আজ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৯ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৫%

খেলাপি পাঁচ ব্রোকারেজের ১৭,৩৩২ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীকে ক্ষতিপূরণ দেবে ডিএসই

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:37:43 pm, Tuesday, 22 September 2026
  • 11

খেলাপি পাঁচ ব্রোকারেজের ১৭,৩৩২ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীকে ক্ষতিপূরণ দেবে ডিএসই

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

খেলাপি পাঁচ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ১৭ হাজার ৩৩২ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীকে ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ড থেকে ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু করবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে এ অর্থ দেওয়া শুরু হবে।

মঙ্গলবার ঢাকার নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমানে পাঁচটি ডিফল্টার ব্রোকারেজ হাউজে ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে হাউজগুলো ও ইনভেস্টরস প্রোটেকশন ফান্ড থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা পাঁচটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—মশিহর সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড এবং ব্যাংকো সিকিউরিটিজ। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ ২৫০ কোটি টাকার বেশি। সংবাদ সম্মেলনে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, যাচাই করা দাবির বিপরীতে প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা করে পাবেন।

মমিনুল ইসলাম বলেন, “পুরো অর্থ বিতরণ প্রক্রিয়া শেষ করতে দুই মাসের কিছু বেশি সময় লাগবে। ” ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে সব বিনিয়োগকারীর ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ সম্পূর্ণভাবে আইপিএফ থেকে পরিশোধ করা হবে। আগামী ২৮ তারিখ থেকে কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি জানান, মোট ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারী, অর্থাৎ প্রায় ৯৭ শতাংশ, তাদের টাকা সম্পূর্ণভাবে ফেরত পাবেন।

তবে ৫৯৩ জন বিনিয়োগকারীর পাওনা অর্থ পুরোপুরি ফেরত দিতে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে। এ বিষয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, অবশিষ্ট বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ডিফল্টার ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি, ডিএসইতে থাকা তাদের শেয়ার বিক্রি এবং পরিচালকদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এমনকি প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আইপিএফে জমা হওয়া অর্থ থেকেও ওই ৫৯৩ জন বিনিয়োগকারীর পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, এইটা আমি বলবো আমাদের পুঁজিবাজারের জন্য একটি মাইলফলক ঘটনা এবং আমাদের বাজারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকিং খাতেও আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তবে সেখানে সমস্যার পরিধি বড় হওয়ায় আমানতকারীদের এখনো দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে পুঁজিবাজারে নেওয়া উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে তাদের পুরো অর্থ ফেরত পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের আশ্বস্ত করে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান যাতে খেলাপি হতে না পারে, সে জন্য নিয়ন্ত্রক তদারকি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এসব ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় চারটি মামলা বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তাধীন। আর একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

১ হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ

খেলাপি পাঁচ ব্রোকারেজের ১৭,৩৩২ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীকে ক্ষতিপূরণ দেবে ডিএসই

Update Time : 04:37:43 pm, Tuesday, 22 September 2026

খেলাপি পাঁচ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ১৭ হাজার ৩৩২ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীকে ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ড থেকে ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু করবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে এ অর্থ দেওয়া শুরু হবে।

মঙ্গলবার ঢাকার নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমানে পাঁচটি ডিফল্টার ব্রোকারেজ হাউজে ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে হাউজগুলো ও ইনভেস্টরস প্রোটেকশন ফান্ড থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা পাঁচটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—মশিহর সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড এবং ব্যাংকো সিকিউরিটিজ। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ ২৫০ কোটি টাকার বেশি। সংবাদ সম্মেলনে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, যাচাই করা দাবির বিপরীতে প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা করে পাবেন।

মমিনুল ইসলাম বলেন, “পুরো অর্থ বিতরণ প্রক্রিয়া শেষ করতে দুই মাসের কিছু বেশি সময় লাগবে। ” ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে সব বিনিয়োগকারীর ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ সম্পূর্ণভাবে আইপিএফ থেকে পরিশোধ করা হবে। আগামী ২৮ তারিখ থেকে কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি জানান, মোট ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারী, অর্থাৎ প্রায় ৯৭ শতাংশ, তাদের টাকা সম্পূর্ণভাবে ফেরত পাবেন।

তবে ৫৯৩ জন বিনিয়োগকারীর পাওনা অর্থ পুরোপুরি ফেরত দিতে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে। এ বিষয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, অবশিষ্ট বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ডিফল্টার ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি, ডিএসইতে থাকা তাদের শেয়ার বিক্রি এবং পরিচালকদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এমনকি প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আইপিএফে জমা হওয়া অর্থ থেকেও ওই ৫৯৩ জন বিনিয়োগকারীর পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, এইটা আমি বলবো আমাদের পুঁজিবাজারের জন্য একটি মাইলফলক ঘটনা এবং আমাদের বাজারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকিং খাতেও আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তবে সেখানে সমস্যার পরিধি বড় হওয়ায় আমানতকারীদের এখনো দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে পুঁজিবাজারে নেওয়া উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে তাদের পুরো অর্থ ফেরত পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের আশ্বস্ত করে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান যাতে খেলাপি হতে না পারে, সে জন্য নিয়ন্ত্রক তদারকি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এসব ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় চারটি মামলা বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তাধীন। আর একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।