আজ সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৮ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪৫%

ইয়েমেনে সেনা ও হুথি সংঘর্ষে ৮০ জনের বেশি নিহত

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:59:19 am, Monday, 21 September 2026
  • 15

ইয়েমেনে সেনা ও হুথি সংঘর্ষে ৮০ জনের বেশি নিহত

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ইয়েমেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশের রাজধানী মারিব সিটির আশপাশে সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।

রোববার রাতে সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মিডিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি। তিনি জানান, শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত প্রায় ২৪ ঘণ্টার সংঘর্ষে হুথিদের ৮০ জনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় তাদের নয়টি সামরিক যানও ধ্বংস করা হয়। সংঘর্ষের পর বেশ কয়েকজন হুথি যোদ্ধা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।

আল-হাতেমি জানান, মারিব সিটির কাছে স্থলযুদ্ধ চলার পাশাপাশি পুরো মারিব প্রদেশে ইয়েমেনের বিমান বাহিনী অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে হুথিদের সামরিক স্থাপনা এবং বিভিন্ন স্থানে জড়ো হওয়া তাদের সদস্যদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই সংঘর্ষে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর কতজন সদস্য হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি আল-হাতেমি।

দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও হুথিদের উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় একটি অংশ মারিবে আশ্রয় নিয়েছে। প্রদেশটির বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে ২০ লাখের বেশি মানুষ অবস্থান করছেন। হুথিরা মারিব প্রদেশের অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলেও প্রাদেশিক রাজধানী মারিব সিটির দখল নিতে পারেনি। শহরটি নিয়ন্ত্রণে নিতে অতীতে একাধিক সামরিক অভিযান চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।

এসব সংঘাতে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধা নিহত ও আহত হলেও মারিব শহর দখলের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি তারা। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবং পরের বছর রাজধানী সানাসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন সংঘাত চলে। জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

তবে গত জুলাইয়ের শেষ দিকে আবারও সংঘাত বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে হুথি বাহিনীর সঙ্গে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও সৌদি আরবের তীব্র লড়াই চলছে। এ সংঘাতে নিয়মিত হুথি যোদ্ধাদের হতাহতের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। বার্তাসংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ইয়েমেনের রাজধানী সানা, আমরান ও হোদেইদায় অন্তত ৫০ জন হুথি যোদ্ধা ও কর্মকর্তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আল-হাতেমির দাবি, হুথিরা প্রকাশ্যে যে প্রাণহানির সংখ্যা স্বীকার করে, তা যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির ১০ শতাংশেরও কম। তার হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হচ্ছেন। নিজেদের বাহিনীর মনোবল অটুট রাখতেই হুথিরা প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করছে না বলে দাবি করেন তিনি। আরব নিউজকে আল-হাতেমি বলেন, হুথি নেতৃত্ব তাদের যোদ্ধাদের প্রাণহানিকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

বেতাগীতে ডায়াগনস্টিক কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ

ইয়েমেনে সেনা ও হুথি সংঘর্ষে ৮০ জনের বেশি নিহত

Update Time : 10:59:19 am, Monday, 21 September 2026

ইয়েমেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশের রাজধানী মারিব সিটির আশপাশে সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।

রোববার রাতে সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মিডিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি। তিনি জানান, শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত প্রায় ২৪ ঘণ্টার সংঘর্ষে হুথিদের ৮০ জনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় তাদের নয়টি সামরিক যানও ধ্বংস করা হয়। সংঘর্ষের পর বেশ কয়েকজন হুথি যোদ্ধা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।

আল-হাতেমি জানান, মারিব সিটির কাছে স্থলযুদ্ধ চলার পাশাপাশি পুরো মারিব প্রদেশে ইয়েমেনের বিমান বাহিনী অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে হুথিদের সামরিক স্থাপনা এবং বিভিন্ন স্থানে জড়ো হওয়া তাদের সদস্যদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই সংঘর্ষে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর কতজন সদস্য হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি আল-হাতেমি।

দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও হুথিদের উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় একটি অংশ মারিবে আশ্রয় নিয়েছে। প্রদেশটির বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে ২০ লাখের বেশি মানুষ অবস্থান করছেন। হুথিরা মারিব প্রদেশের অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলেও প্রাদেশিক রাজধানী মারিব সিটির দখল নিতে পারেনি। শহরটি নিয়ন্ত্রণে নিতে অতীতে একাধিক সামরিক অভিযান চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।

এসব সংঘাতে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধা নিহত ও আহত হলেও মারিব শহর দখলের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি তারা। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবং পরের বছর রাজধানী সানাসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন সংঘাত চলে। জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

তবে গত জুলাইয়ের শেষ দিকে আবারও সংঘাত বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে হুথি বাহিনীর সঙ্গে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও সৌদি আরবের তীব্র লড়াই চলছে। এ সংঘাতে নিয়মিত হুথি যোদ্ধাদের হতাহতের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। বার্তাসংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ইয়েমেনের রাজধানী সানা, আমরান ও হোদেইদায় অন্তত ৫০ জন হুথি যোদ্ধা ও কর্মকর্তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আল-হাতেমির দাবি, হুথিরা প্রকাশ্যে যে প্রাণহানির সংখ্যা স্বীকার করে, তা যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির ১০ শতাংশেরও কম। তার হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হচ্ছেন। নিজেদের বাহিনীর মনোবল অটুট রাখতেই হুথিরা প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করছে না বলে দাবি করেন তিনি। আরব নিউজকে আল-হাতেমি বলেন, হুথি নেতৃত্ব তাদের যোদ্ধাদের প্রাণহানিকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।