ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে শত শত রোগী আসে সু-চিকিৎসার আশায়। কিন্তু চিকিৎসার বদলে ভোগান্তি বেশি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ জনগণের।
কেননা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ডাক্তার আসা-যাওয়া করে তাদের মনমতো। নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী সময়ে তারা হাসপাতালে আসছেন। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডাক্তারের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে রোগীদের। সরকারি নিয়মের নেই কোনো বালাই তাদের কাছে। তারা সরকারের চাকরি করবে কিন্তু সরকারের দেওয়া নিয়ম মানতে নারাজ। জানা যায়, সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার আসার সময়সূচি শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে।
সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারের আসা-যাওয়ার কোনো রুটিন নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ জনগণ। টিকিটের দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টাখানেক দাঁড়িয়ে থাকার পর আবারও ডাক্তার রুমের সামনে গিয়ে ডাক্তার আসার অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় রোগীদের। কখনো কখনো বেলা ১০টা বাজলেও ডাক্তারশূন্য থাকে কয়েকটি কক্ষ। সকাল ১০টা গড়িয়ে গেলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার না আসায় বাড়ছে রোগীদের ক্ষোভ।
গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকরা কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ায় চিকিৎসাসেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়েন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত সাধারণ মানুষ। সরেজমিনে দেখা যায়, চিকিৎসকদের এই অনুপস্থিতির সুযোগে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ওঁৎ পেতে থাকা দালাল চক্র। তারা দূর থেকে আসা অসহায় ও জরুরি রোগীদের নানাভাবে ফুসলিয়ে এবং ভুল বুঝিয়ে বাইরের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার ফাঁদ পাতে।
উপজেলার বগাপুতা গ্রাম থেকে নিজের তিন মাসের শ্বাসকষ্টের শিশুকে নিয়ে আসা জাহানারা বেগম নামের এক নারী হাসপাতালের ১৪ নম্বর কনসালটেন্ট কক্ষের সামনে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দুইশ টেহা খরচ কইর‌্যা আইছি। অহন দেহি ডাক্তর নাই। এইডা কোনো কথা অইলো? ’ একই অবস্থা রুবি আক্তার নামের আরেক মায়ের।
সকাল ৮টা থেকে চার মাসের অসুস্থ শিশুকে নিয়ে বসে থেকেও ডাক্তারের দেখা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে করতে বিনা চিকিৎসায় হাসপাতাল ছাড়েন তিনি। এর আগে চিকিৎসা নিতে আসা অনেকে জানান, বাড়ির আশপাশে সরকারি হাসপাতালটি থাকার কারণে এবং নিজের সুবিধার্থে আমরা এখানেই ডাক্তার দেখাতে আসি। এখানে আসি রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য কিন্তু আরও রোগ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়।
এমনিতে তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় টিকিটের জন্য। তার উপরে আবার ডাক্তারের জন্যও অপেক্ষা করতে হয়। সরকারি হাসপাতাল বলে কোনো নিয়ম নেই। ডাক্তারদের যার যেমন সময়ে ইচ্ছা হচ্ছে আসছে আবার যেমন ইচ্ছা চলে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত পরিমাণের তদারকি নেই বলেই সরকারি হাসপাতালে এসব সম্ভব। হাসপাতালে চিকিৎসকদের এমন গণঅনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকিরের সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ফখরুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আমি গতকালই (সোমবার) ওই হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সেখানে এমনটা হওয়ার কথা নয়। আজ সকালে ঠিক কী কারণে চিকিৎসকরা যথাসময়ে আসেননি, বিষয়টি আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।


















