আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
বজ্রসহ বৃষ্টি
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯২%

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:45:21 am, Thursday, 24 September 2026
  • 13

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সাক্ষাৎকার মোহাম্মদ রিপন মিয়া সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, নিউইয়র্ক দক্ষিণ মহানগর বিএনপি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে তার প্রথম ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। বাংলায় দেওয়া এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তিনি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তার এই উপস্থিতিকে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব, জাতিসংঘে তার ভাষণ, জুলাইয়ের গণআন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা, প্রবাসীদের প্রত্যাশা এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন নিউইয়র্ক দক্ষিণ মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও জুলাইয়ের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রবাসী বিএনপি নেতা মোহাম্মদ রিপন মিয়া। নিউইয়র্কে তার সঙ্গে কথা বলেছেন বিজনেস এডিটর মো. আব্দুর রহিম।

প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। জাতিসংঘের মতো বিশ্বমঞ্চে তার অংশগ্রহণকে আপনি কীভাবে দেখছেন? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: এটি বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এমন একটি বিশ্বমঞ্চ, যেখানে বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা তাদের দেশের অবস্থান, জনগণের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার সেই মঞ্চে বাংলাদেশের কথা বলবেন। তার কণ্ঠে বিশ্ব শুনবে বাংলাদেশের কথা, বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার কথা। আমরা আশা করছি, তিনি এমন একটি বাংলাদেশের রূপরেখা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন—যে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক, মানবিক, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাশীল। প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচিতে বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক, জলবায়ু, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু রয়েছে।

ফলে এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়; বাংলাদেশের স্বার্থকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। প্রশ্ন: আপনি নিজে জুলাইয়ের একজন যোদ্ধা হিসেবে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জুলাইয়ের সেই অভিজ্ঞতা থেকে আজকের বাংলাদেশের প্রতি আপনার প্রত্যাশা কী? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: জুলাই আমাদের কাছে শুধু একটি সময়ের নাম নয়; জুলাই ছিল মানুষের অধিকার, মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও একটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

সেই সময় আমরা যারা মাঠে ছিলাম, তারা খুব কাছ থেকে মানুষের আবেগ, প্রত্যাশা এবং ত্যাগ দেখেছি। জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—রাষ্ট্রের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে জনগণকে। ক্ষমতা কোনো ব্যক্তির বা গোষ্ঠীর জন্য নয়; ক্ষমতা জনগণের সেবা করার দায়িত্ব। একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আমার প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে যেখানে মানুষের ভোটের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে।

জুলাইয়ে যারা জীবন দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, যারা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং যারা বিভিন্নভাবে সেই আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন—তাদের আত্মত্যাগ যেন রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে স্মরণীয় হয়ে থাকে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তব রাষ্ট্রব্যবস্থায় রূপ দেওয়াই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন। প্রশ্ন: জুলাইয়ের একজন যোদ্ধা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আপনার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা কী?

মোহাম্মদ রিপন মিয়া: আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা—তিনি যেন জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শনে পরিণত করেন। বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি রাষ্ট্র চায় যেখানে কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বঞ্চিত হবে না, কেউ অন্যায় করলে তার পরিচয় দিয়ে পার পাবে না এবং একজন সাধারণ নাগরিকও রাষ্ট্রের কাছে নিজের অধিকার দাবি করতে পারবেন।

আমি মনে করি, একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনব্যবস্থা—প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে জনগণের আস্থার জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। জুলাই আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছে, সেটি হলো মানুষের শক্তিকে কখনো অবহেলা করা যায় না। তাই জনগণের সঙ্গে সরকারের সরাসরি সম্পর্ক এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি।

প্রশ্ন: ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন। একজন প্রবাসী ও জুলাই যোদ্ধা হিসেবে এই মুহূর্তকে কীভাবে দেখছেন? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: এটি আমাদের জন্য আবেগের এবং গর্বের মুহূর্ত। বাংলা আমাদের আত্মপরিচয়ের ভাষা। সেই ভাষায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের কথা বলবেন—এটি প্রতিটি বাঙালির জন্য সম্মানের।

এর সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতাও রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমান জাতিসংঘের এই মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন। আমি মনে করি, এটি শুধু একটি পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতা নয়; বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্বেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

বিশেষ করে তিনি যদি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, আইনের শাসন, মানবিক মর্যাদা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিশ্বশান্তির বার্তা বাংলায় তুলে ধরেন, তাহলে সেটি বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের নতুন যাত্রার একটি শক্তিশালী বার্তা হবে। প্রশ্ন: বিশ্বনেতাদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে আপনার প্রত্যাশা কী? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: আমি চাই, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরুন, যে বাংলাদেশ সাহায্যপ্রার্থী নয়—অংশীদার হতে চায়।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। একই সঙ্গে আমাদের রয়েছে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী, বড় বাজার, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সম্ভাবনাময় অর্থনীতি। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের স্বার্থ জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত বক্তব্যে এসব বিষয়সহ গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় গুরুত্ব পাওয়ার কথা রয়েছে। প্রশ্ন: আপনি তারেক রহমানের নেতৃত্বকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: আমি মনে করি, বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় ভিশন।

শুধু পাঁচ বছর বা দশ বছরের জন্য নয়—আগামী প্রজন্মের বাংলাদেশ কেমন হবে, সেই পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সেই ধরনের একটি পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছি। তার সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ—অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসনিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক। আমাদের প্রত্যাশা, তিনি এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলবেন যেখানে যোগ্যতা, সততা ও কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন হবে।

তরুণরা দেশে থেকে ভবিষ্যৎ নির্মাণের সুযোগ পাবে এবং বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকে রাষ্ট্রের কাছে সমান মর্যাদা পাবে। প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রধানমন্ত্রীকে কী ধরনের ভূমিকা পালন করতে দেখতে চান? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হতে হবে আত্মমর্যাদাশীল, ভারসাম্যপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক। বিশ্ব এখন বহুমুখী পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

অর্থনীতি, প্রযুক্তি, জলবায়ু, নিরাপত্তা—সবকিছুই দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যদি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সম্পর্ককে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জলবায়ু সহযোগিতার সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে।

আমি বিশ্বাস করি, তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফর সেই বৃহত্তর কূটনৈতিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। প্রশ্ন: প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা কী? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তারা শুধু রেমিট্যান্স পাঠান না—তারা তাদের জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন।

আমাদের প্রত্যাশা, সরকার প্রবাসীদের শুধু রেমিট্যান্সের উৎস হিসেবে দেখবে না; উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে দেখবে। প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগের সুযোগ সহজ করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে হবে। প্রবাসীদের সম্পদ ও বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোকে আরও জনবান্ধব করতে হবে। একজন প্রবাসী যেন বিপদে পড়লে মনে করেন—‘আমার দেশ আমার পাশে আছে।

’ এই আস্থাটিই আমরা চাই। প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির একটি বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেক নেতাকর্মী দলকে সংগঠিত রাখতে কাজ করছেন। এখন প্রয়োজন একটি পূর্ণাঙ্গ, শক্তিশালী ও কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে ত্যাগ, যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

বিশেষ করে যারা দলের দুঃসময়ে মাঠে ছিলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন—তাদের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। আমি চাই, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি হোক ঐক্যের প্রতীক। এখানে পদ যেন কারও ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় না হয়ে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রশ্ন: নতুন প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে কী করা প্রয়োজন? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি তরুণদের বাস্তবতা বাংলাদেশের তরুণদের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। তাঁদের কাছে রাজনীতিকে নতুন ভাষায় উপস্থাপন করতে হবে।

তরুণদের শুধু মিছিল-মিটিংয়ে নয়, নীতি প্রণয়ন, গবেষণা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্মের বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের শিক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। তাদের মেধা বাংলাদেশের জন্য কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা গেলে বিএনপির পাশাপাশি বাংলাদেশও উপকৃত হবে।

প্রশ্ন: নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিকে ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে, সেটিকে কীভাবে দেখছেন? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: এটি মূলত বাংলাদেশের প্রতি প্রবাসীদের গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে আসায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে মানুষ এখানে এসেছেন। তার সফরকে ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, তা সংবাদমাধ্যমেও উঠে এসেছে।

তবে আমি মনে করি, এই আবেগকে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। আমরা শুধু প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে চাই না; আমরা চাই তাঁর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদেরও অংশীদার করা হোক। প্রশ্ন: একজন জুলাই যোদ্ধা এবং প্রবাসী বিএনপি নেতা হিসেবে দেশের তরুণদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: তরুণরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

জুলাইয়ের অভিজ্ঞতা আমাদের দেখিয়েছে, তরুণদের শক্তি কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন করা যায় না। আমি তরুণদের বলব—দেশকে ভালোবাসুন, নিজের দক্ষতা বাড়ান, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকুন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের স্বার্থে আমাদের একটি জায়গায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে তরুণদের স্বপ্ন দেখার অধিকার থাকবে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগও থাকবে।

প্রশ্ন: সবশেষে জাতিসংঘের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: প্রধানমন্ত্রী, আপনি নিউইয়র্কে শুধু একটি সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দাঁড়াবেন না; আপনি বাংলাদেশের মানুষের আশা, আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যতের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আপনার কণ্ঠে বিশ্ববাসী যেন একটি নতুন বাংলাদেশের কথা শুনতে পায়—যে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক, মানবিক, আত্মমর্যাদাশীল ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ।

জুলাইয়ের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে, মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করেই রাষ্ট্র গড়তে হয়। সেই আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব এখন আমাদের সবার। আপনার বাংলায় দেওয়া ভাষণ যেন শুধু একটি ভাষণ না হয়; এটি যেন হয় বাংলাদেশের নতুন পথচলার একটি প্রতিশ্রুতির বার্তা। আমরা চাই, বিশ্বনেতারা বাংলাদেশকে নতুন চোখে দেখুক। আমরা চাই, প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগের সাহস পান, তরুণরা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখুক এবং সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের ওপর আস্থা ফিরে পাক।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে আরও মর্যাদার সঙ্গে দাঁড়াবে—এই প্রত্যাশা নিয়েই আমরা জাতিসংঘের মঞ্চের দিকে তাকিয়ে আছি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

চার দশক ধরে বাঁশশিল্প আঁকড়ে বেঁচে আছেন ৭৬ বছরের গীরেন বৈরাগী

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে

Update Time : 11:45:21 am, Thursday, 24 September 2026

সাক্ষাৎকার মোহাম্মদ রিপন মিয়া সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, নিউইয়র্ক দক্ষিণ মহানগর বিএনপি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে তার প্রথম ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। বাংলায় দেওয়া এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তিনি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তার এই উপস্থিতিকে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব, জাতিসংঘে তার ভাষণ, জুলাইয়ের গণআন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা, প্রবাসীদের প্রত্যাশা এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন নিউইয়র্ক দক্ষিণ মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও জুলাইয়ের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রবাসী বিএনপি নেতা মোহাম্মদ রিপন মিয়া। নিউইয়র্কে তার সঙ্গে কথা বলেছেন বিজনেস এডিটর মো. আব্দুর রহিম।

প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। জাতিসংঘের মতো বিশ্বমঞ্চে তার অংশগ্রহণকে আপনি কীভাবে দেখছেন? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: এটি বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এমন একটি বিশ্বমঞ্চ, যেখানে বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা তাদের দেশের অবস্থান, জনগণের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার সেই মঞ্চে বাংলাদেশের কথা বলবেন। তার কণ্ঠে বিশ্ব শুনবে বাংলাদেশের কথা, বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার কথা। আমরা আশা করছি, তিনি এমন একটি বাংলাদেশের রূপরেখা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন—যে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক, মানবিক, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাশীল। প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচিতে বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক, জলবায়ু, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু রয়েছে।

ফলে এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়; বাংলাদেশের স্বার্থকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। প্রশ্ন: আপনি নিজে জুলাইয়ের একজন যোদ্ধা হিসেবে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জুলাইয়ের সেই অভিজ্ঞতা থেকে আজকের বাংলাদেশের প্রতি আপনার প্রত্যাশা কী? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: জুলাই আমাদের কাছে শুধু একটি সময়ের নাম নয়; জুলাই ছিল মানুষের অধিকার, মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও একটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

সেই সময় আমরা যারা মাঠে ছিলাম, তারা খুব কাছ থেকে মানুষের আবেগ, প্রত্যাশা এবং ত্যাগ দেখেছি। জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—রাষ্ট্রের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে জনগণকে। ক্ষমতা কোনো ব্যক্তির বা গোষ্ঠীর জন্য নয়; ক্ষমতা জনগণের সেবা করার দায়িত্ব। একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আমার প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে যেখানে মানুষের ভোটের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে।

জুলাইয়ে যারা জীবন দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, যারা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং যারা বিভিন্নভাবে সেই আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন—তাদের আত্মত্যাগ যেন রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে স্মরণীয় হয়ে থাকে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তব রাষ্ট্রব্যবস্থায় রূপ দেওয়াই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন। প্রশ্ন: জুলাইয়ের একজন যোদ্ধা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আপনার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা কী?

মোহাম্মদ রিপন মিয়া: আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা—তিনি যেন জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শনে পরিণত করেন। বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি রাষ্ট্র চায় যেখানে কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বঞ্চিত হবে না, কেউ অন্যায় করলে তার পরিচয় দিয়ে পার পাবে না এবং একজন সাধারণ নাগরিকও রাষ্ট্রের কাছে নিজের অধিকার দাবি করতে পারবেন।

আমি মনে করি, একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনব্যবস্থা—প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে জনগণের আস্থার জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। জুলাই আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছে, সেটি হলো মানুষের শক্তিকে কখনো অবহেলা করা যায় না। তাই জনগণের সঙ্গে সরকারের সরাসরি সম্পর্ক এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি।

প্রশ্ন: ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন। একজন প্রবাসী ও জুলাই যোদ্ধা হিসেবে এই মুহূর্তকে কীভাবে দেখছেন? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: এটি আমাদের জন্য আবেগের এবং গর্বের মুহূর্ত। বাংলা আমাদের আত্মপরিচয়ের ভাষা। সেই ভাষায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের কথা বলবেন—এটি প্রতিটি বাঙালির জন্য সম্মানের।

এর সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতাও রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমান জাতিসংঘের এই মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন। আমি মনে করি, এটি শুধু একটি পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতা নয়; বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্বেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

বিশেষ করে তিনি যদি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, আইনের শাসন, মানবিক মর্যাদা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিশ্বশান্তির বার্তা বাংলায় তুলে ধরেন, তাহলে সেটি বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের নতুন যাত্রার একটি শক্তিশালী বার্তা হবে। প্রশ্ন: বিশ্বনেতাদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে আপনার প্রত্যাশা কী? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: আমি চাই, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরুন, যে বাংলাদেশ সাহায্যপ্রার্থী নয়—অংশীদার হতে চায়।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। একই সঙ্গে আমাদের রয়েছে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী, বড় বাজার, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সম্ভাবনাময় অর্থনীতি। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের স্বার্থ জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত বক্তব্যে এসব বিষয়সহ গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় গুরুত্ব পাওয়ার কথা রয়েছে। প্রশ্ন: আপনি তারেক রহমানের নেতৃত্বকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: আমি মনে করি, বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় ভিশন।

শুধু পাঁচ বছর বা দশ বছরের জন্য নয়—আগামী প্রজন্মের বাংলাদেশ কেমন হবে, সেই পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সেই ধরনের একটি পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছি। তার সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ—অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসনিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক। আমাদের প্রত্যাশা, তিনি এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলবেন যেখানে যোগ্যতা, সততা ও কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন হবে।

তরুণরা দেশে থেকে ভবিষ্যৎ নির্মাণের সুযোগ পাবে এবং বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকে রাষ্ট্রের কাছে সমান মর্যাদা পাবে। প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রধানমন্ত্রীকে কী ধরনের ভূমিকা পালন করতে দেখতে চান? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হতে হবে আত্মমর্যাদাশীল, ভারসাম্যপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক। বিশ্ব এখন বহুমুখী পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

অর্থনীতি, প্রযুক্তি, জলবায়ু, নিরাপত্তা—সবকিছুই দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যদি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সম্পর্ককে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জলবায়ু সহযোগিতার সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে।

আমি বিশ্বাস করি, তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফর সেই বৃহত্তর কূটনৈতিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। প্রশ্ন: প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা কী? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তারা শুধু রেমিট্যান্স পাঠান না—তারা তাদের জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন।

আমাদের প্রত্যাশা, সরকার প্রবাসীদের শুধু রেমিট্যান্সের উৎস হিসেবে দেখবে না; উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে দেখবে। প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগের সুযোগ সহজ করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে হবে। প্রবাসীদের সম্পদ ও বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোকে আরও জনবান্ধব করতে হবে। একজন প্রবাসী যেন বিপদে পড়লে মনে করেন—‘আমার দেশ আমার পাশে আছে।

’ এই আস্থাটিই আমরা চাই। প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির একটি বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেক নেতাকর্মী দলকে সংগঠিত রাখতে কাজ করছেন। এখন প্রয়োজন একটি পূর্ণাঙ্গ, শক্তিশালী ও কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে ত্যাগ, যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

বিশেষ করে যারা দলের দুঃসময়ে মাঠে ছিলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন—তাদের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। আমি চাই, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি হোক ঐক্যের প্রতীক। এখানে পদ যেন কারও ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় না হয়ে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রশ্ন: নতুন প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে কী করা প্রয়োজন? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি তরুণদের বাস্তবতা বাংলাদেশের তরুণদের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। তাঁদের কাছে রাজনীতিকে নতুন ভাষায় উপস্থাপন করতে হবে।

তরুণদের শুধু মিছিল-মিটিংয়ে নয়, নীতি প্রণয়ন, গবেষণা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্মের বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের শিক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। তাদের মেধা বাংলাদেশের জন্য কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা গেলে বিএনপির পাশাপাশি বাংলাদেশও উপকৃত হবে।

প্রশ্ন: নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিকে ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে, সেটিকে কীভাবে দেখছেন? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: এটি মূলত বাংলাদেশের প্রতি প্রবাসীদের গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে আসায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে মানুষ এখানে এসেছেন। তার সফরকে ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, তা সংবাদমাধ্যমেও উঠে এসেছে।

তবে আমি মনে করি, এই আবেগকে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। আমরা শুধু প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে চাই না; আমরা চাই তাঁর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদেরও অংশীদার করা হোক। প্রশ্ন: একজন জুলাই যোদ্ধা এবং প্রবাসী বিএনপি নেতা হিসেবে দেশের তরুণদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: তরুণরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

জুলাইয়ের অভিজ্ঞতা আমাদের দেখিয়েছে, তরুণদের শক্তি কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন করা যায় না। আমি তরুণদের বলব—দেশকে ভালোবাসুন, নিজের দক্ষতা বাড়ান, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকুন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের স্বার্থে আমাদের একটি জায়গায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে তরুণদের স্বপ্ন দেখার অধিকার থাকবে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগও থাকবে।

প্রশ্ন: সবশেষে জাতিসংঘের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী? মোহাম্মদ রিপন মিয়া: প্রধানমন্ত্রী, আপনি নিউইয়র্কে শুধু একটি সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দাঁড়াবেন না; আপনি বাংলাদেশের মানুষের আশা, আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যতের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আপনার কণ্ঠে বিশ্ববাসী যেন একটি নতুন বাংলাদেশের কথা শুনতে পায়—যে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক, মানবিক, আত্মমর্যাদাশীল ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ।

জুলাইয়ের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে, মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করেই রাষ্ট্র গড়তে হয়। সেই আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব এখন আমাদের সবার। আপনার বাংলায় দেওয়া ভাষণ যেন শুধু একটি ভাষণ না হয়; এটি যেন হয় বাংলাদেশের নতুন পথচলার একটি প্রতিশ্রুতির বার্তা। আমরা চাই, বিশ্বনেতারা বাংলাদেশকে নতুন চোখে দেখুক। আমরা চাই, প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগের সাহস পান, তরুণরা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখুক এবং সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের ওপর আস্থা ফিরে পাক।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে আরও মর্যাদার সঙ্গে দাঁড়াবে—এই প্রত্যাশা নিয়েই আমরা জাতিসংঘের মঞ্চের দিকে তাকিয়ে আছি।