জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিত্যপণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। তবে ভোক্তা সংগঠন ক্যাবের আশঙ্কা, এই সুযোগে নানা অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা করতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি আরও বাড়লে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ জন্য এমএসসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
সবজি, ফল, ফসলের মাঠে পানি সেচ দিতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয় ডিজেল। উৎপাদিত সেই পণ্য দূরের গন্তব্যে পাঠাতে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের জ্বালানিও ডিজেল। তাই সংগত কারণে লিটারে ২০ টাকা দাম বৃদ্ধির প্রভাব বাজারে পড়তে শুরু করেছে।
পরিবহন খরচের কারণে দামবৃদ্ধির দৌড়ে পানীয়, টয়লেট্রিজ ও সব ধরনের ভোগ্যপণ্য। তবে ভোক্তা সংগঠন বলছে, এমন ঘটনায় বাড়তি সুযোগ নেয় বিক্রেতারা।
ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, ‘পরিবহনের ধাক্কাটা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে যায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের দ্রব্যমূল্যের উচ্চ বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীরা একটা অজুহাত পায়। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে যতটুকু দ্রব্যমূল্য বাড়ে তার চেয়ে ৫–৭ গুণ পৌনঃপুনিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় এক দশক সার্বিক মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশের নিচে ছিল। কিন্তু সে বছর আগস্টে ডিজেলের লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানো হলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে সাড়ে ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা আরো চাপে পড়বে।
সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘সাধারণ ব্যবস্থায় এই পে-স্বেল হয়তো মূল্য বৃদ্ধিতে তেমন কোনো প্রভাব রাখতো না। কিন্তু পাশাপাশি যখন জ্বালানি তেলেরও মূল্য বাড়ল তাতে কিন্তু একটা প্রত্যাশা হবে। সুতরাং যারা মজুত করতে চান, কিংবা যারা ভাবেন আরও দাম বাড়লে বিক্রি করব, সেই প্রবণতাও হতে পারে। সব মিলিয়ে এই সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে এক ধরনের অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে। বিগত সময়েও দেখা গেছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি হলে তখন সেটা মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলে।’
দেশে দূর পাল্লায় চলা বাস, ট্রাক ডিজেলেই চলে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জ্বালানির দাম বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে পড়ে দ্রুত।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শফিকুল আলম বলেন, ‘আগামী কয়েক বছর যদি পণ্য পরিবহনগুলোকে যদি ইলেকটিক যনবাহনে পরিণত করা যায়, এবং সেখানে সোলার পাওয়ার চার্জিং সিস্টেম যদি করা হয় তাহলে সোলার পাওয়ার দিয়ে তাদের গাড়ি চালানো সহজ হবে। এর ফলে তেলের ওপর চাপ কমাতে পারব।’
এদিকে, জ্বালানির দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধির পর বাসের ভাড়া প্রতিকিলোমিটারে বেড়েছে ১৭ পয়সা। তবে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ট্রাকের নতুন ভাড়ার রেট ঘোষণা হয়নি। যদিও এরই মধ্যে বাড়তি ভাড়া হাঁকছেন চালক-মালিকেরা।



















