে। চোখ ভিজে যাবে, অজান্তে..এখানেই ‘বাথ্থা’র মাহত্ম্য। লেখা পড়ে সব উত্তর মেলানো যাবে না, দেখতে হবে পুরো সিনেমা। ‘বাথ্থা’ সিনেমার গল্প এবং পরিচালনায় ছিলেন বালাজি হারানিথারান এবং প্রযোজনা করেছেন মুরাদ খেতানি ও অ্যাটলি, যিনি নিজেও একজন বিখ্যাত চিত্রপরিচালক।

সিনেমার বিশেষ দিক হলো ‘বাথথা’ চরিত্র বিজয় সেতুপতি এবং সাবরি চরিত্রে মাস্টার সাই পৃথ্বীরাজ-এর অশম্ভাবী অভিনয় পুরো সিনেমায় আপনাকে দর্শক নয় প্রত্যক্ষদর্শীর আসনে বসিয়ে দেব। সংকটের দিক বলতে গেলে সিনেমার সেট এবং অ্যাকশন দৃশ্যে আরও মনোযোগী হওয়া উচিত ছিল। সব মিলিয়ে এ দুঃসময়ে ‘বথ্থা’ একটি চমৎকার গল্পের হৃদয় শীতল করা সিনেমা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

বাথ্থা এক প্রেম কথা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত সিনেমা

Update Time : 06:59:05 am, Saturday, 7 November 2026

গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সিনেমা রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পোস্টার দেখে আর পাঁচটা মার-মার কাট-কাট সিনেমা বলেই ধরে নিয়েছিলাম। এখন তো এই ট্রেন্ড বা ধারা চলছে। পর্দায় কে কতটা ব্রুটালিটি বা বিভৎসতা দেখাতে পারে তার ওপর নির্ভর করে সিনেমার সাফল্য।

গল্প কিংবা চরিত্র, দর্শক থেকে নির্মাতা কেউই খুব একটা পাত্তা দেন না। কিন্তু হালের তামিল সিনেমা ‘বাথ্থা’ নিয়ে আগ্রহ, ভিন্ন কারণে। এর প্রধান কারণ বিজয় সেতুপতি। বিশেষ করে, ‘বিক্রম ভেদা’, ‘মাহারাজা’, ‘বিদুথালাই’, ‘৯৬’, ‘মেরি ক্রিসমাস’ সিনেমায় তার অভিনয় ব্যক্তিগতভাবে আমাকে মুগ্ধ করেছে।

বর্তমান সময়ে ভারতীয় দক্ষিণী চলচ্চিত্র এবং বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে বিজয়ের স্টারডাম অন্য লেভেলে পৌঁছে গেছে। আর একটা কারণ, বর্তমান সময়ে বলিউডের থেকে দক্ষিণী সিনেমায় আমার মনোযোগ অধিক। শুরুতে সিনেমার গল্পÑ‘বাথ্থা’ একজন লোকাল গ্যাংস্টার। এলাকায় তার মদের ব্যবসা রয়েছে। আপত দৃষ্টিতে মন্দ লোক বটে! বেশিরভাগ মানুষ যাকে ভয় পায়!

বিশেষ করে বাচ্চাদের কাছে সে এক মিথ পর্যায়ের চরিত্র। স্কুলের ক্লাস রুম কিংবা বাড়ি ফেরার পথে বালকদের মুখে থাকে ‘বাথ্থা’র হাড়হিম করা কাহিনি! এই যেমনÑবাথ্থা জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় লাথি মেরে লোহার গেট ভেঙে বেরিয়ে আসে আবার বাড়ির ছাদে সে, ভয়ংকর এক সিংহ পোষে ইত্যাদি। এরকম জীবন্ত রূপকথা প্রায়ই চলে! আসল গল্পের দ্বার খোলে আট বছরের এক ভীতু ছেলের খেয়ালি কা-ে।

একদিন মহল্লার নিচে বসে স্বদলে চা খাচ্ছে বাথ্থা, রাস্তার উল্টা পাশের তিন তলা বাড়ির ছাদে ঘুড়ি ওড়াতে ওড়াতে বে খেয়ালে হাতের ধাক্কায় কার্ণিসে রাখা ইট বাথ্থার একেবারে পা ঘেঁষে পড়ে। কিঞ্চিৎ পা কেটে যায়! ভয়ংকর ব্যাপার! ওপর থেকে দেখে ভীতু সাবরির আত্মা উড়ে যায়! সঙ্গে সঙ্গে ছাদ থেকে নেমে সিঁড়ির পেছনে লুকায়। রাতে ভয়ে তার ঘুম আসে না।

চোখের সামনে ভেসে ওঠে ‘বাথ্থা’র রুদ্রমূর্তি। যা সে কয়েক দিন আগে মহল্লার ভেতর দেখেছে। প্রতিপক্ষের একজনকে বেদম পিটুনির মাধ্যমে। সাবরির খুব বেশি খেলনা নেই। বলা চলে একটাই মাত্র খেলনা তার। যা সে অনেক কেঁদে-কেটে মেলা থেকে কিনেছে, বক্সিং রিং। সারা দিন সেটা নিয়েই তার সময় কাটে। ক্লাস রুমে খেলার সময় টিচার তার বক্সিং রিং জব্দ করে স্টোর রুমে আটকে রাখে।

চেয়ে আনতে গিয়েও ভয়, চাইতে পারে না, ভীতু সাবরী। মন খারাপ করে বাড়ি ফিরে আসে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভীষণ মন খারাপ হয় তার। পরদিন থেকে দুই সপ্তাহের স্কুল ছুটি! খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে পড়ে সাবরি। রাস্তায় তখনো কেউ বের হয়নি। সূর্য উঠেছে কেবল। নির্জন রাস্তা পেরিয়ে স্কুলের দেওয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে, সাবরি।

জনশূন্য বিশাল ভবন। বুক ধুক ধুক করছে। প্রিয় খেলনার জন্য জীবন হাতে নিয়ে স্টোর রুম থেকে খেলনা উদ্ধার করে। ফেরার সময় মনে হয়, স্টোর রুমের যে জানালা দিয়ে সে ভেতরে প্রবেশ করেছে সেটা ঠিক করে লাগানো হয়নি। অন্যদিকে, বাথরুম ব্যবহার করার পর তার দরজাও ঠিকভাবে আটকানো হয়নি। আবার ফিরে গিয়ে বাথরুমের দরজা বাইরে থেকে ঠিক করে বন্ধ করলে, ভেতর থেকে আওয়াজ আসে কে, কে দরজা বন্ধ করে।

তাড়াতাড়ি খুলে দে, জানিস আমি কে? আমি বাথ্থা। ভালোয় ভালোয় খুলে দে, না হলে জানে মেরে ফেলব! বাস ভীতু বালকের প্রাণ উড়ে যায়, দরজার ওপাশে বাথ্থার কণ্ঠ শুনে। দরজা না খুলে দৌড়ে পালিয়ে যায় সাবরি। শক্তিশালী বাথ্থা অনেক চেষ্টা করেও বাথরুমের দরজা ভাঙতে ব্যর্থ হয়। এদিকে, সকাল গড়িয়ে দুপুর হলে পরিবার থেকে খোঁজ শুরু হয়। স্ত্রী-মেয়ে তার সাঙ্গপাঙ্গোর সঙ্গে যোগাযোগ করলে কেউ কোনো খবর দিতে পারে না।

এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করে, বাথ্থা নিখোঁজ! বেশিরভাগের ধারণা প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে মেরে ফেলেছে! পরিবার থানায় গিয়ে জানায়। পুলিশও সন্ধানে রেরিয়ে পড়ে। অন্য দিনে সাবরির মনে নানা প্রশ্ন! সব প্রশ্নের উত্তরে যুক্ত থাকে ভয়। সে খেতে চায় না, মা তাকে বকা দেয়। বাবা তাকে বুঝিয়ে বলে, খাবার না খেলে মানুষ বাঁচে না। রাতে বাবা মায়ের মাঝখানে শুয়ে সাবরি ভাবতে থাকে, নিশ্চই ‘বাথ্থা’ দরজা ভেঙে বেরিয়ে যাবে!

তার কাছে এটা কোনো ঘটনা নয়। পরদিন খুব সকালে দুধ আনতে যাওয়ার নাম করে সে স্কুলে যায়, দরজা ভেঙে বাথ্থা বের হয়েছে কিনা দেখতে। কিন্তু না, দরজার কাছে গেলে ওপাশ থেকে বাথথা বলে, তোর এত বড় সাহস তুই এখনো দরজা খুলিসনি। ভয়ে সে দরজা না খুলে, দুটি বিস্কুট গুঁড়া করে দরজার নিচ থেকে ভেতরে ঠেলে দেয়। এই দেখে বাথ্থা আরও ক্ষেপে যায়। ভয়ে সাবরি শক্ত হয়ে যায়।

দরজা না খুলে সে ফিরে আসে। এদিকে বাইরে চলছে আলোচনার ঝড়। বাথ্থা বন্দি অবস্থায় অনেক রকম বৃথা চেষ্টা করে। এক সময় সে উপলব্ধি করে, স্ত্রী-কন্যার কথা ভেবে ভেবে সে গভীর দুঃখ অনুভব করে। এভাবে একের পর এক দিন চলে যায়, ভাঙা বিস্কুটের গুঁড়া খেয়ে। অন্যদিকে, সাবরির সীমাহীন ভয় তাকে খাদের কিনারে নিয়ে যায়। একদিন সকালে মা জানায় আজ তারা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাবে।

ফিরবে কয়েক দিন পর। ভীষণভাবে বিচলিত হয়ে পড়ে সাবরি। যে করেই হোক তাকে বাথরুমের দরজা খুলতে হবে। সে দড়ি বেঁধে ছিটকিনি খোলার চেষ্টা করে দূরে দাঁড়িয়ে। কিন্তু দড়ি ছিঁড়ে যায়। এবং ভেতর থেকে কোনো শব্দ না আসায় সাবরি অবাক হয়ে যায়। এবার সে কাছে গিয়ে বন্ধ দরজা খোলে। তাও কোনো সাড়া নেই। ভয়ে ভয়ে সাবরি ভেতরে ঢোকে। এবং এমন দৃশ্য তার চোখে পড়ে।

রীতিমতো দম বন্ধ অবস্থা! এক দৌড়ে স্কুল পেরিয়ে রাস্তায় চলে আসে সাবরি। চোখ থেকে অশ্রু ঝরছে অঝরে। রহিত কণ্ঠে চিৎকারের চেষ্টা। পথের একজন মানুষকে সে জানায়, বাথরুমে ‘বাথ্থা’ পড়ে আছে। মুহূর্তেই খবর ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং মাত্র অল্পের জন্য প্রাণ রক্ষা হয়। এ ঘটনার মধ্যদিয়ে বাথ্থার পুরো পরিবার সাবরিকে ঈশ্বরের দূত ভাবতে শুরু করে।

অন্যদিকে, নতুন সংকটের মধ্যে পড়ে যায় সাবরি। পুলিশ থেকে শুরু করে অন্যদের একের পর এক প্রশ্নে দিশেহারা বালক। বাথ্থা কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সাবরি এবং তার পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তেলে। নতুন নতুন পোশাক, নানা জায়গায় বেড়াতে যাওয়া কেন, কিছুই বালক সাবরির ভীতু মনকে স্বস্তি দেয় না। ভয় সব সময় তাকে জড়িয়ে রাখে। এক সময় সে সত্যের মুখোমুখি হয়।

সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে, প্রকাশ পায় নিষ্পাপ ভালোবাসা। আপনাকে এই ভালোবাসা ভাসিয়ে নেবে। চোখ ভিজে যাবে, অজান্তে..এখানেই ‘বাথ্থা’র মাহত্ম্য। লেখা পড়ে সব উত্তর মেলানো যাবে না, দেখতে হবে পুরো সিনেমা। ‘বাথ্থা’ সিনেমার গল্প এবং পরিচালনায় ছিলেন বালাজি হারানিথারান এবং প্রযোজনা করেছেন মুরাদ খেতানি ও অ্যাটলি, যিনি নিজেও একজন বিখ্যাত চিত্রপরিচালক।

সিনেমার বিশেষ দিক হলো ‘বাথথা’ চরিত্র বিজয় সেতুপতি এবং সাবরি চরিত্রে মাস্টার সাই পৃথ্বীরাজ-এর অশম্ভাবী অভিনয় পুরো সিনেমায় আপনাকে দর্শক নয় প্রত্যক্ষদর্শীর আসনে বসিয়ে দেব। সংকটের দিক বলতে গেলে সিনেমার সেট এবং অ্যাকশন দৃশ্যে আরও মনোযোগী হওয়া উচিত ছিল। সব মিলিয়ে এ দুঃসময়ে ‘বথ্থা’ একটি চমৎকার গল্পের হৃদয় শীতল করা সিনেমা।