অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা জোরদারে নেওয়া আন্তঃপ্ল্যাটফর্ম উদ্যোগ ‘ল্যান্টার্নে’ যুক্ত হয়েছে টিকটকের মার্কিন ইউনিট টিকটক ইউএসডিএস জয়েন্ট ভেঞ্চার। টিকটক থেকে আলাদা হওয়ার আট মাস পর এই উদ্যোগে যুক্ত হলো প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৩ সালে টেক কোয়ালিশনের উদ্যোগে চালু হয় ল্যান্টার্ন। এর লক্ষ্য বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেওয়া, যাতে ক্ষতিকর আচরণ ও কনটেন্টের তথ্য নিরাপদভাবে এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে শনাক্ত করা যায়। ল্যান্টার্নের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে গুগল, এক্স, স্ন্যাপ, টুইচ, অ্যানথ্রপিক, মেটা, ডিসকর্ড, মাইক্রোসফট, অ্যাপল, রোবলক্স ও রেডিটসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।
ল্যান্টার্ন জানিয়েছে, ২০২৫ সাল পর্যন্ত সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য নীতি ভঙ্গকারী আচরণ শনাক্ত করতে ২০ লাখের বেশি সংকেত একে অপরের সঙ্গে ভাগ করেছে। ল্যান্টার্নের পরিচালক মার্ক লিওন বলেন, শিশুদের যৌন নিপীড়ন ও শোষণ শনাক্ত এবং বন্ধ করতে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টিকটক ইউএসডিএসের অংশগ্রহণ প্রযুক্তি খাতে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, শিশু যৌন নির্যাতনের উপকরণসহ শিশুদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি শনাক্ত হলে টিকটকের মার্কিন ইউনিটকে ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেনের (এনসিএমইসি) সাইবারটিপলাইনে রিপোর্ট করতে হয়। এর পাশাপাশি এনসিএমইসির সাইবারটিপলাইন আধুনিকায়ন প্রকল্পে ২০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে টিকটক। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই অর্থ উন্নত অনুসন্ধান, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা করবে।
এর মাধ্যমে ক্ষতিকর কর্মকা- দ্রুত শনাক্ত করা, ম্যানুয়াল প্রক্রিয়াকরণের সময় অর্ধেকে নামিয়ে আনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্রুত কার্যকর প্রতিবেদন পাঠানো সম্ভব হবে। এনসিএমইসির প্রকল্পটি তিন বছর ধরে চলবে এবং এতে মোট ১ কোটি ডলার ব্যয় হবে। অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস, মাইক্রোসফট ও পালান্টিরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও এতে সম্পদ ও সহায়তা দিচ্ছে।



















