কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সরকারের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর থেকেই জনমনে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। হঠাৎ করে তেলের দাম বৃদ্ধির পরপরই সরকার প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন ভাড়ার তালিকা হাতে না পাওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন রুটে ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহনকর্মীদের বাগবিতণ্ডা, তর্কাতর্কি, হাতাহাতি, মারামারি শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও আগের ভাড়ার চেয়ে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। সাভার থেকে আসা এক যাত্রী বলেন, তিনি এ পথে আগে ৭০ টাকা ভাড়া দিতেন।
এখন ৮০ টাকা চাওয়া হয়েছে। তবে তিনি আগের ভাড়া ৭০ টাকাই দিয়েছেন। এ নিয়ে বাসের স্টাফের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়েছে। ওই যাত্রী বলেন, নতুন ভাড়া বাড়ানোর কথা শুনেছি। কিন্তু বাসে নতুন ভাড়ার তালিকা দেখিনি। তাই আগের ভাড়াই দিয়েছি। আরেক যাত্রী বলেন, কয়েকটি রুটে গতকাল থেকেই আগের ভাড়ার চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে। নতুন ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের মধ্যেও পরিষ্কার ধারণা নেই।
ফলে বাসে ওঠার পর ভাড়া নিয়ে স্টাফদের সঙ্গে তর্কে জড়াতে হচ্ছে। সদরঘাট বাস স্টেশনে কয়েকজন পরিবহনকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা নতুন ভাড়ার তালিকা এখনো হাতে পাননি। তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর ভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানেন। নতুন তালিকা পাওয়ার পর সেই অনুযায়ী ভাড়া নেওয়া হবে। এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাস ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
সোমবার দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা এবং মহানগর এলাকায় ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও পরিবহন মালিকদের বৈঠকে দূরপাল্লা ও মহানগর উভয় ধরনের বাসে কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা হয়েছে।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা করা হয়েছে। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর রাতে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটার ২০ টাকা করে বাড়ায়। নতুন দরে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ এবং কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।



















