ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার ইশাপাশা গ্রামে পৈতৃক জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে আপন ছোট ভাই ও ভাতিজাদের হামলায় ওসমান মোল্যা (৫৫) নামে এক দিনমজুর গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের শয্যায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত ওসমান মোল্যা বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ ও ঘটনার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার ইশাপাশা গ্রামের মৃত আলিম উদ্দিন মোল্যার দুই ছেলে ওসমান মোল্যা ও নুরুল হকের মধ্যে পৈতৃক জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে নুরুল হকের নেতৃত্বে তার ছেলেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওসমান মোল্যার বসতবাড়িতে হামলা চালায়।
হামলা চলাকালে নুরুল হকের বড় ছেলে রসুল মোল্যা লোহার রড দিয়ে ওসমান মোল্যাকে সজোরে আঘাত করলে তার বাম হাতের কব্জির হাড় ভেঙে যায়। এ ছাড়া অন্য অভিযুক্তরা তাকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক নীলাফুলা জখম করে। এ সময় বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে ওসমান মোল্যার ছোট ছেলে নাইম মোল্যাকেও ধারালো বঁটি দিয়ে কোপানো হয়।
এতে তার বাম হাতের তর্জনী আঙুল কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরবর্তীকালে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে নাইম মোল্যাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে ওসমান মোল্যার আঘাত গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওসমান মোল্যার স্ত্রী রূপবান বেগম বাদী হয়ে নুরুল হকসহ তার পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অশ্রুসজল চোখে ভুক্তভোগী ওসমান মোল্যার স্ত্রী রূপবান বেগম বলেন, ‘আমরা দিনমজুর, দিন আনি দিন খাই। আমার স্বামীর বাম হাত ভেঙে দিয়েছে। এখন আমাদের সংসার কীভাবে চলবে? আমরা এই নির্মম হামলার বিচার চাই। ‘ ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত নুরুল হক ও তার পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। হামলার পর থেকেই তারা পলাতক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. সোহেল সারোয়ার জানান, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।


















