আজ বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪১%

জাতিসংঘে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:17:57 pm, Wednesday, 30 September 2026
  • 11

জাতিসংঘে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বিশ্ব নেতাদের কাছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এটি বাংলাদেশের একটি প্রাপ্তি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে চার কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এর মধ্যে জাতিসংঘের আটটি কর্মসূচি, চারটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট ও ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। সফরকালে বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে ৮০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, এবার ৩৫ সদস্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিদল নিয়ে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী সফর করেছেন।

যাওয়ার সময় টার্কিশ এয়ারলাইন্স এবং ফেরার সময় এমিরেটস ব্যবহার করা হয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা এর বাইরে ছিলেন। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারকেই এ সংকটের সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বিশ্ব নেতারা বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেছেন।

সফরে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও সরকারের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন মাহদী আমিন। ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’—৩ আর কৌশলের মাধ্যমে দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, অভিবাসন, প্রযুক্তি, শান্তিরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়ও তুলে ধরেন।

আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, পদ্মা ব্যারেজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রাধিকারের কথাও জানান। স্বাস্থ্যবিষয়ক সাইড ইভেন্টে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী, এর মধ্যে ৮০ হাজার নারী এবং ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগ ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা বলা হয়। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি, জ্বালানি, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারী ও বোয়িং গ্লোবালের সঙ্গেও বৈঠক হয়। সফরসঙ্গী ডা. জুবাইদা রহমান আটটি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং তিনটিতে বক্তব্য দেন। নারী নেতৃত্ব, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি নিয়ে তিনি বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে নিয়োগের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরের মাহদী আমিন জানান, ‘বাংলাদেশ সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে কোনো চাকরি দেওয়া হয়নি।

এমনকি জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকারের স্থায়ী মিশনেও তার কোনো পদায়ন হয়নি। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের দূরতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ’ তিনি বলেন, জাইমা রহমান সরাসরি জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন। জাতিসংঘের নিজস্ব নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্বাহী কার্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগ এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।

নিয়োগের যাবতীয় প্রক্রিয়া ও আর্থিক সুবিধা জাতিসংঘই বহন করে। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটেও এ-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা যাবে। মাহদী আমিন জানান, জাইমা রহমানকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তার ভাষ্য, জাতিসংঘের পেশাগত কাঠামোয় পি-১ পর্যায়ে সাধারণত নতুন স্নাতকদের নিয়োগ দেওয়া হয়; পি-২ পদের জন্য ন্যূনতম দুই বছর এবং পি-৩ পদের জন্য অন্তত পাঁচ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।

জাইমা ব্যক্তিগত মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় পি-৩ পর্যায়ের দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদে নিয়োগ পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের স্মরণ করেছেন এবং বিশ্বসংকট মোকাবিলায় যুক্তি, শিক্ষা ও মানবতাকে প্রধান হাতিয়ার করার কথা বলেছেন।

তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডসহ জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের কর্মসূচিও তুলে ধরেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সালেহ শিবলী বলেন, দীর্ঘদিনের গুম, খুন, অপহরণ, মামলা ও হয়রানির মধ্য দিয়ে ভয়-আতঙ্কের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে মুক্ত হয়ে একটি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চান।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ফতুল্লায় মহিলা মাদ্রাসার দগ্ধ ৫ ছাত্রীর মধ্যে দুইজনের মৃত্যু

জাতিসংঘে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

Update Time : 09:17:57 pm, Wednesday, 30 September 2026

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বিশ্ব নেতাদের কাছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এটি বাংলাদেশের একটি প্রাপ্তি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে চার কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এর মধ্যে জাতিসংঘের আটটি কর্মসূচি, চারটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট ও ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। সফরকালে বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে ৮০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, এবার ৩৫ সদস্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিদল নিয়ে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী সফর করেছেন।

যাওয়ার সময় টার্কিশ এয়ারলাইন্স এবং ফেরার সময় এমিরেটস ব্যবহার করা হয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা এর বাইরে ছিলেন। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারকেই এ সংকটের সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বিশ্ব নেতারা বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেছেন।

সফরে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও সরকারের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন মাহদী আমিন। ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’—৩ আর কৌশলের মাধ্যমে দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, অভিবাসন, প্রযুক্তি, শান্তিরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়ও তুলে ধরেন।

আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, পদ্মা ব্যারেজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রাধিকারের কথাও জানান। স্বাস্থ্যবিষয়ক সাইড ইভেন্টে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী, এর মধ্যে ৮০ হাজার নারী এবং ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগ ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা বলা হয়। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি, জ্বালানি, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারী ও বোয়িং গ্লোবালের সঙ্গেও বৈঠক হয়। সফরসঙ্গী ডা. জুবাইদা রহমান আটটি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং তিনটিতে বক্তব্য দেন। নারী নেতৃত্ব, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি নিয়ে তিনি বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে নিয়োগের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরের মাহদী আমিন জানান, ‘বাংলাদেশ সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে কোনো চাকরি দেওয়া হয়নি।

এমনকি জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকারের স্থায়ী মিশনেও তার কোনো পদায়ন হয়নি। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের দূরতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ’ তিনি বলেন, জাইমা রহমান সরাসরি জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন। জাতিসংঘের নিজস্ব নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্বাহী কার্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগ এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।

নিয়োগের যাবতীয় প্রক্রিয়া ও আর্থিক সুবিধা জাতিসংঘই বহন করে। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটেও এ-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা যাবে। মাহদী আমিন জানান, জাইমা রহমানকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তার ভাষ্য, জাতিসংঘের পেশাগত কাঠামোয় পি-১ পর্যায়ে সাধারণত নতুন স্নাতকদের নিয়োগ দেওয়া হয়; পি-২ পদের জন্য ন্যূনতম দুই বছর এবং পি-৩ পদের জন্য অন্তত পাঁচ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।

জাইমা ব্যক্তিগত মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় পি-৩ পর্যায়ের দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদে নিয়োগ পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের স্মরণ করেছেন এবং বিশ্বসংকট মোকাবিলায় যুক্তি, শিক্ষা ও মানবতাকে প্রধান হাতিয়ার করার কথা বলেছেন।

তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডসহ জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের কর্মসূচিও তুলে ধরেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সালেহ শিবলী বলেন, দীর্ঘদিনের গুম, খুন, অপহরণ, মামলা ও হয়রানির মধ্য দিয়ে ভয়-আতঙ্কের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে মুক্ত হয়ে একটি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চান।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।