কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শ্রেণিকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে গোলাম কিবরিয়া লালন নামে এক স্কুলশিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ভেড়ামারা-প্রাগপুর সড়কের প্রাগপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক গোলাম কিবরিয়া লালন প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক। স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাস চলাকালে সম্প্রতি জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গ ওঠে। এ সময় শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণ নিয়ে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই সময় শিক্ষক প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে তাদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। বিষয়টি নিয়ে ক্লাসে বা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা হয়। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের কাছে ঘটনাটি সম্পর্কে জানালে তা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে গতকাল বুধবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরে শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ উত্তপ্ত করার অভিযোগে প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল সরকার বলেন, বিষয়টি তিনি মঙ্গলবার রাতে জানতে পারেন। বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ওই শিক্ষককে ঘটনাটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার কারণে বাংলা ভাষার উচ্চারণ কিছুটা অস্পষ্ট হয়েছে এমন কথা তিনি দিয়েছেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক আশরাফুজ্জামান মুকুল সরকার। পরে পুলিশ এসে শিক্ষক লালনকে আটক করে নিয়ে যায়। শিক্ষকের এমন মন্তব্যের ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















