স্মার্টফোনে ছবি তোলার অভ্যাস থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই গ্যালারিতে জমে যায় হাজার হাজার ছবি ও ভিডিও। ভ্রমণ, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্ত ধরে রাখা এসব ছবির কোনো একটি হঠাৎ প্রয়োজন হলে বিপাকে পড়তে হয়।
বিশেষ করে ছবিটি ঠিক কবে তোলা হয়েছিল তা মনে না থাকলে গ্যালারি স্ক্রল করে কাক্সিক্ষত ছবি খুঁজে বের করা বেশ সময়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে। তবে গুগল ফটোসের ‘ম্যাপ ভিউ’ সুবিধা এই সমস্যার সহজ সমাধান দিতে পারে। ছবিটি কবে তোলা হয়েছিল তা মনে না থাকলেও কোথায় তোলা হয়েছিল, সেটি মনে থাকলে অবস্থানের তথ্য ব্যবহার করে পুরোনো ছবি খুঁজে বের করা সম্ভব।
ধরা যাক, কয়েক বছর আগে দার্জিলিং ভ্রমণে গিয়ে অনেক ছবি তুলেছিলেন। কিন্তু সেই ছবিগুলো কোন তারিখে তোলা হয়েছিল, তা আর মনে নেই। এ ক্ষেত্রে গুগল ফটোসের ম্যাপ ভিউয়ে দার্জিলিংয়ের অবস্থান নির্বাচন করলেই ওই এলাকার সঙ্গে সম্পর্কিত ছবি ও ভিডিওগুলো দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ তারিখ, ফাইলের নাম কিংবা ছবির ক্রম মনে রাখার পরিবর্তে শুধু জায়গাটির নাম বা অবস্থান মনে থাকলেই খোঁজ পাওয়া সম্ভব।
এই সুবিধার পেছনে কাজ করে ছবির সঙ্গে সংরক্ষিত অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য। ছবি তোলার সময় ফোনে জিপিএস বা অবস্থান শনাক্ত করার সুবিধা চালু থাকলে সেই তথ্য ছবির সঙ্গে সংরক্ষিত হতে পারে। পরে গুগল ফটোস সেই তথ্য ব্যবহার করে ছবিগুলোকে নির্দিষ্ট এলাকার সঙ্গে যুক্ত করে। কিছু ক্ষেত্রে ছবি তোলার সময় অবস্থান শনাক্ত করার সুবিধা বন্ধ থাকলেও অন্যান্য সংরক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতে গুগল ফটোস ছবির অবস্থান অনুমান করতে পারে।
তবে এই সুবিধা সব ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ করবে এমন নয়। এটি নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ফোন, গুগল অ্যাকাউন্ট এবং সংশ্লিষ্ট অবস্থান-সংক্রান্ত সেটিংসের ওপর। ম্যাপ ভিউয়ের আরেকটি আকর্ষণীয় সুবিধা হলো ‘হিট ম্যাপ’। এর মাধ্যমে মানচিত্রে কোন কোন এলাকায় তুলনামূলক বেশি ছবি তোলা হয়েছে, তা সহজেই বোঝা যায়। কোনো এলাকায় বেশি ছবি থাকলে সেটি মানচিত্রে আলাদাভাবে দৃশ্যমান হয়।
ফলে ব্যবহারকারী নিজের বাড়ি, কর্মস্থল, নিয়মিত যাতায়াতের জায়গা কিংবা ভ্রমণের গন্তব্যÑ কোন এলাকায় বেশি ছবি তুলেছেন, তা এক নজরেই বুঝতে পারেন। ম্যাপ ভিউ ব্যবহার করাও বেশ সহজ। গুগল ফটোসের হালনাগাদ সংস্করণে ম্যাপ ভিউয়ে গিয়ে কাক্সিক্ষত এলাকার অবস্থান নির্বাচন করতে হবে। এরপর ওই অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত ছবি ও ভিডিওগুলো দেখা যাবে।
ছবির অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকলে সেগুলো তুলনামূলক দ্রুত খুঁজে পাওয়া সম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে ছবি সংরক্ষণ করে রাখা ব্যবহারকারীদের জন্য এই সুবিধাটি বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে। বিশেষ করে ভ্রমণের ছবি খোঁজার ক্ষেত্রে এর ব্যবহারিক সুবিধা বেশি। অনেক বছর আগে কোথায় গিয়েছিলেন, তা হয়তো মনে আছে; কিন্তু সঠিক তারিখটি মনে নেই। সে ক্ষেত্রে তারিখ ধরে খোঁজার পরিবর্তে মানচিত্রে সেই জায়গাটি খুঁজে নেওয়াই হতে পারে সহজ উপায়।
ফলে হাজার হাজার ছবি ও ভিডিওর মধ্য থেকে একটি পুরোনো ছবি খুঁজতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যালারি স্ক্রল করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। ছবির সঙ্গে অবস্থানের তথ্য সংরক্ষিত থাকলে গুগল ফটোসের ম্যাপ ভিউ ব্যবহার করে কয়েক বছর আগের ছবিও তুলনামূলক সহজে খুঁজে বের করা সম্ভব।



















