আজ সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৮ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
৩৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪৫%

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুল ও তার স্ত্রীর ৭ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:31:58 pm, Monday, 21 September 2026
  • 14

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুল ও তার স্ত্রীর ৭ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই শামসুজ্জোহা সরকার রিমান্ডের আবেদন করেন। মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল।

এসব নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই রাতেই গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

একই রাতে মরিয়মের বাবা তাদের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। এজাহারে এস এম মাসুম বিল্লাহ উল্লেখ করেন, গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ে মরিয়মের বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ার কারণে গাজী নজরুল তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ও মরিয়মকে নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় থাকতেন।

মরিয়মের মামা ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় তার মেয়ের সঙ্গে গাজী নজরুলের বিয়ে হয়েছিল বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে। বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন—এমন অভিযোগ করেছেন তার বাবা। বিষয়গুলো মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে বলা হয়েছে।

এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছে তিনি বেশ কয়েকজনকে দেখতে পান। পরে জানতে পারেন, একটি কক্ষে মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছিলেন। পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে কক্ষে ঢুকে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান তার বাবা। এ সময় বিছানার ওপর মরিয়মের লেখা একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদীর অভিযোগ, আসামিদের কথিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্ররোচনার কারণেই মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন। এর আগে গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও জানানো হয়। এর আগে ২১ জুলাই ভিডিও ফাঁসের সন্দেহ এবং অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্লবী থানায় মামলা করেছিলেন মরিয়মের মামা ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান।

ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছিল। পরে ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট আট সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল। এবার মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা নতুন মামলায় আসামি করা হয়েছে ওবায়দুর রহমানকেও।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

এমপি নজরুল ইসলাম ও প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার, দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুল ও তার স্ত্রীর ৭ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

Update Time : 03:31:58 pm, Monday, 21 September 2026

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই শামসুজ্জোহা সরকার রিমান্ডের আবেদন করেন। মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল।

এসব নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই রাতেই গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

একই রাতে মরিয়মের বাবা তাদের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। এজাহারে এস এম মাসুম বিল্লাহ উল্লেখ করেন, গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ে মরিয়মের বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ার কারণে গাজী নজরুল তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ও মরিয়মকে নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় থাকতেন।

মরিয়মের মামা ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় তার মেয়ের সঙ্গে গাজী নজরুলের বিয়ে হয়েছিল বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে। বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন—এমন অভিযোগ করেছেন তার বাবা। বিষয়গুলো মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে বলা হয়েছে।

এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছে তিনি বেশ কয়েকজনকে দেখতে পান। পরে জানতে পারেন, একটি কক্ষে মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছিলেন। পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে কক্ষে ঢুকে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান তার বাবা। এ সময় বিছানার ওপর মরিয়মের লেখা একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদীর অভিযোগ, আসামিদের কথিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্ররোচনার কারণেই মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন। এর আগে গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও জানানো হয়। এর আগে ২১ জুলাই ভিডিও ফাঁসের সন্দেহ এবং অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্লবী থানায় মামলা করেছিলেন মরিয়মের মামা ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান।

ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছিল। পরে ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট আট সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল। এবার মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা নতুন মামলায় আসামি করা হয়েছে ওবায়দুর রহমানকেও।