ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় থানার গেট ও ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাংচুরের ঘটনায় বিএনপি নেতাসহ ৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা বেজে ৫ মিনিটে মুক্তাগাছা থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ মিঠু মিয়া বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ রব্বানী (টুটুল) ও তাঁর ছেলে উপলসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়। মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম থানায় ও ট্রাফিক পুলিশ বক্সে ভাংচুরোর ঘটনায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুক্তাগাছা থানায় প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
পরে রাত ১০টার দিকে থানা ফটক ও ট্রাফিক পুলিশ বক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আরিফ রব্বানী মুক্তাগাছা পৌরসভার ঈশ্বরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আরিফ রব্বানী থানায় গিয়ে ওসির কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় অন-কর্তব্যরত কনস্টেবল বকুল মিয়া তাঁকে জানান, ভেতরে ওসি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করছেন এবং তাঁকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন।
এ নিয়ে আরিফ রব্বানীর সঙ্গে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যের কথা-কাটাকাটি হয়। হট্টগোলের খবর পেয়ে ওসি কামরুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় ওসির সঙ্গেও আরিফ রব্বানীর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে উপস্থিত ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী পরিস্থিতি শান্ত করে তাঁকে থানা থেকে বের করে নিয়ে যান বলে জানা গেছে। পুলিশের অভিযোগ, রাত ১০টার দিকে আরিফ রব্বানীর নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবার থানার চত্বরে আসেন।
তাঁরা থানার প্রধান ফটক ও পাশের ট্রাফিক পুলিশ বক্সে হামলা চালিয়ে জানালার কাচ ভাঙচুর করেন এবং লোহার রড বাঁকা করে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার ১ নম্বর আসামি আরিফ রব্বানী। তাঁর দাবি, তিনি থানায় একটি অভিযোগের বিষয়ে জানতে গিয়েছিলেন। ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং চলছিল, তা তাঁর জানা ছিল না।
আরিফ রব্বানী বলেন, আমি থানায় একটি অভিযোগের বিষয়ে জানতে গিয়েছিলাম। ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং চলছিল, এটা আমার জানা ছিল না। আমি ভেতরে প্রবেশ করিনি, শুধু উঁকি দিয়ে একটু দেখেছিলাম। এরপর কর্তব্যরত সেন্ট্রি আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার শুরু করেন। তিনি বলেন, পরে কয়েকজন কর্মকর্তা আমাকে অপেক্ষা করতে বলেন। তাঁদের কথামতো আমি অপেক্ষা করতে থাকি।
একপর্যায়ে ওসি আমার কাছে আসেন এবং আমাকে ও আমার দলকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। আমি আশা করেছিলাম, যেহেতু ওসি সাহেব আমাকে চেনেন, সেহেতু সেন্ট্রি আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে, সেটি নিয়ে তিনি কিছু বলবেন। কিন্তু তিনি নিজেও আমার সঙ্গে বিভিন্ন ভাষায় গালাগাল করেন এবং আমাকে লকআপের দিকে নিয়ে যান। আরিফ রব্বানীর বলেন, একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ওসি সাহেবকে বুঝিয়ে বিষয়টি মিটমাট করেন।
এরপর আমি থানা থেকে বের হয়ে আসি। পরে আমার নেতাকর্মীদের বিষয়টি জানালে তাঁরা বলেন, পরদিন সকালে থানায় যাবেন। এর মধ্যে কে বা কারা থানায় হামলা করেছে, এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। এদিকে মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, শুনেছি তিনি একটি অভিযোগ দিতে থানায় এসেছিলেন। সেখানে বাগবিতণ্ডার খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু লোক জড়ো হয়।
বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, থানায় হামলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। যদি দলীয় কেউ এতে জড়িত থাকে, তবে সাংগঠনিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মামলায় আরিফ রব্বানীকে ১ নম্বর এবং তাঁর ছেলে উপলকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। বাকি আসামিদের নাম মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মামলায় অভিযুক্তদের কারো গ্রেপ্তারের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।



















