ঢাকার সাভার উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হলেও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
তবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সঠিক পরিসংখ্যান না থাকায় উপজেলার সার্বিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সেপ্টেম্বর মাস আসতেই ঢাকার অদূরে সাভারে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গুর পারদ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল—সবখানেই এখন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বলছে, প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে।
তবে আশার কথা হলো, সঠিক চিকিৎসায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন সবাই। সরকারি এই হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীরাও সুস্থ হচ্ছেন সরকারি চিকিৎসায়। তবে সরকারি হাসপাতালের চিত্র স্বস্তিদায়ক হলেও, সাভারের একাধিক বেসরকারি হাসপাতালের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না থাকায় উপজেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতির মূল তীব্রতা অধরাই থেকে যাচ্ছে।
সরকারি হাসপাতালে খালি নেই বিছানা। প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোর প্যাথলজি বিভাগে বাড়ছে এনএস-ওয়ান (NS1) ও সিবিসি (CBC) পরীক্ষার চাপ। টেকনিশিয়ানদের দম ফেলার জো নেই। সেবিকারাও দায়িত্ব পালন করছেন বিশেষভাবে। আর আবাসিক মেডিকেল অফিসার জানালেন হাসপাতালে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় বাড়ি রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। ডা. মো. আলমগীর হোসেন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা আর সময়মতো চিকিৎসার ওপর জোর দিচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
মন্ত্রণালয় থেকেও নিয়মিত মনিটরিং চলছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। ডা. ফজলে বারি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় আড়াইশো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিলেন সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। মৌসুমের এই সময়ে ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে বাসা-বাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জ্বর হলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।



















