কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশজুড়ে সুসংগঠিত নাশকতার চেষ্টা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর অংশ হিসেবে রাজধানীসহ সারা দেশে মোট দেড় হাজার চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত নাশকতার ঘটনা প্রতিরোধ করতে না পারাকে গোয়েন্দা ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।
সেপ্টেম্বরের মাঝামিাঝি থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঘটে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ। বাসের পাশাপাশি রেলের বগিতেও দেওয়া হয় আগুন।
একদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজা, অন্যদিকে ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার জল্পনার মাঝেই চালানো হয় এসব নাশকতা।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে এরইমধ্যে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্ক্ষলা বাহিনী। ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশপথ, ফ্লাইওভার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। রাজধানীসহ সারা দেশে দেড় হাজারের বেশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
নাশকতার ঘটনায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীসহ বেশকিছু দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে অনেকেই।
পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, যারা ককটেল বা বিস্ফোরক দ্রব্য বহন করে কিংবা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের ওপর বিশেষ নজরদারি রয়েছে। আগাম গোয়েন্দা তথ্যে এরইমধ্যে অনেককেই শনাক্ত করেছি। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যে তথ্য থাকে আমরা তা বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দিচ্ছি।
নিরাপত্তা বলয় এড়িয়ে রাজধানীতে যানবাহনে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ জনমনে বাড়িয়েছে উদ্বেগ। এজন্য গোয়েন্দা নজরদারির ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে। এখানে গোয়েন্দা ডিপার্টমেন্টগুলোর সমন্বয় আছে কি না, তা ভাবার বিষয়। শুধু নজরদারি করলেই হবে না, পদক্ষেপও নিতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ দিচ্ছেন অপরাধ বিশ্লেষকেরা।



















