বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিস বা সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের Problem solving capacity বা সমস্যা সমাধানে দক্ষতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং বিডিজবসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মজীবনের প্রস্তুতি বিষয়ক ‘প্রিপেয়ারিং ফর ইউর ক্যারিয়ার: এমপ্লয়ার এক্সপেক্টেশনস অ্যান্ড ক্যারিয়ার ইনসাইটস’ শীর্ষক ক্যারিয়ার গাইডেন্স ও প্যানেল আলোচনার প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ইবি উপাচার্য বলেন, একটি রাষ্ট্রের পক্ষে সব নাগরিককে সরকারি চাকরিতে আত্মীকরণ করার সক্ষমতা কতটুকু? ধরা যাক, দেশে যদি ৩০ লক্ষ বেকার থাকেন, তবে সরকারের হয়তো একবারে মাত্র ৫ লক্ষ মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে। তাহলে বাকিদের ভবিষ্যৎ কী হবে? এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বর্তমান সরকার কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
মূল বার্তাটি হলো—নিজেই কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিন, উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুন এবং শিল্প-সংশ্লিষ্ট (ইন্ডাস্ট্রি-রিলেটেড) কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। যাতে ‘আপনার চাকরি খোঁজার প্রয়োজন না হয়, চাকরিই আপনাকে খুঁজে নেয়। ’—ঠিক সেভাবেই নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলুন। আর এটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের যখন রাষ্ট্রের একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য রিকম্যান্ড করা হবে, তখন তাদের সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন রক্তদান কর্মসূচি, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, স্পোর্টস, কালচারাল অথবা প্রাকৃতিক কোন দূর্যোগে একজন শিক্ষার্থী নিজেকে কীভাবে সেখানে উপস্থাপন করেছে খুব গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে পিএসসির ভাইবা বোর্ডে মূল্যায়ন করা হয়।
পড়াশোনার পাশাপাশি এই কার্যক্রমগুলো দিয়ে তোমরা নিজেদেরকে শাণিত করো। সরকার কোন একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করলে অথবা যেকোনো দায়িত্ব প্রদান করলে প্রবলেম সলভিং ক্যাপাসিটি যদি তোমার মধ্যে না থাকে, তাহলে তুমি এই পদের জন্য উপযোগী নয়—এটিই বিবেচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের আহবায়ক আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন এবং কী-নোট স্পিকার ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিডিজবস ডটকম লিমিটেডের ডিজিএম মোহাম্মদ আলী ফিরোজ। এছাড়া প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, সোসিও ইকোনমিক হেলথ এডুকেশন অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক ড. মেহেদী হাসান, এনজিও সংস্থা ‘সেতু’র মাইক্রোফাইন্যান্স (MF) বা ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সমন্বয়ক (Coordinator) মো. আলাউল আলম এবং রূপালী ব্যাংক পিএলসির এজিএম ও শাখা প্রধান আবুল কালাম আজাদ।






















