রাজধানীর ন্যাম ভবনে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় জনতা।
সোমবার সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি থেকে মরিয়মের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনসহ গাজী নজরুল ইসলামের ফাঁসির দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে একটি প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
কর্মসূচিতে আসাদুজ্জামান মিটু, আবুল কালাম মোড়ল, রেজাউল ইসলাম, আসিসুর রহমান, নুরনগরের আবুল ইউসুফসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেন। সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মরিয়ম খাতুনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই বা এটি ধামাচাপা দিতে দেওয়া হবে না। একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই মৃত্যুর আসল সত্য উন্মোচন করতে হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
বক্তারা আরও অভিযোগ তোলেন, নির্বাচনের সময় গাজী নজরুল ইসলাম নানা চটকদার প্রতিশ্রুতি ও ভুল তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের ভোট আদায় করেছিলেন। তবে তার পরবর্তী আচরণ ও কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সাধারণ জনগণ গভীরভাবে ক্ষুব্ধ। বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় গাজী নজরুলের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গাজী নজরুলের প্রতিবেশী ও সাবেক জামায়াত কর্মী শাহজাহান বলেন, “আমি পূর্বে জামায়াতের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম।
জামায়াতের দায়িত্বশীল কিংবা সাধারণ কর্মীদের এখন চোখ খোলার সময় এসেছে। একজন মানুষের চারিত্রিক ও নৈতিক দিকগুলো সবার সামনে আসা উচিত এবং তা নিয়ে সকলের গভীরভাবে ভাবা প্রয়োজন। ” প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেওয়া সংক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হলে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটাতে হবে।
উল্লেখ্য, গত রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়।
ইতোমধ্যে পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে।


















