কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেছিলেন বলে জানিয়েছেন অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে শিক্ষক সমিতির আয়োজিত মানববন্ধনে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহাত শীলাও ফাহাদের সেখানে কাজ নেওয়ার বিষয়টি জানান। ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, ২ সেপ্টেম্বর ফাহাদ তাঁর বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর অফিসে এসেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটিতে ডেলিভারি ও ফিল্ড পর্যায়ে কাজের জন্য লোক নেওয়া হচ্ছিল।
ফাহাদকে কাজ দেওয়ার আগে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। প্রথমে তার কাজ ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করে পরে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি করার কথা ছিল। অপ্রতিমের বাবা বলেন, “ফাহাদ আমাদের সঙ্গে কাজ করছিল এবং তার কাজ ও আচরণ ভালোই ছিল। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পরও প্রথমদিকে সে আমাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে। তাই তখন তার প্রতি আমাদের কোনো সন্দেহ তৈরি হয়নি।
” ফাহাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় সম্পর্কে ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, “আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, অপ্রতিমকে চেনে কি না। সে বলেছিল, একটি গ্রুপের মাধ্যমে অপ্রতিমকে চেনে এবং তাকে ভালোভাবেই চেনে। ” তিনি জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর শুক্রবার রাতে তিনি ফাহাদকে ফোন করে অপ্রতিমকে দেখেছে কি না জানতে চান। তখন ফাহাদ জানায়, তার সঙ্গে অপ্রতিমের দেখা হয়নি।
একইসঙ্গে তুহিন নামে একজনের কথা বলে এবং জানায়, তুহিন অপ্রতিমের পরিচিত। ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, “ফাহাদ তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। পরে আমাকে জানায়, তুহিন একটি পাম্পে আছে। তার কাছ থেকে তুহিনের নম্বর ও বাসার অবস্থান জানার চেষ্টা করি। ফাহাদ তখনও আমাদের সহযোগিতা করছিল। ” তিনি আরও বলেন, “ফাহাদ তাদের একটি গ্রুপে অপ্রতিমকে পাওয়া যাচ্ছে না—এমন বার্তাও দিয়েছিল।
তখন আমাদের কাছে মনে হয়েছিল, সে অপ্রতিমকে খুঁজে পেতে সহযোগিতা করছে। ” পরদিন ফাহাদের ফোন নেওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমকে দেখা যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে বলে জানান ফিরোজ শাহরিয়ার। তাঁর ভাষ্য, ওই ফুটেজের ব্যক্তিকে ফাহাদ তুহিন হিসেবে শনাক্ত করে। ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, “ফাহাদই ছবির ব্যক্তিকে তুহিন হিসেবে শনাক্ত করে।
এর আগে আমরা তুহিনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছিলাম। তখন সে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা অস্বীকার করেছিল। ” ফাহাদের আটক হওয়ার প্রসঙ্গে অপ্রতিমের বাবা বলেন, “অপ্রতিমের মরদেহ যেখানে পাওয়া গেছে, সেদিকে যাওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেলে তিনজনের সঙ্গে ফাহাদও ছিল বলে জানতে পারি। সেখানে গিয়ে সে অসুস্থ বোধ করছে বলে সরে যায়।
পরে তার নম্বর থেকে তুহিনের নম্বরে ফোন করা হয়েছিল বলে জানতে পারি। ওই ফোনের সূত্র ধরেই ফাহাদকে আটক করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পারি। ” তবে এসব তথ্যের কিছু অংশ তিনি অন্যদের কাছ থেকে শোনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফলে ফোনকল ও ফাহাদের ওই এলাকায় যাওয়ার বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, “আমার সন্তান মারা গেছে।
কিন্তু কোনো নির্দোষ মানুষ যেন আমার সন্তানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আমি চাই, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃতভাবে যারা জড়িত তাদের শনাক্ত করা হোক। ” এদিকে, অপ্রতিম হত্যা মামলায় ফাহাদসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার তদন্তে তাদের ভূমিকা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কলটি ধরেননি।
অপ্রতিমের মরদেহ শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার বিকেল থেকে সে নিখোঁজ ছিল।




















