আজ মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৬ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৩৫%

সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত, সাংবাদিকদের সুরক্ষায় থাকছে সুপারিশ

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:20:33 pm, Monday, 28 September 2026
  • 10

সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত, সাংবাদিকদের সুরক্ষায় থাকছে সুপারিশ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের প্রস্তাবিত খসড়ায় মৌলিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে এটি বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকেরা যাতে এই আইনের কারণে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষার প্রস্তাব তৈরি করবে পর্যালোচনা কমিটি।

কমিটিতে সম্পাদক ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাও থাকবেন। কমিটি ১৫ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ দেবে। তবে কমিটির সদস্যসংখ্যা এবং কারা এতে থাকবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ পর্যালোচনা কমিটির ফোকাল কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি সম্পাদক পরিষদ, অ্যাটকো ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে কমিটি গঠন ও বৈঠক আহ্বানের ব্যবস্থা করবেন।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনায় গণমাধ্যমের অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত কনসালটেশন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। গত ১০ সেপ্টেম্বরের পর এ আইন নিয়ে এটি ছিল দ্বিতীয় বৈঠক। সভায় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রয়োজনীয়তার প্রতি সমর্থন জানানো হয়। তবে এ ধরনের আইন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবহারের বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে গণমাধ্যমকে আইনের আওতার বাইরে রাখার আহ্বান জানানো হয়।

একই সঙ্গে আইনে মোবাইল কোর্টের বিধান রাখারও বিরোধিতা করেন সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতারা। এমন আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের উদ্বেগের বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনামের প্রস্তাব অনুযায়ী সাংবাদিক ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিইনি।

কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক বা এ আইনের অপপ্রয়োগ হোক, সেটাও আমরা চাই না। ’ তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি, পর্যালোচনা কমিটি গণমাধ্যমের বিষয়ে যথাযথ সুপারিশ করবে। এরপর আইনের খসড়াটি আবারও সর্বসাধারণের জন্য ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। ’ প্রেস ব্রিফিংয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পর্যালোচনার বিস্তারিত তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের সংশোধন আনার লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত খসড়া বিলটি ইতিপূর্বে মন্ত্রিসভায় (কেবিনেট) উপস্থাপন করা হয়েছিল।

মন্ত্রিসভা থেকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে, যাতে সাইবার স্পেসে কর্মরত আইটি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা ও পরামর্শ করা হয়। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় আইনটি যাতে কোনো নিপীড়নমূলক হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সে জন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত সংগ্রহের জন্য খসড়া বিলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং সাইবার স্পেস ব্যবহারকারীরা তাদের মূল্যবান মতামত পাঠিয়েছেন এবং তা সরকারের পক্ষ থেকে সংকলন করা হয়েছে। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘সংশোধনী ছাড়া এই আইন পাস হলে দেশ একটি বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে। ’ ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের যে মূল্যবোধ আমরা প্রত্যাশা করি, তার প্রতিফলন এই খসড়া আইনে নেই।

সরকার নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার আইন করছে, তাই এটার বিরোধিতা করছি। ’ সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক নেতা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

হবিগঞ্জে শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত, সাংবাদিকদের সুরক্ষায় থাকছে সুপারিশ

Update Time : 11:20:33 pm, Monday, 28 September 2026

সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের প্রস্তাবিত খসড়ায় মৌলিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে এটি বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকেরা যাতে এই আইনের কারণে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষার প্রস্তাব তৈরি করবে পর্যালোচনা কমিটি।

কমিটিতে সম্পাদক ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাও থাকবেন। কমিটি ১৫ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ দেবে। তবে কমিটির সদস্যসংখ্যা এবং কারা এতে থাকবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ পর্যালোচনা কমিটির ফোকাল কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি সম্পাদক পরিষদ, অ্যাটকো ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে কমিটি গঠন ও বৈঠক আহ্বানের ব্যবস্থা করবেন।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনায় গণমাধ্যমের অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত কনসালটেশন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। গত ১০ সেপ্টেম্বরের পর এ আইন নিয়ে এটি ছিল দ্বিতীয় বৈঠক। সভায় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রয়োজনীয়তার প্রতি সমর্থন জানানো হয়। তবে এ ধরনের আইন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবহারের বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে গণমাধ্যমকে আইনের আওতার বাইরে রাখার আহ্বান জানানো হয়।

একই সঙ্গে আইনে মোবাইল কোর্টের বিধান রাখারও বিরোধিতা করেন সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতারা। এমন আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের উদ্বেগের বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনামের প্রস্তাব অনুযায়ী সাংবাদিক ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিইনি।

কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক বা এ আইনের অপপ্রয়োগ হোক, সেটাও আমরা চাই না। ’ তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি, পর্যালোচনা কমিটি গণমাধ্যমের বিষয়ে যথাযথ সুপারিশ করবে। এরপর আইনের খসড়াটি আবারও সর্বসাধারণের জন্য ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। ’ প্রেস ব্রিফিংয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পর্যালোচনার বিস্তারিত তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের সংশোধন আনার লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত খসড়া বিলটি ইতিপূর্বে মন্ত্রিসভায় (কেবিনেট) উপস্থাপন করা হয়েছিল।

মন্ত্রিসভা থেকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে, যাতে সাইবার স্পেসে কর্মরত আইটি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা ও পরামর্শ করা হয়। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় আইনটি যাতে কোনো নিপীড়নমূলক হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সে জন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত সংগ্রহের জন্য খসড়া বিলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং সাইবার স্পেস ব্যবহারকারীরা তাদের মূল্যবান মতামত পাঠিয়েছেন এবং তা সরকারের পক্ষ থেকে সংকলন করা হয়েছে। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘সংশোধনী ছাড়া এই আইন পাস হলে দেশ একটি বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে। ’ ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের যে মূল্যবোধ আমরা প্রত্যাশা করি, তার প্রতিফলন এই খসড়া আইনে নেই।

সরকার নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার আইন করছে, তাই এটার বিরোধিতা করছি। ’ সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক নেতা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।