আজ শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৫°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৯%

ফজরের কাজা নামাজ পড়ার নিয়ম ও সঠিক সময়

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:27:25 am, Friday, 9 October 2026
  • 13
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সুবহে সাদিকের সময় থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত ফজরের ওয়াক্ত। সূর্যোদয়ের আগে ঘুমিয়ে থাকার কারণে বা অন্য কোনো কারণে আপনি যদি ফজরের নামাজ আদায় করতে না পারেন, তাহলে সূর্য পুরোপুরি উদিত হওয়ার পর সূর্য ঢলে যাওয়ার আগে অর্থাৎ জোহরের নামাজের সময় শুরু হওয়ার আগেই সুন্নতসহ ফজরের কাজা নামাজ আদায় করে নেবেন।

প্রথম দুই রাকাত সুন্নত পড়বেন, তারপর দুই রাকাত ফরজ পড়বেন। যদি ওইদিন জোহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগে ফজরের নামাজের কাজা আদায় করতে না পারেন, তাহলে জোহরের আগে শুধু দুই রাকাত ফরজ পড়বেন, সুন্নত পড়ার দরকার নেই। সূর্যোদয়ের সময় কাজা পড়বেন না সূর্যোদয়ের সময় ফজরের নামাজের কাজা পড়বেন না। ফজরের সময় শেষ হয়ে সূর্যোদয় শুরু হয়ে যাওয়ার পর অন্যান্য নামাজের মতো ওই দিনের ফজরের নামাজ আদায় করাও নিষিদ্ধ হয়ে যায় এবং সূর্য পুরোপুরি উদিত যাওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকে।

ওলামায়ে কেরামের মতে এ সময়ের ব্যাপ্তি ১০ মিনিট। আবহাওয়া অফিস থেকে সূর্যোদয়ের যে সময় জানানো হয়, তার ১০ মিনিট পর পর্যন্ত কাজা নামাজ আদায় করা থেকে বিরত থাকবেন। এ সময় ফজরের ফরজ নামাজসহ যেকোনো নামাজ পড়লে তা আদায় হবে না। এ সময় ওই দিনের ফজরের নামাজ পড়লে পরবর্তীতে আবার তা পড়তে হবে। যদি সূর্যোদয়ের আগে ফজরের নামাজ শুরু করার পর নামাজরত অবস্থায় সূর্য উদিত হয়ে যায় তবে সেটিও পরবর্তীতে কাজা করে নিতে হবে।

সূর্যোদয়, সূযাস্ত ও ঠিক মধ্যাহ্নের সময় নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ। এ তিন সময়ে কাজা ও নফলসহ সব নামাজ আদায় করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এ সময়গুলোতে তিলাওয়াতের সিজদা ও জানাজার নামাজ আদায় করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

যায়েদ ইবনে খালেদ জুহানী (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাাল্লাম) তিন সময়ে নামাজ আদায় এবং মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থ করতে আমাদের নিষেধ করতেন, সূর্য যখন আলোকজ্জ্বল হয়ে উদয় হতে থাকে তখন থেকে পরিষ্কারভাবে উপরে না ওঠা পর্যন্ত, সূর্য ঠিক মধ্যাকাশে থাকে তখন থেকে ঢলে না পড়া পর্যন্ত এবং সূর্য অস্ত যাওয়া শুরু হলে, সম্পূর্ণরূপে অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত।

(সহিহ মুসলিম : ৮৩১)। নামাজ ছুটে গেলে কাজা আদায় করা জরুরি কোনো নামাজ ঘুমিয়ে থাকা, ভুলে যাওয়া বা কোনো অসুবিধার কারণে কোনো ওয়াক্তের ফরজ বা ওয়াজিব নামাজ আদায় করতে না পারলে পরবর্তীতে ওই নামাজের কাজা আদায় করা জরুরি। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ঘুমিয়ে থাকার কারণে নামাজ আদায় করতে না পারলে তা অন্যায় নয়।

অন্যায় হলোÑ জেগে থেকেও নামাজ আদায় না করা। তোমাদের কেউ নামাজ আদায় করতে ভুলে গেলে অথবা নামাজের সময় ঘুমিয়ে থাকলে, যে সময়েই নামাজের কথা স্মরণ হবে, নামাজ আদায় করে নেবে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আমার স্মরণে নামাজ আদায় করো। (সুরা ত্বহা : ১৪)। (সহিহ মুসলিম : ৬৮১)। কাজা নামাজের নিয়ত যেভাবে করবেন যেকোনো নামাজের আগে কোন নামাজ কত রাকাত পড়ছেন তা মনে মনে স্থির করে নেওয়ার নামই হলো নিয়ত।

নিয়ত মুখে বলা জরুরি নয়। নিয়তের জন্য নির্ধারিত কোনো বাক্যও নেই। কাজা নামাজের ক্ষেত্রেও বিধান একই। কোন দিনের কোন ওয়াক্তের কাজা নামাজ আদায় করছেন, তা মনে মনে স্থির করে আল্লাহু আকবর বলে নামাজ শুরু করে দিলেই হবে। নিয়তের জন্য নির্ধারিত কোনো আরবি বা বাংলা বাক্য বলার প্রয়োজন নেই। আপনার যদি কাজা নামাজ অনেক বেশি হয় এবং কাজা হওয়ার দিন-তারিখ মনে না থাকে, তাহলে এভাবে নিয়ত করবেন, ‘আমার জিম্মায় কাজা হিসেবে থাকা সর্বশেষ জোহরের নামাজের কাজা আদায় করছি’।

এভাবে প্রত্যেক ওয়াক্তের কাজা নামাজ আদায় করার সময় নিয়ত করতে হবে। যতদিন আপনার মন এ সাক্ষ্য না দেবে যে আমার জিম্মায় আর কোনো কাজা নামাজ বাকি নেই, ততদিন পর্যন্ত কাজা নামাজ আদায় করতে থাকবেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ফজরের কাজা নামাজ পড়ার নিয়ম ও সঠিক সময়

Update Time : 02:27:25 am, Friday, 9 October 2026

সুবহে সাদিকের সময় থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত ফজরের ওয়াক্ত। সূর্যোদয়ের আগে ঘুমিয়ে থাকার কারণে বা অন্য কোনো কারণে আপনি যদি ফজরের নামাজ আদায় করতে না পারেন, তাহলে সূর্য পুরোপুরি উদিত হওয়ার পর সূর্য ঢলে যাওয়ার আগে অর্থাৎ জোহরের নামাজের সময় শুরু হওয়ার আগেই সুন্নতসহ ফজরের কাজা নামাজ আদায় করে নেবেন।

প্রথম দুই রাকাত সুন্নত পড়বেন, তারপর দুই রাকাত ফরজ পড়বেন। যদি ওইদিন জোহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগে ফজরের নামাজের কাজা আদায় করতে না পারেন, তাহলে জোহরের আগে শুধু দুই রাকাত ফরজ পড়বেন, সুন্নত পড়ার দরকার নেই। সূর্যোদয়ের সময় কাজা পড়বেন না সূর্যোদয়ের সময় ফজরের নামাজের কাজা পড়বেন না। ফজরের সময় শেষ হয়ে সূর্যোদয় শুরু হয়ে যাওয়ার পর অন্যান্য নামাজের মতো ওই দিনের ফজরের নামাজ আদায় করাও নিষিদ্ধ হয়ে যায় এবং সূর্য পুরোপুরি উদিত যাওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকে।

ওলামায়ে কেরামের মতে এ সময়ের ব্যাপ্তি ১০ মিনিট। আবহাওয়া অফিস থেকে সূর্যোদয়ের যে সময় জানানো হয়, তার ১০ মিনিট পর পর্যন্ত কাজা নামাজ আদায় করা থেকে বিরত থাকবেন। এ সময় ফজরের ফরজ নামাজসহ যেকোনো নামাজ পড়লে তা আদায় হবে না। এ সময় ওই দিনের ফজরের নামাজ পড়লে পরবর্তীতে আবার তা পড়তে হবে। যদি সূর্যোদয়ের আগে ফজরের নামাজ শুরু করার পর নামাজরত অবস্থায় সূর্য উদিত হয়ে যায় তবে সেটিও পরবর্তীতে কাজা করে নিতে হবে।

সূর্যোদয়, সূযাস্ত ও ঠিক মধ্যাহ্নের সময় নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ। এ তিন সময়ে কাজা ও নফলসহ সব নামাজ আদায় করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এ সময়গুলোতে তিলাওয়াতের সিজদা ও জানাজার নামাজ আদায় করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

যায়েদ ইবনে খালেদ জুহানী (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাাল্লাম) তিন সময়ে নামাজ আদায় এবং মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থ করতে আমাদের নিষেধ করতেন, সূর্য যখন আলোকজ্জ্বল হয়ে উদয় হতে থাকে তখন থেকে পরিষ্কারভাবে উপরে না ওঠা পর্যন্ত, সূর্য ঠিক মধ্যাকাশে থাকে তখন থেকে ঢলে না পড়া পর্যন্ত এবং সূর্য অস্ত যাওয়া শুরু হলে, সম্পূর্ণরূপে অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত।

(সহিহ মুসলিম : ৮৩১)। নামাজ ছুটে গেলে কাজা আদায় করা জরুরি কোনো নামাজ ঘুমিয়ে থাকা, ভুলে যাওয়া বা কোনো অসুবিধার কারণে কোনো ওয়াক্তের ফরজ বা ওয়াজিব নামাজ আদায় করতে না পারলে পরবর্তীতে ওই নামাজের কাজা আদায় করা জরুরি। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ঘুমিয়ে থাকার কারণে নামাজ আদায় করতে না পারলে তা অন্যায় নয়।

অন্যায় হলোÑ জেগে থেকেও নামাজ আদায় না করা। তোমাদের কেউ নামাজ আদায় করতে ভুলে গেলে অথবা নামাজের সময় ঘুমিয়ে থাকলে, যে সময়েই নামাজের কথা স্মরণ হবে, নামাজ আদায় করে নেবে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আমার স্মরণে নামাজ আদায় করো। (সুরা ত্বহা : ১৪)। (সহিহ মুসলিম : ৬৮১)। কাজা নামাজের নিয়ত যেভাবে করবেন যেকোনো নামাজের আগে কোন নামাজ কত রাকাত পড়ছেন তা মনে মনে স্থির করে নেওয়ার নামই হলো নিয়ত।

নিয়ত মুখে বলা জরুরি নয়। নিয়তের জন্য নির্ধারিত কোনো বাক্যও নেই। কাজা নামাজের ক্ষেত্রেও বিধান একই। কোন দিনের কোন ওয়াক্তের কাজা নামাজ আদায় করছেন, তা মনে মনে স্থির করে আল্লাহু আকবর বলে নামাজ শুরু করে দিলেই হবে। নিয়তের জন্য নির্ধারিত কোনো আরবি বা বাংলা বাক্য বলার প্রয়োজন নেই। আপনার যদি কাজা নামাজ অনেক বেশি হয় এবং কাজা হওয়ার দিন-তারিখ মনে না থাকে, তাহলে এভাবে নিয়ত করবেন, ‘আমার জিম্মায় কাজা হিসেবে থাকা সর্বশেষ জোহরের নামাজের কাজা আদায় করছি’।

এভাবে প্রত্যেক ওয়াক্তের কাজা নামাজ আদায় করার সময় নিয়ত করতে হবে। যতদিন আপনার মন এ সাক্ষ্য না দেবে যে আমার জিম্মায় আর কোনো কাজা নামাজ বাকি নেই, ততদিন পর্যন্ত কাজা নামাজ আদায় করতে থাকবেন।