আজ বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৬%

রামেকে রোগী ভাগিয়ে ক্লিনিকে নেওয়ার অভিযোগে ৭ দালালের কারাদণ্ড

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:21:49 pm, Wednesday, 23 September 2026
  • 11

রামেকে রোগী ভাগিয়ে ক্লিনিকে নেওয়ার অভিযোগে ৭ দালালের কারাদণ্ড

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানোর অভিযোগে সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের বহির্বিভাগে দালালবিরোধী অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিত সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের সাজা দেন। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও তিনজন নারী। তারা হলেন—সুজন পলান, মো. সানি, বাবু দাশ, আহমদ আলী, মোছা. সিমা, তৌহিদা তানজিম ও মোছা. রিনা খাতুন।

অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি দালালচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। রোগী ও স্বজনদের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসা, অ্যাম্বুলেন্স ও দ্রুত সেবা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তাদের প্রভাবিত করেন। পরে কৌশলে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করানো কিংবা চিকিৎসা নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এসআরবি-৫-এর সদস্যরা বুধবার দুপুরে বহির্বিভাগ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি চালান। এ সময় রোগী ও স্বজনদের অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা এবং দালালি কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিত সরকার বলেন, রামেক হাসপাতাল উত্তরাঞ্চলসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

প্রতিদিন আশপাশের প্রায় ৮ থেকে ১০টি জেলা থেকে রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে একটি শ্রেণি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে অর্থ আদায় করছে। তিনি বলেন, ‘অনেক রোগী চিকিৎসার জন্য যে টাকা নিয়ে আসেন, দালালদের খপ্পরে পড়ে সেই টাকাও হারিয়ে ফেলছেন। পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ’ হাসপাতালের নির্দেশনা অমান্য করে দালালি কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে সাতজনকে সাজা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দালালবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রাজশাহী এসআরবি-৫-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মঞ্জুরুল কবির পিয়াল বলেন, হাসপাতাল এলাকায় রোগী ও তাদের স্বজনদের হয়রানি, প্রতারণা এবং অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

‘বালু ব্যবসার দ্বন্দ্বে খুন হচ্ছেন নিজ দলের নেতাকর্মীরাই’

রামেকে রোগী ভাগিয়ে ক্লিনিকে নেওয়ার অভিযোগে ৭ দালালের কারাদণ্ড

Update Time : 08:21:49 pm, Wednesday, 23 September 2026

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানোর অভিযোগে সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের বহির্বিভাগে দালালবিরোধী অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিত সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের সাজা দেন। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও তিনজন নারী। তারা হলেন—সুজন পলান, মো. সানি, বাবু দাশ, আহমদ আলী, মোছা. সিমা, তৌহিদা তানজিম ও মোছা. রিনা খাতুন।

অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি দালালচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। রোগী ও স্বজনদের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসা, অ্যাম্বুলেন্স ও দ্রুত সেবা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তাদের প্রভাবিত করেন। পরে কৌশলে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করানো কিংবা চিকিৎসা নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এসআরবি-৫-এর সদস্যরা বুধবার দুপুরে বহির্বিভাগ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি চালান। এ সময় রোগী ও স্বজনদের অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা এবং দালালি কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিত সরকার বলেন, রামেক হাসপাতাল উত্তরাঞ্চলসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

প্রতিদিন আশপাশের প্রায় ৮ থেকে ১০টি জেলা থেকে রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে একটি শ্রেণি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে অর্থ আদায় করছে। তিনি বলেন, ‘অনেক রোগী চিকিৎসার জন্য যে টাকা নিয়ে আসেন, দালালদের খপ্পরে পড়ে সেই টাকাও হারিয়ে ফেলছেন। পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ’ হাসপাতালের নির্দেশনা অমান্য করে দালালি কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে সাতজনকে সাজা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দালালবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রাজশাহী এসআরবি-৫-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মঞ্জুরুল কবির পিয়াল বলেন, হাসপাতাল এলাকায় রোগী ও তাদের স্বজনদের হয়রানি, প্রতারণা এবং অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।