তিরুঅনন্তপুরমের গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত তখন জয়ের দিকে ছুটছিল। আলজারি জোসেফের একটি লাফিয়ে ওঠা বলকে অবলীলায় মিড উইকেটের দিকে পুল করে বাউন্ডারিতে পাঠান বিরাট কোহলি।
একই সঙ্গে পা রাখলেন ক্রিকেট ইতিহাসের এক দুর্লভ অভিজাত ক্লাবে। শচীন টেন্ডুলকারের পর ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে কোহলি স্পর্শ করলেন ১৫ হাজার রানের মাইলফলক। টেন্ডুলকার ১৫ হাজার রান পূর্ণ করেছিলেন ৩৭৭ ইনিংসে। এই কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে কোহলি মাইলফলক ছুঁলেন ৩০৩ ইনিংসেই। শুধু তাই নয়, ওয়ানডেতে ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার, সব মাইলফলকেই দ্রুততম কোহলি।
এখানেই থেমে থাকেননি কিংবদন্তি ভারতীয় ব্যাটসম্যান। পরে পেয়ে যান নিজের ৫৫তম ওয়ানডে সেঞ্চুরিও। ৮৮ বলে অপরাজিত ১৩৯ রানের তা-বি এক ইনিংসে ১০টি চার ও ৯টি ছক্কা। কোহলির এমন বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সঙ্গে শুবমান গিলের আরেকটি সেঞ্চুরি মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ২৯৬ রানের লক্ষ্য ভারত পেরিয়ে যায় মাত্র ৪১.৪ ওভারে, ২ উইকেট হারিয়েই। ১০৮ বলে ১৩টি চার ও ১ ছক্কায় ১১০ রানের ঝলমলে এক ইনিংস উপহার দেন গিল।
ওয়ানডেতে এটি তার ১০ম সেঞ্চুরি। উদ্বোধনী জুটিতে রোহিত শর্মাকে (৩২) সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন ৭৪ রানের ভিত্তি। এরপর রোহিত বিদায় নিলেও দ্বিতীয় উইকেটে কোহলির সঙ্গে ১৫১ রানের বিশাল জুটি গড়ে ম্যাচ সম্পূর্ণ ভারতের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন দুজন। তবে শেষ পর্যন্ত এই ম্যাচটা স্রেফ কোহলির। ২০২৫ সালের অক্টোবরেই কুমার সাঙ্গাকারাকে পেছনে ফেলে ওয়ানডে রান সংগ্রাহকদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
১৪ হাজার ২৪৩ রান নিয়ে ৩ নম্বরে থাকা লঙ্কান কিংবদন্তির পথটা কোহলি অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছেন। ১৩ হাজার ৭০৪ রান নিয়ে চারে রিকি পন্টিং, ১৩ হাজার ৪৩০ রান নিয়ে পাঁচে সনাৎ জয়াসুরিয়া। এই ম্যাচেই আরেকটি ব্যক্তিগত উচ্চতায় নাম লেখালেন কোহলি। ৫৫টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি! ওয়ানডেতে ৫০ সেঞ্চুরি নেই আর কারও। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৯ সেঞ্চুরি করেছেন টেন্ডুলকার।
এর পরে আছেন রোহিত শার্মা (৩৪)। ২০২৩ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে যখন টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে কোহলি শীর্ষে চলে এসেছিলেন, ক্রিকেট বিশ্ব বুঝেছিল এই রেকর্ড ভাঙা আর কারো পক্ষে হয়তো সম্ভব হবে না। অবশ্য গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসেও সেঞ্চুরি করেছেন জাস্টিন গ্রিভস। ১০১ রানের সেই ইনিংস ক্যারিয়ারের প্রথম হলেও শেষ পর্যন্ত কোহলির আলোয় তিনি ঢাকাই পড়ে রইলেন।



















