যশোরের কেশবপুরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব। ঘাতক ট্রাকের মুখোমুখি ধাক্কায় তার বহনকারী সরকারি গাড়িটি মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে গেলেও, গাড়ির এয়ারব্যাগ যথাসময়ে খুলে যাওয়ায় তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা অলৌকিকভাবে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের কেশবপুর এলাকার তালতলায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুল ইসলাম হাবিব গত কয়েক দিন ধরে বেশ অসুস্থ ছিলেন। তবে শারীরিক অসুস্থতাকে তোয়াক্কা না করে পেশাগত দায়িত্ব পালনের তাগিদে এবং জেলাবাসীর সেবায় ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িযোগে সাতক্ষীরা অভিমুখে ফিরছিলেন।
গাড়িটি কেশবপুরের তালতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতিসম্পন্ন ট্রাক/পিকআপ সজোরে তাদের গাড়ির মুখোমুখি ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। বিকট শব্দে গাড়িটির সামনের অংশ পুরোপুরি ধসে ও মুচড়ে যায়। তবে ভাগ্যক্রমে গাড়ির এয়ারব্যাগটি সঠিকভাবে কার্যকর হওয়ায় হাবিবুল ইসলাম হাবিব এবং তার সাথে থাকা সফরসঙ্গীরা মারাত্মক আঘাতের হাত থেকে রক্ষা পান।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে তাদের উদ্ধার করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি কলারোয়ায় তার নিজস্ব বাসভবনে বিশ্রামে আছেন। দুর্ঘটনার পর তার কন্যা কানিতা ইয়া লাম-লাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করে তার বাবার দ্রুত সুস্থতা ও নিরাপত্তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
দুর্ঘটনার স্মৃতিচারণ করে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, ‘আমরা যখন কেশবপুরের তালতলা অতিক্রম করছিলাম, ঠিক তখনই একটি দ্রুতগামী ঘাতক ট্রাক আমাদের গাড়িতে সজোরে আঘাত হানে। আঘাত এতই তীব্র ছিল যে, গাড়ির সামনের অংশ সম্পূর্ণ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। তবে মহান রাব্বুল আলামিনের অশেষ কৃপা, সময়মতো এয়ারব্যাগ খুলে যাওয়া এবং দেশের লাখ লাখ মানুষের দোয়ায় আমরা অক্ষত অবস্থায় জীবন ফিরে পেয়েছি।
প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি, আপনারা সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। ’ সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সচিব আবু জাহিদ ডবলু গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব ভাইয়ের গাড়িতে এভাবে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত সন্দেহজনক। এর পেছনে রাজনৈতিক কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে।
আমরা অবিলম্বে ঘাতক যান ও এর চালককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি ‘ তালা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, ‘সাতক্ষীরার উন্নয়নের মূল রূপকার ও জনমানুষের নেতা হাবিব সাহেবের গাড়িতে আঘাত করে ঘাতক ট্রাকের সটকে পড়া কোনো কাকতালীয় বিষয় হতে পারে না। আমরা প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি—অবিলম্বে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে গাড়িটি চিহ্নিত করা হোক।
’ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীদের শনাক্তে তৎপরতা শুরু করেছে। কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, ‘সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমিসহ আমাদের পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দুর্ঘটনাকবলিত স্থানটি কিছুটা ফাঁকা হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ঘাতক গাড়িটি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে আমরা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘাতক ট্রাক ও চালককে চিহ্নিত করতে জোর অভিযান চালাচ্ছি।
এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।



















